ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৯ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

মিথিলার সামান্য ভুল তাহরিমের সারা জীবনের কান্না

রাহাত সাইফুল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-০৫ ৭:৩৬:০১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-০৫ ৮:১৩:৫০ পিএম

সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। খুব কম সময়ের মধ্যে যেকোন খবর হাতের মুঠোয় চলে আসে। কখনও কখনও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভেসে আসে আপত্তিকর দৃশ্য। এসব কারো কারো জীবনে বয়ে নিয়ে আসে অভিশাপ। এই অভিশাপ কি শুধুই একজনের? অভিশাপ বয়ে বেড়াতে হয় পুরো পরিবারের। অতিরিক্ত রোমান্স বা হেয়ালিপনায় বরবাদ হয়ে যায় পরিবার। বিশেষ করে তারকাদের জীবনে এমন ঘটনা বেশি ঘটে। কারণ তাদের নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ বেশি। তাই তাদের ব্যক্তিগত বিষয় জানার আগ্রহও বেশি।

জনপ্রিয় তারকাদের স্ক্যান্ডাল খুব কম সময়ে ছড়িয়ে পরে। কেউ কেউ সস্তা প্রচারের জন্য নিজেই এ ধরনের স্ক্যান্ডাল ছড়ান। শুধু সেক্স স্ক্যান্ডাল দিয়ে রাতারাতি বড় তারকা বনে গেছেন হলিউডের কিম কার্দেশিয়ানের মতো আরো অনেক তারকা। আবার সেক্স স্ক্যান্ডালের কারণে ক্যারিয়ারে ধ্বস নেমেছে এমন উদাহরণ বাংলাদেশী প্রভাসহ অনেক আছে। হলিউড কিংবা বলিউডের মতো সেক্স স্ক্যান্ডালের ঘটনা বাংলাদেশের শোবিজেও কম নয়। আবার কোন কোন তারকা অপপ্রচারের বলি। আবার অনেকের সামান্য ভুলের কারণে নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পরে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত খবর।

শোবিজ তারকাদের অনেকে ভালোবেসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু এক সময় তারকাদের কেউ কেউ বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন। বাবা-মায়ের এমন ইচ্ছের বলি হতে হয় সন্তানদের। বাংলাদেশের এমন অনেক জুটি আছেন ভালোবেসে বিয়ে করে সংসার জীবেন সন্তানের বাবা-মা হয়েছেন। কিন্তু এক সময় দুজনের পথ দুদিকে চলে গেছে। আবার অনেকে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় নিজেদের অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করেন। এটা সময় এসব ভিডিও নেট দুনিয়ায় প্রকাশ পায়। তাদের সামান্য ভুল বা অসচেতনতার গ্লানী সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয় সন্তানকে। সমাজে সেই সন্তানকে ছোট হয়ে থাকতে হয়।

শোবিজের আদর্শ দম্পতি বলা হতো সংগীতশিল্পী তাহসান খান ও মডেল-অভিনেত্রী মিথিলাকে। ২০০৬ সালের ৬ আগস্ট বিয়ে করেন তারা। তারপর থেকে সুখে শান্তিতেই বসবাস করে আসছিলেন। তাদের সেই সংসারে এক কন্যা সন্তান রয়েছে। নাম আইরা তাহরিম খান। তারকাদের ঠুনকো দাম্পত্য জীবনের বিপরীতে তাহসান-মিথিলা দারুণ উদাহরণ। কিন্তু ২০১৭ সালের ২০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন। এরপর মিথিলাকে নিয়ে বেশ কিছু গুঞ্জন উঠলেও নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়ে চলছিলেন মিথিলা। কিন্তু গতকাল ৪ নভেম্বর নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয় ফাহমি-মিথিলার অন্তরঙ্গ ছবি। সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। আপত্তিকর এসব ছবিতে সমালোচনার তীর মিথিলার দিকে।

মিথিলার এই ভুলের কালিমা কি তার সন্তানের গায়ে লেপন হবে না? এর দায় কেন নিবে শিশু সন্তান তাহরিম? এখন হয়তো কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না তাহরিম। কিন্তু যখন বুঝবে তখন নেটে নিজের মায়ের নাম সার্চ দিলেই দেখতে পাবে এসব আপত্তিকর দৃশ্য। অথবা বন্ধুবান্ধবও তাকে দেখিয়ে দিবে সেগুলো। তখন কিভাবে মেনে নিবে তাহরিম? বাধ্য হয়ে বন্ধুবান্ধুব সমাজের কাছে ছোট হয়ে থাকবে সে। নিজের সন্তানের কথা ভেবেও একটু সচেতন হওয়া উচিৎ প্রত্যেক বাবা-মায়ের। জন্মের পর থেকে বাবা-মা সন্তানের সবচেয়ে আপনজন। আর বাবা-মা সবসময় চান সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। সামান্য একটু ভুলের কারণে সন্তানকে যেন সমাজের কাছে ছোট হয়ে থাকতে না হয়।

ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে তারকাদের সংসার ভাঙা-গড়ার মিছিল কিংবা অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভাইরাল ভিডিও বা ছবি। এসব ঘটনা সমাজ ও ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলে। আবেগে পা না বাড়িয়ে একটু সচেতন হলে এমন বিব্রতকর অবস্থায় পরতে হয় না। নেট দুনিয়ায় একটি ভিডিও নিয়ে জোর গুঞ্জন উঠলেও সেটি ফাহমি-মিথিলার কিনা নিশ্চিত নয়। কেননা আট মিনিটের সেই ভিডিওটি অস্পষ্ট। সুতরাং এই দুজন তারকাশিল্পীকে নিয়ে এটি গুজব ছড়ানোর অপচেষ্টা হতে পারে। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে। কিন্তু কে বা কারা এই অপচেষ্টার সঙ্গে জড়িত তা এখনও জানা যায়নি। স্যোশাল মিডিয়ায় কোন কিছু পেলেই সত্য মিথ্যার বিচার না করেই ভাইরাল করা হয়। এই বিষয়ে আমাদেরও দায় কম নয়। সত্য মিথ্যা বিচার না করে নিজের ওয়ালে কিছু শেয়ার করলে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের ক্ষতি ছাড়া লাভ হয় না।


ঢাকা/রাহাত সাইফুল/তারা

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন