ঢাকা     বুধবার   ১৯ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ৬ ১৪২৮ ||  ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

গুলি ছাড়াই শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কূটনৈতিক প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:২৪, ১ ডিসেম্বর ২০২১  
গুলি ছাড়াই শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তিতে বিশ্বাসী। সে কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমস্যা আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করেছি।  আমরা কোনো গুলি ছাড়াই শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছি।

বুধবার (১ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘বিশ্ব শান্তি সম্মেলন ২০২১’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের অংশ হিসেবে ঢাকায় দুই দিনব্যাপী ‘বিশ্ব শান্তি সম্মেলন ২০২১’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে আগামী ৪ ডিসেম্বর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ সম্মেলন শুরু হবে।

‘ঢাকা শান্তি ঘোষণা’ শীর্ষক একটি সর্বসম্মত ঘোষণার মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটবে।

মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ফিলিস্তিনের নিপীড়িত জনতার অধিকার আদায়ের পাশাপাশি বিশ্বে সাম্য ও মানবাধিকারের  দীপশিখা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু ‘জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন’ এর মাধ্যমেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।  জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ভাষণে গণহত্যা ও নৃশংসতা বন্ধে জাতিসংঘের অপরিহার্য ভূমিকার পাশাপাশি মানব সভ্যতার উত্তরণের লক্ষ্যে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমূহ থেকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতা থেকে মুক্তির অনিবার্য প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দেন।  ১৯৭৩ সালে বিশ্ব শান্তি পরিষদ বঙ্গবন্ধুকে ‘জুলিও কুরি শান্তি পদক’ এ ভূষিত করার সময় তাকে ‘শান্তির প্রতীক’ ঘোষণা করে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও শান্তি নিয়ে কাজ করছেন। জাতিসংঘে শান্তির সংস্কৃতির যে রেজুলেশন এটি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর চিন্তা থেকে এসেছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ।  সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  সম্মেলন শেষে ‘ঢাকা শান্তি ঘোষণা’ গৃহীত হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কবি, সাহিত্যিক, নোবেল বিজয়ী, শিক্ষাবিদ, মানবাধিকারকর্মী, চলচ্চিত্রকার, থিংক ট্যাংক ও সাবেক রাজনীতিকদের সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে শান্তি রক্ষায় কাজ করা।

সশরীরে ও ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠেয় এ সম্মেলনে শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।  আশা করা হচ্ছে, ৬০ থেকে ৬৫ জনের মতো আমন্ত্রিত অতিথি ঢাকায় সশরীরে এ সম্মেলনে যোগ দেবেন।  ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন ৩৪ জনের মতো অতিথি।

ভার্চুয়াল ও সশরীরে আয়োজিত সম্মেলনে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন, সিঙ্গাপুরের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গোহ চক তংসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা যোগ দেবেন।

শতাধিক আমন্ত্রিত অতিথির জন্য চারটি প্যানেল ডিসকাশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সম্মেলনের শুরুর দিন দুটি এবং সমাপনী দিনে দুটি প্যানেল ডিসকাশন অনুষ্ঠিত হবে। এসব প্যানেল ডিসকাশনে শ্রীলঙ্কান ইউনিভার্সিটি অব কলম্বোর ভিসি অধ্যাপক চান্দ্রিকা এন ওয়াজেয়ারত্নে, ভারতের চলচ্চিত্রকার গৌতম ঘোষ, ভারতের সাবেক মন্ত্রী সুরেশ প্রভুসহ অনেকে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন।

সম্মেলনস্থল হিসেবে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল, হোটেল সোনারগাঁ ও ফরেন সার্ভিস একাডেমি, সুগন্ধাকে নির্বাচন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সম্মেলনের উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে এবং প্যানেল আলোচনা ফরেন সার্ভিস একাডেমি, সুগন্ধায় অনুষ্ঠিত হবে।

হাসান/এসবি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়