ঢাকা     শুক্রবার   ২০ মে ২০২২ ||  জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪২৯ ||  ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩

করোনাকাল: সমকালের আগে পরে

প্রশান্ত মৃধা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:০০, ৫ নভেম্বর ২০২১  
করোনাকাল: সমকালের আগে পরে

বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে-পরে যাদের জন্ম, তারা তাদের আগের অন্তত দুটো প্রজন্মের তুলনায় ভাগ্যবান। কেন, সে ব্যাখ্যায় একটু ধীরে যাওয়া যাবে, আপাতত বাকিরা কেন দুর্ভাগা সেদিকে একটু চোখ ফেরানো যাক।

পৃথিবী নামের গ্রহটি কোনোদিন কোনোকালে তার জলস্থল-অন্তরীক্ষের সর্বত্রই মোটামুটি দুধ-মধু আর সুগন্ধের নহর বইয়ে দিয়েছে, ঐতিহাসিকেরা এমন দাবি কখনও করেনি। তবে অঞ্চলভেদে কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ সব সময়েই ছিল। এটা আবারও বরফ যুগে ফিরে যাবার আগে পর্যন্ত মোটামুটি বাহল থাকবে। এর থেকে মুক্তির উপায় কোনোকালে কোনোদিন কারও জানা ছিল না, জানবেন না কোনো বিগত ও অনাগত রাষ্ট্রনায়ক, কোনো বৈজ্ঞানিক, কোনো যাজক। আর যে ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসসহ অন্যান্য দুর্যোগ, হোক তার কারণ প্রাকৃতিক কিংবা মানবসৃষ্ট, যা এখন এই গ্রহের সর্বত্র কমবেশি বিরাজমান করেছে, একে গ্রাস করে নিয়েছে, তার প্রভাব নিশ্চিত আরও বেশি।

সর্বজনীন শব্দটা সকলের জন্যে যা কল্যাণকর আবার সকলের জন্যে প্রযোজ্য মোটামুটি অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সেদিক থেকে এই প্রভাব কিংবা এর গ্রাস মোটামুটি সকলের জন্যে প্রায় একই। (অর্থনৈতিকভাবে অগ্রসরেরা এর থেকে বাঁচবার নিজস্ব কী-কী উপায় খুঁজে নিয়েছেন, সে বিষয়ের আলোচনা আপাতত তোলা থাক, আমরা সর্বজনীন শব্দটাকে একটু সামগ্রিক অর্থে ভেবে নিতে পারি।) একটু বিদ্রোহাত্মক কবিতায় যাকে মারী আর মন্বন্তর যুদ্ধবিগ্রহ ঝড়ঝঞ্ঝা ইত্যাদি শব্দে তুলনা দেওয়া হয়েছে, উল্লিখিত ওই প্রজন্ম দুটো তার ভেতর দিয়ে গেছে বেশি, অন্তত গত পঞ্চাশ বছরের ভেতর যাদের জন্ম তাদের চেয়ে।

বিষয়টা একটু ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যাক। একেবারে খাড়াখাড়ি। সন তারিখ যে কোনোটাই যথাযথ মেলানো দরকার নেই। মোটা দাগে ধরা যাক যাদের জন্ম সোয়া শতাব্দী আগে, এই আঠারো শ পচাঁনব্বইয়ের দিকে, তাদের কারও যদি একটু দীর্ঘ আয়ুর প্রাপ্তিযোগ থাকে, তাহলে? গত শতাব্দীর গোড়ায় একেবারে সদ্যযৌবনে তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের উত্তাপের আঁচ পেয়েছেন। হয়তো বাংলাদেশে সে যুদ্ধের উত্তাপ কিছুটা কমই ছিল, যাকে আগেই বলা হয়েছে অঞ্চল ভেদে উনিশ-বিশ, তবু খোঁজখবর জানা মানুষ হলে, বাংলাদেশ অথবা ভারতবর্ষের মতন একটি উপনিবেশিত রাষ্ট্রে মহান ব্রিটিশরাজের ভৃত্য হিসেবে সে আঁচ গায়ে একেবারে না লাগার কোনো কারণ নেই।

