Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ১৪ জুন ২০২১ ||  জ্যৈষ্ঠ ৩১ ১৪২৮ ||  ০২ জিলক্বদ ১৪৪২

‘বেচা‌কেনা নেই, চাঁদ রাত বোঝা যায়?’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২৩:০০, ১৩ মে ২০২১   আপডেট: ০১:৪৮, ১৪ মে ২০২১
‘বেচা‌কেনা নেই, চাঁদ রাত বোঝা যায়?’

‘পাঞ্জাবি লন ১০০, ১০০, ১০০। মাত্র ১০০। দেইখা লন, বাইচ্যা লইন।’ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের ফুটপাতে তরুণ হকার মোহাম্মদ আইয়্যুব এভাবেই হাঁক-ডাক দিচ্ছেন। কিন্তু ক্রেতা নেই। মাঝে মধ্যে এক-দুজন উঁকি মারলেও কিনছেন একবারেই কম। অনেকেই দেখে-শুনে চলে যাচ্ছেন।

শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা কেমন, জানতে চাইলে বিরক্তির সুরে ফুটপাতের এই হকার বলেন, ‘দেখেন, লোকজন নাই, বেচাকেনাও নেই। আজ চাঁদ রাত কি বোঝা যায়? এরকম চাঁদ রাত আগে আর আসেনি।‘ 

এ সময় তিনি সারাদিনের উপার্জনের টাকা পকেট থেকে বের করে দেখিয়ে বলেন, ‘দেখেন, একটা ১ হাজার টাকার নোট নেই। এই হচ্ছে চাঁদ রাতের বেচাকেনার অবস্থা। করোনার কারণে মানুষের পকেটে টাকা নেই। বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ লকডাউনের কারণে পরিবার নিয়ে আগেভাগেই বাড়ি চলে গেছেন। তাই ঈদের আগের দিন বেচাকেনা কমে গেছে।’

ঈদুল ফিতরের এক দিন আগে বৃহস্পতিবার (১৩ মে) বিকেলে রাজধানী বায়তুল মোকাররমের বিশাল ফুটপাতের শেষ মুহূর্তের বেচাকেনার চিত্র এটি। শুধু খুলনার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আইয়্যুব নন,  এখানকার অধিকাংশ হকারের অবস্থা একই।

লক্ষ্মীপুরের হকার কামাল উদ্দিন ও বাবুল দেবনাথ বলেন, ‘গত ঈদে করোনার কারণে বায়তুল মোকাররমের সামনে আমাদের বসতে দেওয়া হয়নি। এবার সরকার সুযোগ করে দিয়েছে। বেচাকেনার আশায় আমরা পুঁজি বিনিয়োগ করে নতুন মাল উঠিয়েছি, কিন্তু ক্রেতা নেই। অধিকাংশ মালামাল পড়ে আছে। লাভের আশা নেই।’

রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের ফুটপাত ঢাকার মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষদের কেনাকাটার ঠিকানা। ঢাকার দূর দূরান্ত থেকে প্রতিদিন এখানে জিনিসপত্র কিনতে পরিবার নিয়ে ছুটে আসে অনেক মানুষ। বছরের ১২ মাসই এখানে বেচাকেনা হয়। আর ঈদ আসলে কিছু লাভের আশায় হকারদের মনে খুশির বাধভাঙা আনন্দ-উল্লাস দেখা দেয়। ঈদের সময় লাখ লাখ টাকা বেচাকেনা হয়। পাঞ্জাবি, পায়জামা, টুপি-আতর, ব্যাগ, টি-শার্ট, হাতব্যাগ, মানিব্যাগ, ঘড়ি, চশমাসহ দৈনন্দিন ব্যবহারের অনেক জিনিসপত্র এখানে পাওয়া যায়।

মানবিক কারণে সরকার এবার ঈদের আগে লকডাউনের মধ‌্যেও ফুটপাতে হকারদের বসতে দেয়। হকাররাও সেই সুযোগে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দোকানে মালামাল তোলেন। কিন্তু এবার ঈদের টার্গেট পূরণ হয়নি হকারদের। অনেকেই বেচাকনা করতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়েছেন। বেচাকেনা করে লাভ নিয়ে ঈদ করতে চাঁদ রাতে বাড়িতে যাবেন, সে আশায় গুড়েবালি।

ফুটপাতের হকার কামাল উদ্দিন বলেন, ‘ঈদে কীভাবে বাড়ি যামু, বেচাকেনা নেই। পুঁজি তুলতেই ঘাম ঝড়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ হকারের একই অবস্থা।’

করোনার কারণে অভাবে বায়তুল মোকাররমের এই বিশাল ফুটপাতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের এবার দেখা মিলছে না। অনেকেই কর্ম হারিয়ে দিনাতিপাত করছেন। যাদের সামান্য যা আছে তাতেই দুই বেলা খেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ঈদের কেনাকাটা তাদের জন্য যেন আকাশকুসুম কল্পনা। তাছাড়া, যারা ঈদের আগে কেনাকাটা করতে এখানে আসেন তাদের অধিকাংশই এবার লকডাউনের কারণে আগেভাগেই পরিবার পরিজন নিয়ে বাড়িতে চলে গেছেন।

রাত পোহালেই মুসলমানদের বৃহত্তম আনন্দ উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে অজানা আতংকেই এবার সারাদেশে উদযাপিত হতে যাচ্ছে এই ধর্মীয় উৎসব।

নঈমুদ্দীন/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়