Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||  আশ্বিন ৭ ১৪২৮ ||  ১৩ সফর ১৪৪৩

শেখ কামাল আমাদের ধ্রুবতারা

এম. এম. কায়সার || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৪০, ৫ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ১৮:৪৫, ৫ আগস্ট ২০২১
শেখ কামাল আমাদের ধ্রুবতারা

মানুষ চলে যায়। কিন্তু হারায় না। বেঁচে থাকে তার স্বপ্নে-কর্মে-সাফল্যে। শেখ কামালও তেমনই এক সাফল্যের নাম। মাত্র ২৬ বছরের জীবনে একজন মানুষ এত ভাবে এত কিছুতে সাফল্যের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রাখতে পারে!

শেখ কামালের জীবন আলেখ্য সেই বিস্ময়কর কীর্তিতে কীর্তিমান। মাত্র ২৬ বছরের এক তরুণ কীভাবে নিজেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের ক্রীড়াঙ্গন, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক আচার ও রীতিনীতিতে প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিভূ হয়ে উঠতে পারে- শেখ কামালের জীবন দর্শন তারই প্রমাণ!

রাতের আকাশে অনেক তারা জ্বলে। তবে এই অনেকের মধ্যে নিজের উজ্জ্বলতা ঠিকই আলাদা করে জানিয়ে দেয় ধ্রুবতারা! একটু বেশি আলো ছড়ায়। আশপাশের সবকিছু আলোকিত করে, পথ দেখায়। শেখ কামাল আমাদের ক্রীড়াঙ্গন তথা সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল এবং বৃহৎ অর্থে দেশ গড়ার কাজে তেমনই এক ধ্রুবতারা।

সাধারণত এই বয়সে সবাই মাঠের খেলোয়াড় হতে চায়। শেখ কামালও মাঠের খেলোয়াড়ই ছিলেন। বাস্কেটবল খেলেছেন। ফুটবল খেলেছেন। দক্ষতা ছিল ক্রিকেটেও। বাসার লনে ব্যাডমিন্টন খেলতেন। একহারা শরীরের পুরোদুস্তর অ্যাথলিট। ঝলমলে তারুণ্যের এই সময় খেলার মাঠে জিতেই যে কোনো তরুণ সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে চায়।

এখানেই ব্যতিক্রম ছিলেন শেখ কামাল। মাঠের খেলায় পারদর্শিতা থাকলেও তার চিন্তাভাবনার দিগন্ত ও স্বপ্ন ছিল অনেক দূর ছাড়িয়ে। স্বপ্ন দেখতেন শুধু নিজেকে নিয়ে নয়, পুরো দেশকে নিয়ে। আর তাই যে বয়সে তার মাঠ দাবড়ে বেড়ানোর কথা, তখন তিনি নিজেকে পরিণত করছেন ক্রীড়াঙ্গনের পরিকাঠামো তৈরির স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে। তারই সেই স্বপ্নের ফসল আধুনিক স্পোর্টস ক্লাব আবাহনী ক্রীড়া চক্র।

আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ তার স্মৃতিচারণে বলেছেন, ‘কামাল বয়সে আমাদের জুনিয়র ছিল। কিন্তু স্বীকার করতে কোনো দ্বিধা নেই, আমরা বয়সে বড় হলেও তার চিন্তাভাবনা ও স্বপ্নসাধ ছিল আর দশজনের চেয়ে আলাদা।’

ধ্রুবতারা যে একটু আলাদাই হয়!