করাচিতে বাঙালি পল্টন, কাজী নজরুল ইসলাম, এসব আমাদের জানা আছে। আছে এর পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। সে যুদ্ধের আঁচ গায়ে যাই লাগুক না-কেন, সে সময়ে এক বাঙালি সমর নায়ককে প্রতিহত করার জন্যে ইংরেজ সরকার বানানো দুর্ভিক্ষে এই দেশের ৩০ লাখ মানুষকে না খাইয়ে ভবলীলা সাঙ্গ করতে বাধ্য করেছিল। বাঙালির মতো ভেতো জাত স্রেফ ভাতের ফ্যানের জন্যে কাঁদতে কাঁদতে কলকাতার রাস্তায় গড়াগড়ি দিতে দিতে হাড়পাঁজরে মিলেমিশে পঞ্চভূত প্রাপ্ত হয়েছে। সেই দাগ শুকাতে না শুকাতে উনিশ ছেচল্লিশের দাঙ্গা। ইংরেজিতে বেশ গালভারি করে বলা হয়, গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং! এর প্রভাব পড়ে নোয়াখালি আর বিহারে, বাংলার অন্যত্রও।

সে বছর ঘুরতেই দারুণ কিংবা অসাধারণ দেশভাগ! স্বাধীনতার নামে এমন খণ্ডকরণ পৃথিবীর ইতিহাসে কমই ঘটেছে। সে সময়ে বাংলা ও পাঞ্জাবে গণহত্যা, উদ্বাস্তুকরণ, বাস্তুচ্যুতি আর নারীনিগ্রহের নমুনা কম ঘটেনি। এরপর সাধের পাকিস্তানে পঞ্চাশের দাঙ্গা, চৌষট্টির দাঙ্গা আর একেবারে দগদগে নির্যাতনের ক্ষত একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্বিচার গণহত্যা লুঠ ও ধর্ষণ ইত্যাদি। উনিশ শতকের শেষ দিকে জন্মানো সেই মানুষটি তখন জীবনের শেষ প্রান্তে। বয়েস মধ্যসত্তর। তার জীবনের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এমন সব ঝাপটাকে কীসের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে? এর পাশে মহামারিগুলোর কথা তো টানা হয়নি। কালাজ্বর, ম্যালেরিয়া, স্প্যানিশ ফ্লু কিংবা প্লেগ, কলেরায় গ্রাম উজাড়, যক্ষ্মা ইত্যাদি তো থাকছেই। গত কয়েক দশকে এর কয়েকটি প্রায় অথবা সম্পূর্ণই নির্মূল করা গেছে। কিন্তু একথা সাধারণত আমাদের খেয়াল থাকে না যে এতগুলো রাজনৈতিক পর্বান্তর আর জীবাণু ও রোগের সঙ্গে লড়াই করে ভাবলাম সেই লোকটি গেলই বুঝি মরে। কিন্তু উনিশ একাত্তর সাল পর্যন্ত তেমন মানুষ কিংবা তাদের/ তার চেয়েও বয়স্ক কিছু মানুষ তো এই বদ্বীপে বেঁচে ছিলেন। তার জীবন অভিজ্ঞতার সঙ্গে অন্যদের, আজকে আমাদের দিনযাপনকে, আমাদের আতঙ্ককে কীভাবে মেলানো যায়?

ওদিকে তাদের তুলনায় কথায় কথায় বলি এক আধুনিক দুনিয়ার মানুষ আমরা, চিকিৎসা শাস্ত্রের অগ্রগতি নাকি প্রায় আকাশ ছুঁয়েছে, সেই সময়ে এই করোনা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে আমাদের কীভাবে বাঁচিয়ে রেখেছে? এই সংকটে কতটা শঙ্কিত আমরা কিংবা এই বৈশ্বিক যুদ্ধকে ঝুজতে কিংবা জয় করতে মরিয়া।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের অতিখ্যাত কবিতা ‘কী রকমভাবে বেঁচে আছি’তে নিখিলেশ নামের বন্ধুর উদ্দেশে লিখছেন, তুই একবার এসে দেখে যা আমি কী রকমভাবে বেঁচে আছি, একি মানুষ জন্ম, নাকি কঙ্কালের সঙ্গে পাশা খেলা? অন্যদিকে, নিখিলেশ অর্থ বিশ্ববিধাতা। ধরে নিচ্ছি কবি সত্যি এই নামে তার কোনো বন্ধুর উদ্দেশে কথটা বলছেন অথবা ওই বিশ্ববিধাতার কাছে রূপক অর্থে আর্তি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে অমন রূপকের আশ্রয় না-নেওয়ারই কথা। কিন্তু মানুষ জন্ম আর কঙ্কালের সঙ্গে পাশা খেলায় বেশ জীবন আর মৃত্যুর বিষয়টা আছে। সে বিষয়ে, ওই কবিতার রূপকের আদলে বেশ কিছু কথা তোলা যেতে পারে। তবে ইতিহাসকে মান্যতা দিয়ে পূর্বপ্রজন্মের সেই মানুষের জীবন বহিবার ভারও খেয়াল রাখতে হবে। নিজেদের সময়কে যেন কোনোভাবেই মহিমান্বিত করে গৌরবদান না করি। কিন্তু বাঙালির ইতিহাস বিস্মৃত জাত হিসেবে জগদ্বিখ্যাত। সে তার দাদামশাইয়ের কালকে তো বটেই বাপের কালকেই কোনোভাবে স্মরণ রাখতে চায় না, এমনকি নিজের অতীতকেও সে পারলে ভুলে যেতে চায়। ফলে অন্য সব কটি ঘটনাই বাদ যাক, শুধু দেশভাগ আর মুক্তিযুদ্ধের মতন রাজনৈতিক ঘটনা আর এক-একটি প্রলয়ঙ্করী জলোচ্ছ্বাস যত প্রাণ একসঙ্গে নিয়েছে, যত সম্পদ ও সম্ভ্রমহানীর ঘটনা ঘটেছে, সেই তুলনায় এই বৈশ্বিক মহামারিতে গত দেড় বছরে ক্ষতির পরিমাণ কম, অন্তত আমাদের মতন রাষ্ট্রে।

