ঢাকা     শুক্রবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৯ ||  ০৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

সরকারি শিল্প কারখানা যেন উৎপাদনশীলতার মডেল হয়: কৃষিমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:০৮, ২ অক্টোবর ২০২২  
সরকারি শিল্প কারখানা যেন উৎপাদনশীলতার মডেল হয়: কৃষিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, দেশের সরকারি শিল্প কারখানাগুলোর উৎপাদনশীলতা খুব সীমিত। বেশ পুরনো। কিন্তু এসব কারখানা এমন হওয়া দরকার যেন সেগুলো নিজ নিজ খাতে উৎপাদনশীলতার মডেল হয়ে ওঠে। সেটি না হয়ে যদি  উল্টো কম উৎপাদনশীলতার বা খারাপের মডেল হয়ে উঠে, তাহলে তা খুব দুঃখজনক। সেজন্য সরকারি শিল্প কারখানাগুলোকে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার মধ্যে দিয়ে পরিচালনা করতে হবে।

রোববার (২ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা ও এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন এনপিও’র মহাপরিচালক মেসবাহুল আলম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এটুআই’র হেড অব টেকনোলজি ফারুক আহমেদ জুয়েল। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

উৎপাদনশীলতা বাড়াতে না পারলে শিল্প কারখানা লাভজনক হবে না উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, একটি সমন্বিত স্টাডি করে দেখা দরকার সরকারি শিল্পকারখানার কোনটির উৎপাদনশীলতা ভালো, কোনটির কম। জাতির সামনে সে স্টাডি তুলে ধরতে হবে। একইসঙ্গে, বেসরকারি শিল্প কারখানাগুলোর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতেও জোর দিতে হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষিতে আগে উৎপাদনশীলতা অনেক কম ছিল। উন্নত জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা এখন অনেক বেড়েছে। আগে এক বিঘা জমিতে ৪ থেকে ৫ মণ ধান হতো, এখন সেটা ১৭ থেকে ১৮ মণ হয়েছে। এই উৎপাদনশীলতা বাড়ার ফলেই প্রায় ১৭ কোটি মানুষের খাবার জোগান সম্ভব হচ্ছে। তবে উৎপাদনশীলতা আরও বাড়ানো সম্ভব। আমাদের বিজ্ঞানীরা এমন জাত যেমন ব্রি ধান ৮৯, ৯২ উদ্ভাবন করেছে যার ফলন প্রতি বিঘায় ৩০ মণের বেশি। এগুলো সম্প্রসারণের চেষ্টা চলছে।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের গাভীগুলো আগে ৫ লিটার দুধ দিতো। এখন উন্নত জাতের কারণে ২৮-৩০ লিটার দুধও দিচ্ছে। কিন্তু ইউরোপে আরও ভালো জাত ও লালনপালনের প্রযুক্তি রয়েছে। সেখানে ৬০ লিটারও দুধ দেয়। সেগুলো আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে।

উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা,  রোবোটিকস,  জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি এসেছে। কিন্তু উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে আমরা সে সুবিধাগুলো কতোটা কাজে লাগাতে পারছি, সেটা মূল্যায়নের সময় এসেছে। এসডিজিতে আমাদের উৎপাদনশীলতার টার্গেট দ্বিগুণ করার কথা। সেটা একটা খুব বড় চ্যালেঞ্জ। সেটা মাথায় নিয়ে কাজ করতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে সেটা অর্জন করতে হবে।

তিনি বলেন, আবার প্রযুক্তি ব্যবহারে আমাদের দুর্বলতা রয়েছে। অনেক চাষি ধান উৎপাদনে সার, কীটনাশক ও সেচের প্রয়োজনীয়তা ঠিক রাখতে পারছে না। কেউ বেশি দিচ্ছে, আবার কেউ কম। এতে একদিকে খরচও বাড়ছে, অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন হচ্ছে না। সেজন্য এসব উপকরণের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাত্রা শিখতে হবে এবং সর্বোচ্চ উৎপাদন করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম সেরা অবস্থানে রয়েছে। সামগ্রিক অর্থনীতিতে শিল্পের অবদান এখন ৩৭ শতাংশ। যা ক্রমবর্ধমান উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সম্ভব হয়েছে।

আসাদ/এনএইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়