Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||  আশ্বিন ৩ ১৪২৮ ||  ০৯ সফর ১৪৪৩

ব‌্যস্ততা নেই কামার পাড়ায়, ভেঙে গেছে স্বপ্ন 

নাজমুল ইসলাম ফারুক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৩৯, ১০ জুলাই ২০২১  
ব‌্যস্ততা নেই কামার পাড়ায়, ভেঙে গেছে স্বপ্ন 

ঈদকে কেন্দ্র করে সারা বছরের ব্যবসার পরিকল্পনা ও স্বপ্ন দেখেন কামাররা। ঈদের আর ১০ দিন বাকী। কিন্তু কঠোর লক ডাউনের বিধি নিষেধের কারণে এবারের ঈদে রাজধানীর কামারদের ব্যবসা ও স্বপ্ন ভেস্তে গেছে। 

রাজধানীর শনিরআখড়া, যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা ও সায়েদাবাদ এলাকার কামারদের সঙ্গে আলাপকালে এ চিত্র উঠে এসেছে।

জুয়েল কর্মকার প্রায় ৫ বছর আগে রাজধানীর শনিরআখড়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ঝুপড়ি ঘরের মতো করে দোকান দিয়েছেন। এখানেই তিনি দা, বটি, ছুরি তৈরি করেন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চার জন কর্মচারী। তিনি ঈদকে সামনে রেখে দা, বটি, ছুরি তৈরির কাঁচামাল হিসেবে লোহা, কয়লা, ইস্পাতের টুকরা ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি মিলিয়ে দুই থেকে তিন লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারের কঠোর লকডাউনের ফলে গত ১ জুলাই থেকে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় কর্মচারীরা দোকানে আসেন না। 

একই এলাকায় গত তিন বছর ধরে দা-বটির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সুনিল কর্মকারের। তিনি ঈদের আগে প্রায় দুই লাখ টাকার কাঁচামাল কেনেন। কিন্তু লকডাউনের কারণে দা, বটি, ছুরিসহ কুরবানীকে কেন্দ্র করে পণ‌্য তৈরি করতে পারছেন না। 

শুধু জুয়েল কর্মকার ও সুনিল কর্মকার নয়, শনিরআখড়া এলাকায় কামারদের ১০ থেকে ১২টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। লকডাউনের শুরু থেকে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ। 

পোস্তাগোলা, যাত্রাবাড়ীর বিবির বাগিচা, সায়েদাবাদ রেললাইনের পাশেও কামারদের কোনো প্রতিষ্ঠান খোলা নেই। লকডাউনের কারণে ঈদকে কেন্দ্র করে তারা ব্যবসার যে স্বপ্ন দেখেছিল, তা ভেস্তে গেছে।  

শনির আখড়ার জুয়েল কর্মকার রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘সারা বছর আমাদের তেমন বেচা-বিক্রি হয় না। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে আমাদের পুরো বছরের ব্যবসা। বর্তমানে লকডাউনে আমাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে তিন-চার জন করে কর্মচারী আছে। লকডাউনে শিল্প কারখানা খোলা কিন্তু আমাদের ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। আমরা কী করে বাঁচব? এই কর্মচারীদের ঈদ হবে কী করে?’

কুরবানীর ঈদের আগে বড় ধরনের প্রস্তুতি নেন কর্মকার শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব‌্যবসায়ীরা। দা, বটি, ছুটি, চাকুসহ অন্যান্য জিনিসপত্র কুরবানির আগেই সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে। এ কারণে কুরবানির আগে বড় ধরনের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি থাকে কামারদের। একই সঙ্গে ভালো ব্যবসা হবে বলে স্বপ্ন থাকে তাদের। 

এবারের লকডাউনের আগে অধিকাংশ কামাররাই দা, বটি, ছুটি, চাকু তৈরির কাঁচামালে বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু লকডাউনের কঠোর বিধি নিষেধের কারণে তারা পণ‌্য উৎপাদন করতে পারছে না। লকডাউনে শিল্প কারখানা খোলা থাকলেও কামারদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। ক্ষুদ্র হলেও এটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই পড়ে। কামারদের দাবি, ঈদের আগে তাদের প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হোক। 

সায়েদাবাদ-গেন্ডারিয়া রেললাইনের পাশে গড়ে উঠেছে কামারদের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। কামার সাধন দাশের প্রতিষ্ঠানও ওই এলাকায়। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘ঈদের আগে আমাদের কাজের অনেক অর্ডার আছে। কিন্তু কাজ করতে পারছি না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলে গেছে আমরা যাতে লকডাউনে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখি। ঈদের আরমাত্র ১০ দিন বাকি। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং বলেছি, আমরা তো ক্ষুদ্র শিল্প, আমরা যদি এই সময় দা, বটি, ছুরি না তৈরি করতে পারি— তাহলে তো কুরবানির সময় এসব জিনিসের সংকট পড়বে। আমাদেরকেও বাঁচতে দিন, কুরবানিও সুন্দর মতো হোক। প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে। অনুমতি পেলে আজকালের মধ্যে আমরা কাজ শুরু করতে পারব।’

ঢাকা/এনএফ/সনি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়