তাহলে আতঙ্ক কিংবা এই আতঙ্কের ধারণা আমাদের কাছে বিশ্বমোড়লদের পর্যদুস্ত হওয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ধরা দিচ্ছে আমাদের চোখে। সে চোখে তাদের গভীর আতঙ্ক আমাদের আতঙ্কিত করেছে, তাদের হুমকি আমাদের সংকুচিত করেছে, তাদের সাহায্যের হাত বাড়ানো বা গোটানোয় আমাদের সন্দিহান করে তুলেছে। ফলে করোনা নামক মহামারি প্রথম যখন হাতছানি দিয়ে দুনিয়ার প্রতিটি নাগরিককেই ডাকতে শুরু করেছিল সে সময়ে আমরা ভুলে গিয়েছিলাম, এখনও পৃথিবীতে কলেরায়, যক্ষ্মায়, এইডসে কিংবা কোনো না-কোনো বিশেষ ফ্লুতে কত লোক মারা পড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে সে সবের হিসেব আছে, চাইলেই তা জানতে পারা যায়। সে হিসেবের দিকে একটু চোখ দিলেই দেখা যাবে, অন্তত একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ওইসমস্ত রোগে বা মহামারিতে মৃত্যুর সংখ্যা আমাদের সাধারণ ধারণার চেয়ে অনেক বেশি। এমনকি এই করোনা মহামারির প্রকোপ একটু কমতির দিকে এলে অথবা যখন এর প্রাদুর্ভাব বা সংক্রামণে মৃত্যু কম থাকে, সেই সংখ্যাটিও প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় যে পরিমাণে মানুষ মারা যায় তার কাছাকাছি।

এই কথাগুলো তুলে কোনোভাবেই করোনা মহামারির মতন একটি বৈশ্বিক রোগের প্রাদুর্ভাব আর তার ফল এবং একইসঙ্গে এর ফলে সারা দুনিয়ার মানুষের যোগাযোগের ভাষাটি যে প্রায় আমূল বদলে যাচ্ছে, কারও কারও অর্থনৈতিক অবস্থাকে যে নাজুক অবস্থার মুখোমুখি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, এর কোনোটাকেই পাশে সরিয়ে রাখা হচ্ছে না। শুধু একথা একইসঙ্গে তোলা হচ্ছে যে, পৃথিবী অন্তর্গতভাবে, স্বাভাবিক আহ্নিক গতিতেই সব সময়েই কোনো না-কোনো সংকটের ভেতর দিয়ে বহমান। করোনা সেই চলমানতায় একটি আঘাত। মানুষ একসময়ে এর সঙ্গে নিজেকে সইয়ে নেবে, এত মৃত্যুর ভেতরে, এত অনটনের মুখোমুখি হয়েও ম্যালেরিয়াসহ অন্যান্য রোগকে সঙ্গে নিয়ে যেভাবে টিকে থাকছে, করোনাকেও সেখানে নিয়ে যাবে অথবা করোনার প্রতি তার আচরণও তাই হয়ে দাঁড়াবে।

