ঢাকা, বুধবার, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২০ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

বাঙালির আরেকবার অর্থনীতিতে নোবেল জয়

সন্দীপন ধর : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-১৫ ১১:৫১:৪৩ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-১৬ ৩:৩৬:৫৩ পিএম

১৯৯৮ সালের পরে অর্থনীতিতে বাঙালির মুকুটে আবারো একটি পালক যুক্ত করলেন ড. অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি। ২০১৯ সালে আরো দুজনের সঙ্গে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ড. ব্যানার্জির জন্ম ভারতের মুম্বাই শহরে ১৯৬১ সালে ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখ। তাঁর স্কুলজীবন কেটেছে কলকাতার সাউথ পয়েন্ট স্কুলে। এরপর তিনি কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এখানে তিনি শিক্ষক হিসেবে পেয়েছেন অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী ড. অমর্ত্য সেনকে। বলা যায়, যোগ্য গুরুর সুযোগ্য শিষ্য তিনি।

পরবর্তী সময়ে ড. ব্যানার্জি দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করে চলে যান হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে। বলে রাখা ভালো, ড. ব্যানার্জির বাবা ও মা দুজনেই অর্থনীতির অধ্যাপক। মা নির্মলা ব্যানার্জি সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্স এবং বাবা দীপক ব্যানার্জি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনা করেছেন।

বর্তমানে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, যা এমআইটি নামে বিশ্বে বহুল পরিচিত সেখানে ড. অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি ফোর্ড ফাউন্ডেশন ইন্টারন্যাশনাল প্রফেসর হিসেবে অর্থনীতি পড়াচ্ছেন। ২০০৩ সালে তিনি স্ত্রী এস্থার ডুফলোকে নিয়ে লতিফ জামিল পোভার্টি অ্যাকশন ল্যাব প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তিনি এই ল্যাবের পরিচালক এবং গবেষক। তিনি কনসোর্টিয়াম অন ফাইন্যান্সিয়াল সিস্টেমস অ্যান্ড পোভার্টির সদস্য। 

চলতি বছর অর্থনীতিতে নোবেল-এর জন্য দ্য রয়েল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্স ড. অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি, তাঁর স্ত্রী এস্থার ডুফলো এবং মাইকেল ক্রেমারের নাম ঘোষণা করেন। বৈশ্বিক দারিদ্র্য বিমোচনে তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যই এই পুরস্কার পেলেন তারা। সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্স বলেছে, এই তিনজন অর্থনীতিবিদের গবেষণা দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াইয়ের সক্ষমতাকে আরো শক্তিশালী করেছে। মাত্র দুই দশকে তাদের নতুন নিরীক্ষাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিকসে রূপ নিয়েছে, যা এখন গবেষণার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে বিকশিত হচ্ছে।  একাডেমি আরও বলেছে, এই তিনজনের পরীক্ষামূলক গবেষণা পদ্ধতি ৫০ লাখের বেশি ভারতীয় শিশুকে উপকৃত করেছে।

অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি, এস্থার ডুফলো এবং মাইকেল ক্রেমার- তিনজনই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ফেলো হিসেবে কাজ করছেন এবং বেশ কিছু বই লিখেছেন যেগুলো বিভিন্ন সময় নন্দিত হয়েছে। বিশ্বের নামী সব সাময়িকীতে অসংখ্য লেখা তাদের প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে ড. ব্যানার্জি ও এস্থারের লেখা ‘পুওর ইকনোমিকস’ বইটি গোল্ডম্যান স্যাকস বিজনেস বুক অব দি ইয়ার পুরস্কার জিতেছে।

এদিকে ড. ব্যানার্জির নোবেল জয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ব বাঙালির মনে আনন্দের বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। ড. অমর্ত্য সেন তাৎক্ষণিক মন্তব্যে জানিয়েছেন তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। কারণ ব্যাখ্যা করে বলেছেন, ‘মূল্যবান কাজ এঁরা করেছেন এবং সেই কাজের ফল নানা দিক দিয়েই দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমাদের সাহায্য করবে। তাছাড়া অভিজিৎকে আমি তাঁর শৈশব থেকে ভালোভাবে জানি এবং তাঁর চিন্তাশক্তিকে আমি বরাবর বাহবা দিয়ে এসেছি।’

বিশ্বব্যাংকের প্রাক্তন মুখ্য অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু বলেছেন, ‘অভিজিৎদের নোবেলপ্রাপ্তি অসম্ভব ভালো খবর। প্রত্যাশিত খবরও। আরসিটি-র যে ব্যবহার ওঁরা শুরু করেন, এখন গোটা দুনিয়ায় তা ব্যবহৃত হচ্ছে। অভিজিতের খুব ভালো কাজ আছে হার্ড বিহেভিয়র বা সঙ্ঘবদ্ধ আচরণ নিয়েও।’ 

দারিদ্র্য নিয়ে অর্থনৈতিক গবেষণার ক্ষেত্রে অভিজিৎ ব্যানার্জির কাজ তাত্ত্বিক আর পরীক্ষামূলক ভাবনার মধ্যে সেতুবন্ধন করেছে। এই পুরস্কার প্রাপ্তি শিক্ষা আর স্বাস্থ্যের মতো জরুরি সমস্যার দিকে নতুন করে দৃষ্টি ফেরাবে বলেও অনেকে মনে করছেন। 



কলকাতা/তারা  

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন