ঢাকা     সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৭ ১৪২৯

চার লেনে উন্নীত হচ্ছে ঢাকা-সিলেট করিডোর

কেএমএ হাসনাত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৫৬, ২৮ নভেম্বর ২০২২  
চার লেনে উন্নীত হচ্ছে ঢাকা-সিলেট করিডোর

ছবি: সংগৃহীত

পরিধি বাড়ছে সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের। প্রকল্পের আওতায় বুধান্তি বাসস্ট্যান্ড থেকে এসএম স্পিনিং মিল পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। রাস্তার উভয়পাশে সার্ভিস লেনসহ প্রায় ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি চার লেনে উন্নীত করতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ কাজটি করবে যৌথভাবে চায়না শেনডং ইন্টারন্যাশনাল ইকনোমিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কো-অপারেশন গ্রুপ লিমিটেড ও শেনডং লুকিয়াও গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড।

ঢাকা (কাঁচপুর-সিলেট মহাসড়কটি এশিয়ান হাইওয়ে, বিমসটেক করিডোর এবং সার্ক হাইওয়ে করিডোর এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ বিশেষ করে ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান এবং চীনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশ কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সড়কটি উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও  বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও বন্দও নগরী চট্টগ্রামসহ অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান করিডোর হওয়ায় ৬-লেনে উন্নীত করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটি উভয়পাশে পৃথক সার্ভিস লেনসহ ৪ লেনে উন্নীত করা হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার এবং বিভাগীয় শহর সিলেটসহ বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সড়াসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং এলাকার আর্থ-সামজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে।

সূত্র জানায়, ঢাকা-(কাঁচপুর) থেকে সিলেটের পীর হাবিবুর রহমান চত্বর পর্যন্ত সড়কের দূরত্ব ২২৪.২২৮ কিলোমিটার। তবে ১১-৫৬ কিলোমিটার সড়ক (ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থেকে বিশ্ব রোড পর্যন্ত) ‘আশুগঞ্জ (নদীবন্দর)-সরাইল-দরখারা-আখাউড়া (স্থলবন্দর) সড়ক ৪-লেনে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং ২.৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ভৈরব ব্রিজ ৪ লোন বিশিষ্ট হওয়ায় তা এই প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে এই প্রকল্পের আওতায় সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ২০৯.৩২৮ কিলোমিটার। এ প্রকল্পের আওতায় ২০১.৮১২ কিলোমিটার মহাসড়ক ১৩টি  (মোট ৭৭৮০.১৯ মিটার) ওভারপাস/রেলওয়ে ওভারপাস, ৬৬টি (মোট ৬০২০ মিটার) সেতু, ৩০৫টি (মোট ১৪৮৯.১৫ মিটার) কালভার্ট, সার্ভিস লেনে ১৭,৫৯ কিলেমিটার রিজিড পেভমেন্ট, একটি ইন্টারচেঞ্চার এবং পথচারী পারাপারের জন্য ২৬টি  মোট ১২৭১,৪০ মিটার) ওভারপাস নির্মাণ করা হবে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উল্লেখিত পূর্ত কাজটি মূল প্রকল্পের প্যাকেজ নং ডপ্লিউপি-০৩-এর লট-ডিএস-০৬-এর আওতাধীন। এটি দুটি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশে রয়েছে ঢাকা-সিলেট জাতীয় মহাসড়কের বুধান্তি বাস স্ট্যান্ড থেকে এসএম স্পিনিং মিল পর্যন্ত সড়ক উভয়পাশে সার্ভিস লেনসহ চার লেনে উন্নীতকরণ। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯৭০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। দ্বিতীয় অংশে রয়েছে-নির্মিতব্য সড়কটি ছয় বছর রক্ষণাবেক্ষণ। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১১৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। প্রকল্প শেষে একই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দ্বিতীয় অংশ বাস্তবায়িত হবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে-নির্মিতব্য মহাসড়ক ও তদসংশ্লিষ্ট অবকাঠামোসমূহের ছয় বছর সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা করা। এর ফলে সড়ক নির্মাণ ও পরবর্তী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান পরিপূর্ণ কাজ বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকবে বলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ মনে করছে।

সূত্র জানায়, সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্যাকেজ নং ডপ্লিউপি-০৩-এর লট-ডিএস-০৬ বাস্তবায়নে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান  করা হলে ৭টি দরপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে কারিগরি মূল্যায়নে ৫টি কোম্পানির দরপত্র রেসপনসিভ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং ২টি নন-রেসপনসিভ হয়। রেসপনসিভ দরদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে যৌথভাবে চায়না শেনডং ইন্টারন্যাশনাল ইকনোমিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কো-অপারেশন গ্রুপ লিমিটেড ও শেনডং লুকিয়াও গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড-এর নাম সুপারিশ করা হয়েছে। কারিগরি মূল্যায়নে রেসপনসিভ অপর চারটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন, যৌথভাবে হেগো-মীর আখতার, যৌথভাবে এসআরবিজি-এমআইএল, যৌথভাবে সিজিজিসি-এনডিই।

সূত্র জানায়, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পরবর্তী সভায় এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে 

/হাসনাত/সাইফ/

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়