Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৮ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ১২ ১৪২৮ ||  ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

Risingbd Online Bangla News Portal

চীন থেকে ৬ কোটি ডোজ টিকা কেনার অনুমোদন

কেএমএ হাসনাত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৫৬, ১১ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ১৮:৫৮, ১১ আগস্ট ২০২১
চীন থেকে ৬ কোটি ডোজ টিকা কেনার অনুমোদন

চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মা থেকে ৬ কোটি ডোজ সিনোফার্ম ভ্যাকসিন কেনার একটি ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। চীনের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির আলোকে এই টিকা সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বুধবার (১১ আগস্ট) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এক ভার্চুয়াল সভায় ভ্যাকসিন কেনার প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভা শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা সিনোফার্ম থেকে ৬০ মিলিয়ন (৬ কোটি) ডোজ টিকা ক্রয়ের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছি। হিসাব করে দেখেছি দেশের ১৩ কোটি ৮২ লাখ জনগোষ্ঠীকে ভ্যাকসিনেটেড করতে হবে।  এজন্য ২৭ কোটি ৬৫ লাখ টিকা কেনা প্রয়োজন।  এর মধ্যে ২ কোটি ৫৫ লাখ আমাদের হাতে আছে।  বাকিটা সংগ্রহ করতে হবে। আজ আমরা ৬ কোটি ডোজ কেনার জন্য অনুমোদন দিয়েছি।  বাকিটা পর্যায়ক্রমে আনবো।

টিকার দাম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দাম বলব না।  আগের নির্ধারিত যে দাম আছে তার চেয়ে বাড়েনি।

সবমিলিয়ে যে ২৭ কোটি ডোজ টিকা লাগবে তার জন্য সরকারের কত টাকা লাগতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ প্রাইসটি আমাদের কাছে নেই।  কারণ বাকিগুলো এখনও নেগোসিয়েশন চলছে।  প্রাইস ফাইনালাইজড হলে আমরা বলতে পারবো। প্রাইস এখনও ফাইনালাইজড হয়নি, সেজন্য আমরা বলতে পারছি না।

এদিকে, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও কোভিড-১৯ সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার কোভিড মহামারি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভ্যাকসিন কেনার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে চীনের সিনোফার্মসহ অন্য যেকোনো কার্যকর ভ্যাকসিন কেনার বিষয়টি গত ২৮ এপ্রিল অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, কোভিড-১৯ রোগের সংক্রমণ ও বিস্তার এবং জনগণকে কোভিড প্রতিরোধী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য গত ১৯ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের মধ্যে চুক্তিপত্রে উল্লেখিত একক মূল্যে দেড় কোটি ডোজ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন (ভেরো সেল), ইনঅ্যাকটিভেটেড বা সিনোফার্ম ভ্যাকসিন কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহের পর সিনোফার্ম কর্তৃপক্ষ ১০ লাখ ৩০ হাজার ডোজ এবং অতিরিক্ত ২০ লাখ ডোজ, মোট ১০ লাখ ৫০ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন হ্রাসকৃত একক দামে সরবরাহের প্রস্তাব করলে তা গ্রহণ করে একটি সাপ্লিমেন্ট চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। এই কেনার বিষয়টি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গত ১৫ জুলাই তারিখের সভায় অনুমোদিত হয়। 

উল্লেখ্য, সিনোফার্মের সঙ্গে এ পর্যন্ত এক কোটি ৭০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী কোভিডের বিরুদ্ধে গোষ্ঠী অনাক্রম্যতা বা হার্ড ইম্যুনিটি গড়ে তুলতে হলে মোট জনসংখ্যার শতকরা ৮০ ভাগকে ভ্যাকসিন দিতে হবে। সে অনুযায়ী দেশের ১৩ কোটি ৮২ লাখ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য কমপক্ষে ২৭ কোটি ৬৪ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে হবে। এই চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত ক্রয় এবং বিদেশ থেকে পাওয়া উপহার ও অনুদান মিলিয়ে প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হয়েছে। 

ভ্যাকসিনের চাহিদা পূরণের জন্য আরও বেশি পরিমাণ ভ্যাকসিন সংগ্রহ করার বিশ্বের বিভিন্ন ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখা যায় সিনোফার্ম বাংলাদেশের চাহিদামত ভ্যাকসিন সরবারহ করতে সক্ষম। এরই ধারাবাহিকতায় সিনোফার্ম ৬ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহের প্রস্তাব সম্বলিত একটি খসড়া চুক্তিপত্র পাঠায়। ওই প্রস্তাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং চুক্তিপত্রে উল্লেখিত একক দরে ৬ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন কেনার সুপারিশ করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, নতুন ক্রয় চুক্তির শর্তাবলি এবং আগে স্বাক্ষরিত ক্রয় চুক্তির শর্তাবলি হুবহু একই আছে। ভ্যাকসিনের পরিমাণ ছাড়া দুটি চুক্তিপত্রের মধ্যে আর কোনো ভিন্ন নেই।

সূত্র জানায়, চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) সিনোফার্ম ভ্যাকসিন কেনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নতুন ক্রয় প্রস্তাবে জড়িত অর্থের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকার বেশি হওয়ায় এক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল।

হাসনাত/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়