Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ২৬ জুলাই ২০২১ ||  শ্রাবণ ১১ ১৪২৮ ||  ১৩ জিলহজ ১৪৪২

আশা জাগিয়ে শুরু, শেষ দুঃস্বপ্নের মতো

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৫৩, ১৬ জুন ২০২১  
আশা জাগিয়ে শুরু, শেষ দুঃস্বপ্নের মতো

শেষ হলো বাংলাদেশের কাতার বিশ্বকাপ বাছাই মিশন। লড়াইটা ছিল ২০২৩ সালের এশিয়ান কাপ বাছাইয়েরও। এই অভিযাত্রার শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালের জুনে। দুই লেগের প্রথম রাউন্ডে লাওসের বিপক্ষে ১-০ গোলের অগ্রগামিতায় দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এই পর্বে বাংলাদেশ খেলেছে ৮ ম্যাচ, যা ওই বছরের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়ে শেষ হলো গত মঙ্গলবার (১৫ জুন)।

দুই পর্ব মিলিয়ে বাংলাদেশ লম্বা সময় ফুটবলে ব্যস্ত থাকলেও সাফল্য অথৈ সাগর থেকে উঠানো এক বালতি পানির মতো। দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম ম্যাচে দুশানবেতে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল জেমি ডের শিষ্যরা। শুরুটা হয়েছিল আশা জাগানিয়া। ২৭ মিনিটে ফার্শাদ নুরের গোল গড়ে দেয় ম্যাচের পার্থক্য। আধঘণ্টার মধ্যে ওই ম্যাচে পিছিয়ে পড়লেও বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল, যা দেখে আশায় বুক বেঁধেছিল দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।

পরের ম্যাচটি ছিল ঘরের মাঠে কাতারের বিপক্ষে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে লড়াকু বাংলাদেশকে সামনে থেকে দেখতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম ছিল কানায় কানায় দর্শকে পরিপূর্ণ। রহমত মিয়া, ইয়াসিন হাসান ও রিয়াদুল হাসানের রক্ষণব্যুহ ভেদ করতে বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছিল শক্তিশালী কাতারকে। সাদ উদ্দিন, নাবীব নেওয়াজ জীবন ও মোহাম্মদ ইব্রাহিমের আক্রমণভাগও কয়েকবার পরীক্ষা নেন কাতারের রক্ষণভাগের। ২৮ মিনিটে প্রথম গোল খাওয়ার পরও লড়াই করে যায় তারা। কিন্তু শেষ দিকে ক্লান্ত বাংলাদেশ আর পেরে ওঠেনি, দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে আরও একটি গোল হজম করেন জামাল ভূঁইয়ারা।

হারলেও ওই ম্যাচের চোয়ালবদ্ধ লড়াই বাংলাদেশকে করে তুলেছিল আরও আত্মবিশ্বাসী, যার ছাপ পড়েছিল কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামে। ভারতের বিপক্ষে বাছাইয়ের তৃতীয় ম্যাচে সাদের অসাধারণ গোল নিস্তব্ধ করে দিয়েছিল স্বাগতিক দর্শকদের। প্রথমার্ধ লিড নিয়ে শেষ করা বাংলাদেশ প্রথম জয় থেকে দুই মিনিট দূরে থাকতে সর্বনাশ। এগিয়ে থেকেও পয়েন্ট ভাগাভাগি করে সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের, ৮৮ মিনিটে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান ডিফেন্ডার আদিল আহমেদ।

টানা তিন ম্যাচ আশা জাগানিয়া পারফরম্যান্স করা বাংলাদেশ বড় ধাক্কা খায় ওমানে। মাস্কটে স্বাগতিকদের কাছে ৪-১ গোলে হারের পথে গোল করেন বিপলু আহমেদ। ২০২০ সালের মার্চে করোনাভাইরাস মহামারিতে থমকে যায় জীবনযাত্রা, ক্রীড়াঙ্গনও নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে। তাতে এক বছরেরও বেশি সময় মাঠের বাইরে কাটাতে হয় বাংলাদেশকে।

