Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ০৯ মে ২০২১ ||  বৈশাখ ২৬ ১৪২৮ ||  ২৬ রমজান ১৪৪২

ঢাকা হয়ে ওঠে পতাকার নগরী

শাহ মতিন টিপু || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৩৭, ২৩ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১১:৫২, ২৫ মার্চ ২০২১
ঢাকা হয়ে ওঠে পতাকার নগরী

২৩ মার্চ ৭১, ধানমন্ডিতে উৎফুল্ল জনতার মাঝে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধু

একাত্তরের ২৩ মার্চ ছিল লাগাতার চলা অসহযোগ আন্দোলনের ২২তম দিন। ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন ছিল এইদিনের সবচেয়ে বড় চমক। রাজধানী ঢাকা পরিণত হয়েছিল পতাকার নগরীতে।

এদিন সকালে আওয়ামী লীগ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর সদস্যদের সামরিক কায়দায় অভিবাদনের মধ্য দিয়ে ৩২ নম্বর ধানমন্ডিতে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ সময় ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’ উদ্দীপক গানটি সমবেত কন্ঠে পরিবেশিত হয়।

শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে একেকটি মিছিল এসে মিশে যাচ্ছিল আরও অনেক মিছিলের সঙ্গে।  ঢাকা শহর এদিন মিছিলের নগরীতে রূপ নেয়। স্বাধীন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ একাত্তরের ২৩ মার্চ ‘প্রতিরোধ দিবস’ পালন করে।

সাধারণ ছুটি থাকায় ঢাকা শহর ও শহরতলির বিভিন্ন দিক হতে বন্যার স্রোতের মতো জনতার স্রোত প্রবাহিত হতে থাকে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের দিকে। কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঢেউয়ের মতো একের পর এক মিছিলের পর মিছিল। মিছিলকারী সকলের হাতেই স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

এ উপলক্ষে ঢাকায় ছিল গণআন্দোলনের প্রবল জোয়ার। রাজপথে লাঠি, বর্শা, বন্দুকের মাথায় স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে ছিল উচ্চকিত। জনতা ভুট্টো ও সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধেও স্লোগান দেয়। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে জিন্নাহ, ইয়াহিয়া ও ভুট্টোর কুশপুতুল দাহ করে বিক্ষুব্ধ বাঙালী।

কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও বাঙালী প্রাক্তন সৈনিকদের সমন্বয়ে গঠিত ‘জয় বাংলা বাহিনী’র আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ ও মহড়া আউটার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। জয় বাংলা বাহিনীর পাঁচ শতাধিক সদস্য প্যারেড করে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে যান।

এই দিনেই স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ পল্টন ময়দানে জয়বাংলা বাহিনীর কুচকাওয়াজের মাধ্যমে সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন এবং মিছিল করে পল্টন থেকে ধানমন্ডিতে পৌঁছে বঙ্গবন্ধুর হাতে স্বাধীন বাংলার পতাকা তুলে দিয়েছিলেন সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে নূর-এ আলম সিদ্দিকী।

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আজ ছিল সাধারণ ছুটির দিন। ঢাকাসহ সারা দেশের প্রতিটি বাড়িতে, যানবাহনে, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার ভবনসমূহের শীর্ষে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিষদ ভবন, সুপ্রিমকোর্ট, হাইকোর্ট, জজকোর্ট, বঙ্গবন্ধুর বাসভবনসহ সকল প্রতিষ্ঠানে কালো পতাকার পাশাপাশি স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত পতাকা উত্তোলিত হয়। রাজধানী ঢাকা পরিণত হয় পতাকার নগরীতে।

সে এক অভাবনীয় দৃশ্য! সমগ্র বাঙালী জাতি এদিন মেতে ওঠে পতাকা উৎসবে। প্রেসিডেন্ট ভবন, গভর্নর হাউস এবং ক্যান্টনমেন্ট ছাড়া আর কোথাও পাকিস্তানের পতাকা দেখা যায়নি।

ঢাকায় আগমনের পর আজই প্রথমবারের মতো জেনারেল ইয়াহিয়া প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে বের হয়ে সেনানিবাসে গমন করেন এবং সেখানে দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এছাড়া ভুট্টোও আজ লে. জেনারেল পীরজাদার সঙ্গে এক দীর্ঘ বৈঠকে মিলিত হন। এসব বৈঠকেই ২৫ মার্চ গণহত্যার জন্য প্রণীত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নীল-নকশাটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

ঢাকা/টিপু

সম্পর্কিত বিষয়:

ঘটনাপ্রবাহ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়