ঢাকা     শুক্রবার   ০১ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ১৭ ১৪২৯ ||  ০১ জিলহজ ১৪৪৩

নড়াইলে আইটি ট্রেনিং সেন্টার অনুমোদন, শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ দিলেন মাশরাফি

নিউজ ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:০৮, ২১ মে ২০২২   আপডেট: ১৮:১৮, ২১ মে ২০২২
নড়াইলে আইটি ট্রেনিং সেন্টার অনুমোদন, শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ দিলেন মাশরাফি

শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার

নড়াইলের নড়াইল-লোহাগড়া সড়কের পাশে সীমাখালী মৌজার মালিবাগ মোড়ে ৪.৭৭ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত হবে ‘শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার।’ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) আজ শনিবার চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে এটি। নড়াইল অঞ্চলে এমন একটি আইটি সেন্টার মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা, এমপি’র বহুদিনের চাওয়া ছিল। দ্বিতীয় ধাপে সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে অনুমোদন দেওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এছাড়াও ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলককে।

ধন্যবাদ জানিয়ে মাশরাফি তার ফেসবুক পেইজে লিখেছেন—

সম্মানিত নড়াইলবাসী, আসসালামু আলাইকুম।

অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, বহুল প্রত্যাশিত শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার, নড়াইল আজ একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।

এজন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে। আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯ মে ২০১৯ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নড়াইল বাসীর জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল, শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং সেন্টার ও স্বাস্থ্য বিভাগীয় সমস্যা সমাধানে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আজ সেই বহুল প্রত্যাশিত শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং সেন্টার অনুমোদন পেয়েছে। আমাদের বহুল আকাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের চূড়ান্ত অনুমোদনও অচিরেই পেয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।

আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই, যার চিন্তায়- পরিকল্পনায় ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ বাস্তবায়িত হয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয়কে।

ধন্যবাদ জানাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, তরুণ জননেতা জুনায়েদ আহমেদ পলক ভাইকে। যাকে এই প্রকল্পের জন্য আমি অনেকবার বিরক্ত করেছি। ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন একান্ত সচিব, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ তোফাজ্জল হোসেন মিয়াকে এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলমকে। এছাড়া এই প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সকলকে আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

আপনারা জানেন, ১ম ধাপেই এটি পাস হওয়ার কথা ছিল। তবে জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সেসময় সেটি অনুমোদন পায়নি। সেজন্য আমরা উচ্চ আদালতেও গিয়েছি। জমি সংক্রান্ত জটিলতার নিরসনও হয়েছে। এক্ষেত্রে আমি ওই জমির বাদী পক্ষ যারা ছিলেন, নড়াইলের বৃহত্তর স্বার্থে সেসময় তাদের সহযোগিতা পেয়েছি। তাদের প্রতি আজ আবারো আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।

চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এখন খুব দ্রুত সময়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। নড়াইলের আইটি ট্রেনিং সেন্টারসহ ২য় ধাপে মোট ১৪টি আইটি ট্রেনিং সেন্টার অনুমোদন পেয়েছে, যার সর্বমোট প্রকল্প ব্যয় ১১১৪.৬২৭৬ কোটি টাকা। নড়াইলের শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টারের জন্য নির্ধারিত স্থান নড়াইল-লোহাগড়া সড়কের পাশে সীমাখালী মৌজার মালিবাগ মোড়ে।

শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার বাস্তবায়িত হলে নড়াইল জেলার ন্যূনতম এসএসসি/সমমান পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের আইটি/আইটিইএস এ দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হবে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে, স্টার্ট আপদের সহায়তা প্রদান করা হবে এবং আইটি/আইটিইএস সেক্টরে যুবসমাজের আত্ন-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহায়তা করবে ও আমাদের তরুণ প্রজন্মকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলবে।

করোনার কারণে আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জনে কিছুটা পিছিয়ে গেলেও এখন আবার কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। আমি সবসময় বলে আসছি, নড়াইলে অপরিকল্পিত/বিচ্ছিন্ন উন্নয়ন না করে আমরা সেক্টরভিত্তিক টেকসই ও সামগ্রিক উন্নয়ন করতে পারলে নড়াইলের মানুষ হিসেবে আমরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবো। লোহাগড়ায় অর্থনৈতিক অঞ্চল, সদরে আইটি ট্রেনিং সেন্টার আর সমগ্র জেলার সড়ক উন্নয়নে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নের ডিপিপি বাস্তবায়িত হলে নড়াইল জেলার চেহারা বদলে যাবে ইনশাআল্লাহ। আমাদের এলাকায়ই তখন ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যোগ্যতা অনুসারে কাজ পাবে তরুণরা- বেকারত্ব দূরীভূত হবে, ঘরে বসে তারা তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে আয় করতে পারবে, এলাকায় শিল্পায়ন হবে, নড়াইলে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্টে সকলখাতেই তখন কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

করোনার কারণে লক্ষ্য অর্জনে কিছুটা পিছিয়ে যাওয়ায় ভিতরে ভিতরে আমি নিজেও কিছুটা হতাশ হয়েছিলাম। কারণ, আমি ক্রিকেটাঙ্গন থেকে রাজনীতিতে এসেছি আমাদের নড়াইলের উন্নয়ন করার জন্য। সেই উন্নয়ন কাজ যখন থমকে থাকে তখন আমারও খারাপ লাগে। যাই হোক, আলহামদুলিল্লাহ। মহান আল্লাহ আমাদের ডাক শুনেছেন। কাজগুলো এখন শুরু হতে যাচ্ছে জেনে ভালো লাগছে।

উন্নয়ন কাজ রাতারাতি করা সম্ভব নয়। সরকারি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ধাপে ধাপে এগাতে হয়। নড়াইলের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। যার সুফল হয়তো আমরা এখনি পাবো না, তবে একটু অপেক্ষার পর এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে আমরা সকলে তার সুফল পাবো ইনশাআল্লাহ।

আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা ও দোয়া প্রত্যাশী।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

ঢাকা/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়