ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২ ||  ভাদ্র ১ ১৪২৯ ||  ১৭ মহরম ১৪৪৪

দাবি আদায়ে অনড় শিক্ষার্থীরা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৪৮, ১ ডিসেম্বর ২০২১  
দাবি আদায়ে অনড় শিক্ষার্থীরা

রামপুরা ব্রিজ এলাকায় অন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

গণপরিবহণে হাফ ভাড়া, নিহত শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর বিচার, নিরাপদ সড়ক ভ্রমণ ও সড়কে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ ৯ দফা দাবির প্রেক্ষিতে টানা ১৩ দিন সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) থেকে বাসে অর্ধেক ভাড়ার দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পরিবহন মালিক সমিতি। 

কিন্তু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বলছেন, নিরাপদ সড়কের জন্য তাঁদের ৯ দফার মধ্যে একটি দাবি হচ্ছে অর্ধেক ভাড়া কার্যকর করা। বাকি দাবিগুলো না মানা পর্যন্ত তাঁরা রাজপথ ছাড়বেন না। আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

বুধবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে রামপুরা ব্রিজ অবরোধ করে আবারো বিক্ষোভ শুরু করেন বাস চাপায় নিহত শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন ইসলামের (দুর্জয়) একরামুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহপাঠীরা। এ সময় বিক্ষোভে একাত্বতা জানিয়ে যোগ দেয় বিএএফ শাহীন কলেজ, ইম্পেরিয়াল কলেজ, আলাতুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ক্যামব্রিজ কলেজ, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক’শ ছাত্র-ছাত্রী।

তবে দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন। 

রামপুরায় বিক্ষোভরক কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, নিরাপদ সড়কের জন্য ৯ দফা দাবির একটি দাবি হচ্ছে অর্ধেক ভাড়া কার্যকর করা। বাকি দাবিগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বাকি দাবিগুলো মেনে প্রজ্ঞাপন জারি না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তাছাড়া দ্রুত বিচার আইনে নটর ডেম ও একরামুন্নেছার শিক্ষার্থীর হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে থাকবেন বলেও জানান।

এ সময় শিক্ষার্থীদের `আমার ভাই কবরে, খুনি কেনো বাহিরে`,`উই ওয়ান্ট জাস্টিজ, `আশ্বাস আর না, বাস্তবায়ন কর`, `নিরাপদ সড়ক চাই` বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

রামপুরা, গুলশান লিংক রোডসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় মঙ্গলবারের মত সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালকের লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজপত্র ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করে দেখেন শিক্ষার্থীরা। কাগজপত্র ঠিকঠাক না থাকায় শিক্ষার্থীরা বেশ কিছু যানবাহন আটকে রাখেন। 

রামপুরা ও গুলশান লিংক রোড এলাকায় লাইসেন্স না থাকায় শিক্ষার্থীদের আটকে দেওয়া কয়েকটি বাসের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। কাগজ ও লাইসেন্স না থাকায় বিআরটিসির একটি দোতলা বাস রাস্তায় রেখে পালিয়ে যান চালক ও তাঁর সহকারী।

গুলশান কমার্স কলেজের ছাত্র আশিক বলেন, `আমাদের ৯ দফার একটি হাফ ভাড়া। বাকি আরও ৮টি দাবির ব্যপারে সরকার কোনো বক্তব্য দেয়নি। পরিবহন মালিক সমিতি অর্ধেক ভাড়ার যে ঘোষণা দিয়েছে, সেটা কেবল রাজধানীর জন্য। আমরা এটা সারা দেশের ছাত্রদের জন্য কার্যকর করার দাবিও জানাচ্ছি।`

একই কলেজের ছাত্র সালমান ও রমিজ বলেন, আমরা উত্তরা থেকে এসেছি, বাসে হাফ ভাড়া দিয়েছি। কিন্তু আমাদের অন্য দাবিগুলো পূরণ হচ্ছে না কেন? দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

বাসে হাফ ভাড়া নিয়ে কোনো কথা কাটাকাটি হয়নি বলে জানালেন সিটি কলেজের দুই ছাত্র মিঠু ও ইয়ামীন। তারা ট্রান্সসিলভা বাসে করে টেকনিক্যাল থেকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এসেছেন বলেও জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গুলশান জোনের এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে হলে সমস্যার গোড়ায় যেতে হবে। শিক্ষার্থীরদর দু-একটি দাবি মানলে হয়তো আপাতত আন্দোলন ঠান্ডা করা গেলেও সমস্যা কিন্তু থেকেই যাবে। রাজধানীর গণপরিবহনের দায়িত্ব বেসরকারি খাতের বদলে সরকারকেই নিতে হবে। তাহলে হয়তো পরিবহন খাতকে শৃঙ্খলায় আনা যাবে।

গত ১৮ নভেম্বর থেকে বাসে অর্ধেক ভাড়ার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে ২৪ নভেম্বর গুলিস্তানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গাড়িচাপায় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের মৃত্যুর পর তা রূপ নেয় নিরাপদ সড়কের ৯ দফা দাবির আন্দোলনে। 

গত সোমবার (২৯ নভেম্বর) রাতে রামপুরায় অনাবিল বাসের চাপায় মারা যায় রাসপুরা একরামুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী মাইনুদ্দিন ইসলাম। ওই ছাত্রের নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ওই রাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ৮টি বাসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।

মেসবাহ/ মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়