Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ১৭ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ১ ১৪২৮ ||  ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

‘১০ বছরে ৯ লাখ কোটি টাকা বিদেশে চলে গেছে’

সংসদ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৩৩, ৭ জুন ২০২১  
‘১০ বছরে ৯ লাখ কোটি টাকা বিদেশে চলে গেছে’

সংসদ অধিবেশনে রুমিন ফারহানা (ফাইল ফটো)

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস‌্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘গ্লোবাল ফাইন্যান্স ইন্টিগ্রিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে গড়ে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার যাচ্ছে। গত ১০ বছরে সাড়ে ৮ থেকে ৯ লাখ কোটি টাকা বিদেশে চলে গেছে।’  

সোমবার (৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আনিত মঞ্জুরি দাবি সম্পর্কিত ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। 

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালে মন্দ ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫৫ হাজার কোটি টাকা। ২০২০ সালে সেটা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। ২০২১ সালে এসে শুনলাম, ৮৮ হাজার কোটি টাকা মাত্র। আসলে ব্যাংকে মন্দ ঋণের পরিমাণ কত?’

তিনি আরও বলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী (আবুল মাল আবদুল মুহিত) স্পষ্ট কথা বলতেন, দলের বিরুদ্ধে গেলেও বলতেন। তিনি বলেছিলেন, ব্যাংক দেওয়া হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়। একটা দেশে যখন রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক দেওয়া হয়, তখন সেই দেশের অর্থনীতির কাজ সম্পর্কে বলতে নিশ্চয়ই চিন্তা করতে হয়। যারা ব্যাংকের টাকা লুট করে তাদের সুবিধা দেওয়ার জন্য একটার পর একটা নতুন আইন হয়। ব্যাংক কোম্পানি আইন পরিবর্তন করে একেকটা ব্যাংক একেকটা পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন এক পরিবার থেকে তিনজন সদস্য থাকতে পারবেন ব্যাংকের পরিচালক পদে, তিন মেয়াদে থাকতে পারবেন তারা। জনগণের টাকার হরিলুট হচ্ছে।’

বিএনপি দলীয় এই সংসদ সদস‌্য বলেন, ‘সংসদে ঋণখেলাপির তালিকা একবার প্রকাশ করা হলো। তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, সেটা এখনও জানতে পারলাম না। ব্যাংকে যে টাকা থাকে, সেটা আমজনতার টাকা। এক ব্যাংকের পরিচালকের সঙ্গে আরেক ব্যাংকের পরিচালকের ভালো সম্পর্ক থাকায় এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকে ঋণ নেয়। ঋণ নেওয়ার সময় তারা জানে, এই ঋণ তারা আর পরিশোধ করবে না। এই টাকা চলে যায় বিদেশে।’

তিনি বলেন, ‘যখনই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে, তখনই শেয়ারবাজার শুয়ে পড়ে। এটা যে কি একটা অদ্ভূত সম্পর্ক!  বাস্তবিক অর্থে বাংলাদেশের অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্নীতিগ্রস্ত। দুর্নীতি যদি কমাতে না পারেন, তাহলে ভয়ানক অবস্থা হবে।’

ঢাকা/আসাদ/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়