শেখ কামালের স্কুল সহপাছী স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের ম্যানেজার তানভীর মাজহার তান্না তার স্মৃতিচারণে বলেছেন, ‘মাঠে স্কুলে আমরা ছিলাম জুটির মতো। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই খেলাধুলার প্রতি তার দারুণ টান। প্রেসিডেন্টের ছেলে, কিন্তু কথাবার্তায় বা আচার আচরণে দারুণ বিনয়ী ছিল কামাল। তরুণ বয়সে যখন আমরা আবাহনীকে সাজাচ্ছি তখন আরেকবার দেখলাম তার চিন্তা-চেতনা বাকিদের চেয়ে অনেক দূর ছাড়িয়ে, ছাপিয়ে। ব্যক্তিকেন্দ্রিক সুখচিন্তা কখনোই টানেনি তাকে। সবাইকে নিয়ে সামগ্রিক সাফল্যের আকাশছোঁয়াই ছিল তার স্বপ্নসাধ।’

শেখ কামাল অনেকভাবেই পরিচিত। রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা। ছাত্রনেতা ও রাজনৈতিক সংগঠক। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর গর্বিত সদস্য। আধুনিক ক্রীড়াঙ্গনের সংগঠক। মনেপ্রাণে ক্রীড়াপ্রেমী।  আধুনিক ব্যান্ড সঙ্গীত সংগঠনের অন্যতম কীর্তিমান। সেতার বাজাতে পারতেন। তবলায় দক্ষ। হারমোনিয়ামে সুর তোলার ওস্তাদি ছিল। গিটারেও সমান প্রতিভা। মঞ্চনাটকের প্রতি ছিল নিখাঁদ ভালোবাসা।

দেশের প্রেসিডেন্টের ছেলে হিসেবে তো জীবন অনায়াসেই কাটিয়ে দেয়া যেত। কিন্তু সেই তরুণ বয়সেই শেখ কামালের স্বপ্নজুড়ে যে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। একটি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নতির প্রেক্ষাপট গড়ে তোলার জন্য দেশটির সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গনের বলয় সমৃদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন তরুণ শেখ কামাল।

জীবনের সেরা সময়টাকে তিনি বেছে নিয়েছিলেন সংগঠক হিসেবে। জানতেন গোটা দেশের তারুণ্যের শক্তিকে সঠিক কাজে লাগাতে পারলে দেশ গড়ার বাকি কাজটা সহজ হয়ে যাবে। শুধু স্বপ্ন দেখা নয়, স্বপ্ন  সফল করার জন্য যে কায়িক পরিশ্রম করতে হয়- সেই শিক্ষাটাই ছিল শেখ কামালের। আর তাই শুধু নির্দেশ বা পরামর্শ দেয়ার মধ্যেই নিজের কাজের পরিসীমা আটকে রাখেননি তিনি। নিজ হাতেই গেঁথেছেন স্বপ্নসৌধ।

ধ্রুবতারা যে অমনি হয়!

স্বপ্নদ্রষ্টা দুরদর্শিতা। সুর-তাল-লয় ও খেলার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। সাংগঠনিক দক্ষতা। নিজস্ব সাংস্কৃতিক বলয়ের মধ্যে থেকেই আধুনিকতার সঙ্গে পরিশীলিত মাধুর্য্যে অর্জন। সময়ের চেয়ে নিজেকে খানিকটা এগিয়ে রাখা। বহুমুখী এই কর্মদক্ষতাই শেখ কামালের বড় পরিচয়। তার হাতে গড়া আবাহনী ক্রীড়া চক্র আজ বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসের অন্যতম গৌরবের অংশীদার।

স্পেনের নাম উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে দেশটির দুটি ক্লাবের নাম চোখের সামনে ভাসে- বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ। পাঁচ দশক আগের বাংলাদেশে আবাহনী ক্রীড়া চক্রকে নিয়েও তেমন সাফল্যের স্বপ্ন বুনেছিলেন শেখ কামাল। আজ তাই ক্রিকেট-ফুটবলে বাংলাদেশ বা আবাহনীর যে কোনো আনন্দের রাতে দূর আকাশের একটি তারা ঠিকই বাড়তি উজ্জ্বলতা ছড়ায়। পথ দেখায়। মাঝ সমুদ্রের নাবিক সেই দিকদর্শনেই খোঁজে সঠিক সীমান্ত পাড়!

ওটাই ধ্রুবতারা। আমাদের ধ্রুবতারা!

লেখক: ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, রাইজিংবিডি

ঢাকা/তারা

সর্বশেষ