ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||  আশ্বিন ১৪ ১৪২৯ ||  ০২ রবিউল আউয়াল ১৪১৪

বর্ডার দিয়ে মশা প্রবেশ আটকানো তো অসম্ভব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতি‌বেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৩৯, ১০ আগস্ট ২০২২  
বর্ডার দিয়ে মশা প্রবেশ আটকানো তো অসম্ভব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে ম্যালেরিয়াসহ সংক্রামক রোগগুলো নির্মূল করা সম্ভব জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, শুধুমাত্র দেশে ব্যবস্থা নিলে হবে না। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সেসব দেশেও যাতে ম্যালেরিয়া সংক্রমণ বন্ধ হয়ে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের দেশে নির্মূল হলেও বর্ডার দিয়ে মশা প্রবেশ তো আর আমরা আটকা‌তে পার‌ব না।

বুধবার (১০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর এক‌টি হোটেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচি কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে আমাদের অনেক সফলতা র‌য়েছে। ইতোমধ্যে দেশকে পোলিও, কালাজ্বর, যক্ষ্মামুক্ত করা সম্ভব হ‌লেও ম্যালেরিয়া নির্মূল সম্ভব হয়নি। ম‌নে রাখ‌তে হ‌বে, এটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একক চেষ্টায় সম্ভবও নয়। সবার সহ‌যো‌গিতা পে‌লেই কেবল অন্য রো‌গের ম‌তো ম্যা‌লে‌রিয়াও দূর করা সম্ভব হ‌বে।

মন্ত্রী বলেন, গত বছর দেশে তুলনামূলক ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুহার বেড়েছে। মৃত্যু বাড়ার কারণ, ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা দেরী ক‌রে চিকিৎসা নিয়েছেন। করোনায় লকডাউন ছিল, আশঙ্কা করেছিলাম মানুষ হাসপাতালে আসতে পারবে না। যে কারণে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যাবে। ঠিক তাই হয়েছে। কিন্তু এখন আমরা চাই না, ম্যালেরিয়ায় আবারও মৃত্যু বৃদ্ধি পাক। সে কার‌ণে সবাই মিলে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে ম্যালেরিয়া মুক্ত করা। ২০১৪ সালে ম্যালেরিয়া সংক্রমণ ছিল ৫৭ হাজারের বেশি। বর্তমানে স‌র্বোচ্চ সংক্রমণ হয় ৬-৭ হাজার। সবাই মি‌লে সঠিকভাবে কাজ করলে ২০৩০ এর আগেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারব ব‌লে বিশ্বাস ক‌রি।

যেসব এলাকায় ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব বেশি, সেগুলোকে বে‌শি ক‌রে ফোকাস করতে হবে। যারা চা বাগান, আর্মিতে কাজ করেন; তাদের বে‌শি ক‌রে প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। কীভাবে তারা ম্যালেরিয়ামুক্ত থাকতে পারবেন সেগুলো বুঝাতে, শেখা‌তে হ‌বে। এসব ক্ষে‌ত্রে সবাইকে আরও সচেতন হ‌তে হ‌বে ব‌লেও জানান জাহিদ মালেক।

মন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্যখাতে এখন আমাদের বাজেট অনেক বেড়েছে। এবছর ৩৭ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। ডাক্তার-নার্সের সংখ্যা বেড়েছে। গত তিন বছরে ১৫ হাজার নতুন চিকিৎসক নেওয়া হয়েছে। আমাদের জনবল-অবকাঠামো পর্যাপ্ত হয়েছে। এখন আমাদের কোয়ালিটি বাড়াতে হবে। ‌সেজন্য আমরা মনিটরিংয়ে জোর দিচ্ছি।

তারপরও আরও জনবল প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের এখনও জনবলের ঘাটতি রয়েছে। এখন স্বাস্থ্যখাতে আমাদের দেড় লাখ লোক কাজ করছেন। স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে আমরা নতুন অর্গানোগ্রাম তৈরি করছি। সেটি বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের আরও দেড় লাখ লোকবল লাগবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডব্লিউএইচও বাংলাদেশ প্রতিনি‌ধি ড. বার্দান জাং রানা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম প্রমুখ।

মেয়া/এনএইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়