কিন্তু এমন একটি মহামারির প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই খুব সহজে যে সমস্ত বিষয় গবেষকেরা ভেবেছিলেন যে, এর ফলে মুনাফা মোড়লদের আচরণ বদলাবে, মানুষে মানুষে আন্তঃসম্পর্কের মাত্রা বদলে যাবে, প্রকৃতি পরিবেশ আর প্রতিবেশের দিকে ‘উন্নত বিশ্বে’র আচরণ বদলে যাবে, এই রোগের প্রাদুর্ভাব রুখতে চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফার ভাব থাকবে না, ইত্যাদি যে সমস্ত বিষয়ে ধারণা করতে শুরু করেছিলাম আমরা তার কোনোটাই এখনও পর্যন্ত ঘটেনি। সামনেও ঘটবে এমন কোনো কারণ এরই মধ্যে ঘটেছে বলে মনে হয়নি। যদিও ইতোমধ্যে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা ঘোষণা দিয়েছেন, এই মহামারি আরও অন্তত ছয়-সাত বছর থাকবে। এর নতুন নতুন ধরন বা ভ্যারিয়েন্ট বেরুবে, আমাদের ঘায়েল করতে চেষ্টা করবে, আমরা তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব, আবার সে নতুন করে আঘাতের প্রস্তুতি নেব, এই-ই চলতে থাকবে।

তাহলে, আগামী দিনে করোনার কারণে মানুষে মানুষে সংক্রমণের ক্ষেত্রে যে আচরণ গড়ে উঠেছে, তা বহাল থাকবে। একই সঙ্গে জনগণের চোখে ধুলো দিয়ে, যে ধরনের বৈশ্বিক ও দেশীয় বাণিজ্যের ধরন বেরিয়েছে সেগুলোও চলমান আছে সেগুলোকে মুনাফা সংগ্রহের নতুন কায়দা আবিষ্কার হয়ে গেছে আর তার সমৃদ্ধিও ঘটবে।

উপরের সমস্ত কথাই হতে পারে চলমান দিনগুলোর ভূমিকা। এর ভেতরেই আমাদের দিনযাপন, যা চলমান, এই ব্যবস্থা চলবে। সন্তানসন্ততির লেখাপড়া, গত শতাব্দীর সমস্ত সংকটে, কখনও কখনও যেভাবে ব্যাহত হয়েছে, আবার অব্যাহত রয়েছে সেই প্রক্রিয়ায়ই চলবে। মানুষের প্রতিটি সম্পর্কই দিনে দিনে যেভাবে অর্থ-নিয়ন্ত্রিক হয়েছে উঠেছে, করোনা সেখান থেকে দূরে সরিয়ে দিতে বাড়তি কোনো ভূমিকা পালন করবে না। কোনো সন্তান পিতার লাশ সৎকারহীন ফেলে যাবে, কোনো সন্তান সংক্রামণের সমস্ত ঝুঁকি জেনেও সেবা দেবে। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ভূমিকার কমবেশি হতে পারে। কিন্তু মানুষের চিরকালীন ধরনের কোনো পরিবর্তন আদৌ হবে না। আবার বাংলাদেশে কোনো কোনো এলাকায় সবচেয়ে অপদার্থ লোকটি এই করোনাকালে স্বেচ্ছায় শ্রম দেবে। এ নিয়ে কোথাও বিন্দুমাত্র প্রশংসার দাবি সে করবে না।

ওদিকে পরহিতের মহান দাবিদাররা কেউ কেউ গর্তে লুকাবে। মানুষ তো এই। যদি চট্ করে বলা হয়, একটি মহামারিতে অন্তত মানুষ তার দশহাজার বছরের অর্জিত স্বভাব রাতারাতি বদলে ফেলবে, তাহলে সে ধারণা ভুল হবে, হচ্ছে। তবু মানুষই তো অমৃতের সন্তান। মানুষের ভেতরেই বাস করে সুর-অসুর। এইসব মিলে, এই সংকটে যদি আশাহীনতার বারতা ভাবা যায় তাও যেমন কোনো কাজের কথা নয়, একই সঙ্গে করোনা-উত্তর দুনিয়া আগামীকাল প্রীতি আর সাম্যের প্লাবন বইয়ে দেবে, তাও ভাবা ঠিক হবে না।

ফলে, সকল আশায় সকল নিয়ে বসে থাকা যায়, আগামী দিনের জন্যে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আজ যে সংকটের ভেতরে বসবাস আমাদের তা কেটে যাবে। বরং, চিরদিন এই ছিল মানুষের পৃথিবী। এখনও তাই। তবে প্রকৃতি আর পরিবেশের এমন ভূমিকা মানুষ আগে কখনও পায়নি, এখন যা। ফলে কেন যেন মনে হয়, প্রকৃতি হাত ঘুরিয়ে তার প্রতিশোধ নিয়ে কখনও কখনও সে যে আমাদের চেয়ে শক্তিমান এই কথা জানান দিয়ে যায়। সেটি মনে রাখা জরুরি। উৎসব ব্যসন কি দুর্ভিক্ষে মহামারি থাকবেই, বেঁচে থাকার লড়াইও সেখানে সমানভাবে জারি থাকবে।

ঢাকা/তারা

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়