Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ০৯ মে ২০২১ ||  বৈশাখ ২৬ ১৪২৮ ||  ২৬ রমজান ১৪৪২

এপ্রিল ফুল: আপনাকে কেউ বোকা বানাচ্ছে না তো!

খালেদ সাইফুল্লাহ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:১১, ১ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৬:২৪, ৬ এপ্রিল ২০২১
এপ্রিল ফুল: আপনাকে কেউ বোকা বানাচ্ছে না তো!

অনেক দেশেই পালিত হয় মানুষকে বোকা বানানোর দিন ‘এপ্রিল ফুল’। দিনের সব আয়োজনই মূলত মানুষকে বোকা বানিয়ে মজা করার জন্য। আর দিবসটি পালিত হয় এপ্রিল মাসের ১ তারিখ।

কেনো বিশ্বব্যাপী এই দিনে মানুষকে বোকা বানানো হয় এ নিয়ে রয়েছে নানা কাহিনি। ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চল, দেশভেদে রয়েছে কাহিনির ভিন্নতা। তবে উপমহাদেশের মানুষের মধ্যে একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে; যা একইসঙ্গে হৃদয়বিদারকও বটে।

১ এপ্রিল পর্তুগালের খ্রিষ্টান শাসক কর্তৃক মুসলমানদের বোকা বানিয়ে হত্যা করার মাধ্যমে স্পেন জয় করে নেয় পর্তুগিজ রানি ইসাবেলার সৈন্যরা। ইসাবেলা এবং তার স্বামী ফার্দিন্যান্ড স্পেন জয় করার উদ্দেশ্যে রাজধানী গ্রানাডা যাত্রা করেন। তারা শহরের বাইরের গ্রামগুলো একের পর এক জ্বালিয়ে দেয় এবং গ্রামবাসীদের হত্যা করে। মুসলিম সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখসমরে নিশ্চিত পরাজয় জেনে তারা ভিন্নপথ অবলম্বন করে। শহরের বাইরের সব খাদ্য উৎস জ্বালিয়ে দেয়। ফলে শহরে দেখা দেয় খাদ্য সঙ্কট। শহরের বাসিন্দারা দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে। তখন ইসাবেলার বাহিনী ঘোষণা দেয়, মুসলিমরা যদি শহরের প্রধান ফটক খুলে দেয় এবং মসজিদগুলোতে ও খ্রিষ্টানদের জাহাজে আশ্রয় গ্রহণ করে তবে তাদের কোনো ক্ষতি করা হবে না। সরল বিশ্বাসে মুসলিমরা সেখানে অবস্থান নেয়। কিন্তু প্রতারক সৈন্যবাহিনী মসজিদের বাইরে তালা লাগিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। জাহাজগুলোকে মাঝ সমুদ্রে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। এভাবে ৭ লক্ষাধিক নারী-পুরুষের আর্তচিৎকারে ভারি হয়ে ওঠে গ্রানাডার আকাশ। প্রতারণার শিকার হয়ে বিদায়ের ঘণ্টা বাজে স্পেনে মুসলিম শাসনের ইতিহাসের। ১৪৯২ সালের ১ এপ্রিল ঘটানো হয় জঘন্যতম এই ঘটনা। সেই থেকেই মুসলিমদের বোকা বানানোর দিন হিসেবে এ দিনটিকে ‘এপ্রিল ফুল’ বলে পালন করা হয়।

তবে এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ইতিহাসে পাওয়া যায়নি। ১৪৯২ সালের ১ এপ্রিল এমন কোনো ঘটনা গ্রানাডার মুসলিমদের সঙ্গে ঘটেনি। বরং রানি ইসাবেলার রণকৌশলে পরাস্ত হয়ে ওই বছরের ২ জানুয়ারি একটি শান্তিপূর্ণ চুক্তির মাধ্যমে স্পেনের শাসনক্ষমতা ছাড়েন সেখানকার মুসলিম শাসক। তাই ১ এপ্রিল এ ধরনের কোনো ঘটনার সম্ভাবনাই সেখানে ছিল না। তবে এপ্রিল ফুল নিঃসন্দেহে ইউরোপিয় সংস্কৃতি-উদ্ভুত একটি উৎসব, যা ভারত উপমহাদেশেও বর্তমানে পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে দিনটি কখনও ব্যাপকভাবে পালিত না হলেও এ বিষয়ে অনেকেই জানেন।

এপ্রিল ফুলের উৎপত্তি নিয়ে ইউরোপিয়ানদের মধ্যেও বেশ কিছু কাহিনি প্রচলিত আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে ফ্রান্সে জুলিয়ান ক্যালেন্ডার থেকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করার জন্য ফরমান জারি করা হয়। কিন্তু নতুন আইন প্রণয়ন করায় জনসাধারণের এই ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। নতুন ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নববর্ষ ছিল ১ জানুয়ারি। তবে অজ্ঞতাবশত অনেকেই পুরাতন জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এপ্রিলের ১ তারিখ নববর্ষ উদযাপন করতো। তাদের মজা করে ‘এপ্রিল ফুল’ বা এপ্রিলের বোকা ডাকা হতো। ফ্রান্সে মানুষকে বোকা বানিয়ে তাকে বলা হয় ‘এপ্রিল ফিশ’। মূলত কাগজের মাছ বানিয়ে কারো অজান্তেই তার পিঠে সেটি সেঁটে দেওয়া হয়। তখন লোকজন তাকে দেখে মজা করে এবং এপ্রিল ফিশ বলে ডাকে।

এপ্রিল ফুল-এর উৎপত্তি নিয়ে রোমান মিথও প্রচলিত আছে। রোমান মৃত্যু দেবতা প্লুটো যখন তার স্ত্রী পারসিফনকে অপহরণ করে আনলেন, তখন পারসিফনের মা সেরিস মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে বোকা বনে যান। কারণ মেয়ে তখন মাটির নিচে অবস্থান করছিল। আর তিনি মেয়েকে মাটির দুনিয়ায় খুঁজে হয়রান হচ্ছিলেন। সেরিসের বোকামি স্মরণ করে ১ এপ্রিল বোকামি দিবস পালন করা হতো বলেও অনেকে মনে করেন।

তবে সত্যিই কি এমন কোনো ঘটনা থেকেই ‘এপ্রিল ফুল’ দিবসটির সূচনা? নাকি শুধু মজা করার জন্য মানুষের তৈরি একটি দিন এটি। এ দিনের উৎপত্তির রহস্য খুঁজতে গিয়ে আপনিও বোকা হচ্ছেন না তো!
 

ঢাকা/তারা

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়