বাছাইয়ের পঞ্চম ম্যাচ লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা খেলতে নামে ২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর। দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার প্রভাব বেশ জোরেশোরে দেখা যায় কাতারে। দোহায় স্বাগতিকদের কাছে ৫-০ গোলে পর্যদুস্ত তারা। বাংলাদেশের শেষ তিনটি ম্যাচ ছিল ঘরের মাঠে। কিন্তু করোনার কারণে বিশ্বকাপের মূল ভেন্যুতে চলে যায় ম্যাচগুলো। তৃতীয় রাউন্ডের আশা ছেড়ে দিলেও এই তিন ম্যাচ থেকে অন্তত কয়েকটি পয়েন্ট আদায় করতে চেয়েছিলেন জামালরা।

কিন্তু চোটে একে একে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ছিটকে যাওয়া সেই চাওয়া পূরণে সংশয় তৈরি করেছিল। বাছাইয়ের শেষ ধাপের প্রস্তুতি ক্যাম্পে ঢোকার আগেই চোট নিয়ে ছিটকে যান নাবীব নেওয়াজ জীবন। ক্যাম্প শুরুর পর ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ, ফরোয়ার্ড সাদ উদ্দিন ও গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানাও সরে দাঁড়ান চোটের কারণে। ছিল না প্রস্তুতিও। সৌদি আরবের গিয়ে প্রস্তুতির কথা থাকলেও কোয়ারেন্টাইন জটিলতায় যাওয়া হয়নি। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে কাতারে যায় তারা।

দোহার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামে তারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আনোয়ার শরীফীর গোলে পিছিয়ে পড়লেও একটি পয়েন্ট তারা আদায় করে তপু বর্মণের গোলে। তাতে ভারতের বিপক্ষে পরের ম্যাচেও পয়েন্ট পাওয়ার বিশ্বাস জাগে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের মনে। আফগানদের বিপক্ষে চোটে পড়েন সোহেল রানা, ছিটকে যান ভারত ম্যাচ থেকে। সুনীল ছেত্রীর দলকে ম্যাচের শেষ দিক পর্যন্ত আটকে রেখে প্রত্যাশা পূরণ করার পথে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ৭৯ মিনিটে গোলমুখ খোলেন ছেত্রী, ইনজুরি টাইমে করেন আরেকটি গোল। ২-০ তে হেরে স্বপ্নভঙ্গ জেমি ডের শিষ্যদের।

শেষ ম্যাচ ছিল ওমানের বিপক্ষে। মাশুক মিয়া জনির চোট এবং কার্ডের খাড়ায় জামাল, বিপলু ও রহমতের নিষেধাজ্ঞায় নখদন্তহীন ছিল বাংলাদেশ। যদিও ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তপু একটি পয়েন্ট পাওয়ার আশা করেছিলেন। তা হয়নি, বরং ৩-০ গোলে হারের যন্ত্রণা পেতে হয়েছে। আনিসুর রহমান দারুণ কয়েকটি সেভ না করলে যন্ত্রণা আরও বড় হতে পারতো।

সব মিলিয়ে এই অভিযাত্রায় বাংলাদেশের প্রাপ্তি কেবল দুটি ড্র, আর ২ পয়েন্ট। বাকি ছয়টিতে হার। ‘ই’ গ্রুপে সবচেয়ে বেশি ১৯টি গোল খেয়েছে তারা। আর গোলও করেছে সবচেয়ে কম তিনটি। বোঝাই যাচ্ছে, রক্ষণ ও আক্রমণে সমান ঘাটতি ছিল বাংলাদেশের। যে কারণে দুঃস্বপ্নের মতো একটি সময় পার করলো বাংলাদেশ। তবে দুঃস্বপ্ন শেষে জেগে ওঠার সুযোগ রয়েছে, এএফসি নিয়ম পাল্টানোয় তৃতীয় সেরা পঞ্চম দল হিসেবে এশিয়ান কাপের মূল বাছাইপর্বে খেলবেন জামাল-তপুরা।

ঢাকা/ফাহিম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়