ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৫ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ২১ ১৪২৯ ||  ০৫ জিলহজ ১৪৪৩

কতটা বদলাবে তালেবান? কতটা জ্বলবে আফগান?  

হাসান তারিক চৌধুরী || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৪৩, ২১ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ১৭:৪৮, ২১ আগস্ট ২০২১
কতটা বদলাবে তালেবান? কতটা জ্বলবে আফগান?  

আফগানিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতা এখন তালেবানদের দখলে। দেশটির সাধারণ মানুষ ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায়, তালেবান আমিরাতের হুকুমাত বা শাসনব্যবস্থার অপেক্ষায় আছে। কী হবে এর ভবিষ্যৎ?

অনেকে বলছেন, এখনকার তালেবানরা নাকি অনেক বদলে যাওয়া তালেবান! তারা নাকি উদার হবে, নারীশিক্ষা, সহশিক্ষা, মেয়েদের চাকরি করা মেনে নেবে, ফটো তোলা, ছবি আঁকা, গান, নাটক, সিনেমা ইত্যাদিও মেনে নেবে। অথচ, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো কিন্তু কাবুল থেকে সেরকম বার্তা দিচ্ছে না। বরং আফগান থেকে বিমানের চাকায় ঝুলেও মানুষ পালাতে চাচ্ছে। গুলি করেও সে মানুষকে থামানো যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’ গত ২০ আগস্ট লিখেছে, তালেবানরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শ্ত্রু তালাশ করছে। মৃত্যুভয় আর অজানা আতঙ্ক এখন দেশটির নিরীহ জনগণের জীবনসঙ্গী।

এরই মাঝে ২১ আগস্ট আফগানিস্তানের জাতীয় দিবসে রাজধানী কাবুল এবং আসাদাবাদ শহরে নারী সমাজসহ শত শত মানুষ বুলেটের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে তালেবান-বিরোধী মিছিল করেছে। কাবুল বিমান বন্দরে অসহায় মায়েরা নিজেদের কোলের শিশু মার্কিন সেনাদের হাতে তুলে দিয়ে নিজের জীবনের বদলে সন্তানের জীবন বাঁচাতে চাইছে। অন্যদিকে, ২.২৬১ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ এবং দুই লক্ষ ৪১ হাজার মানুষের প্রানহানির পর মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এখন আফগানে শান্তি খোঁজার বদলে জি সেভেন সভা ডাকছেন আফগান শরণার্থী নিয়ে!

পৃথিবীর মহা শক্তিধর মার্কিন সামরিক বাহিনীর দেয়া অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত, এবং তাদের দুই যুগের প্রশিক্ষণে শিক্ষিত তিন লাখ আফগান সেনাবাহিনী কি করে মাত্র ৬০ হাজার তালেবান যোদ্ধার কাছে হেরে গেলো? এর পেছনে কোনো ম্যাজিক কাজ করেছে? এ প্রশ্ন এখনো অনেকেই করেছেন? এ রহস্য ভেদ করতে হলে আমাদের তাকাতে হবে আফগানিস্তানের নিকট অতীতের ইতিহাসের দিকে। একটু স্মরণ করে দেখুন, মো. দাউদ খানের কথা। যিনি দেশটিতে বারাকজাই রাজতন্ত্র তথা নাদির শাহ পরিবারের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়েছিলেন। এই দাউদ খান সোভিয়েত সহায়তা নিয়ে দেশটিতে রাস্তাঘাট নির্মাণসহ বহু অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন করেছিলেন। আফগানিস্তানে কার্যত সোভিয়েত সাহায্য তখন থেকেই শুরু। 

এরপর দেশটিতে নানা ঘটনা প্রবাহ, ঘাত প্রতিঘাতে দাউদ খানকে হত্যা এবং তার সরকারের পতন। পরবর্তীকালে ১৯৭৮ সালে নূর মোহাম্মদ তারাকী এবং বারবাক কারমালের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পিডিপিএ আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসে। রাজতন্ত্রে এবং বামপন্থী শাসনামলে উভয় আমলেই আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাহায্য অব্যাহত ছিল। তখন আফগানে নারী শিক্ষার প্রসার, সহশিক্ষা, কল-কারখানা, আধুনিক কৃষি ও পশুপালন ব্যবস্থাসহ নানা ক্ষেত্রে সোভিয়েত সাহায্যে বিরাট আধুনিকায়ন ঘটে। আমুল সংস্কারের মাধ্যমে বদলে ফেলার চেষ্টা হয় মান্ধাতার আমলের উৎপাদন পদ্ধতির। কিন্তু এতো সুখ রুক্ষ পর্বতময় পাঠান জাতির কপালে সইলো না। কারণ, মোনাফেক বা বিশ্বাসঘাতকরা সক্রিয় ছিলো। বামপন্থীদের ভেতরে এবং এর আগে রাজতন্ত্রের ভেতরেও। সেই মোনাফেকির প্রসঙ্গে সবিস্তারে আসছি একটু পরে। 

এইসব মোনাফেকদের উপর ভর করে আফগানের রুশ সমর্থিত বামপন্থী সরকারকে উৎখাতের জন্য মার্কিন সামরিক কমপ্লেক্সের সরাসরি মদদে এবং অর্থায়নে পবিত্র ইসলাম ধর্মের লেবাস পরিয়ে জন্ম দেয়া হয় ‘আফগান মুজাহিদ’ বাহিনী। আফগান কমিউনিস্ট পিডিপিএ সরকার উৎখাতে দেশজুড়ে তাদের ভয়ানক নাশকতা এবং মানুষ হত্যা সন্ত্রাসবাদের ইতিহাসে এখনো এক বিরাট নজির। এরপর শুরু হয়, আরও বিরাট পরিসরের সন্ত্রাস। মুজাহিদদের সন্ত্রাস ঠেকাতে আসা সোভিয়েত বাহিনীকে বিতাড়নের নামে মার্কিন সামরিক কমপ্লেক্স এই সংঘাতকে আন্তর্জাতিক রূপ দেয়। আফগান মুজাহিদদের সামরিক প্রশিক্ষণ, টাকা-পয়সার যোগান ইত্যাদিতে শামিল করা হয় সৌদি রাজতন্ত্র এবং কুখ্যাত পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইকে। এই মুজাহিদদেরই আরেক সংস্করণ তালেবান বাহিনী। যারা বরাবরের মতো নিয়মিতভাবে পাকিস্তান এবং সৌদি রাজতন্ত্রের মদদ পেয়ে এসেছে। 

তাদের সিন্ডিকেটের গভীরে ছিল মার্কিন সামরিক কমপ্লেক্স বা মার্কিন শাসক শ্রেণী। আফগান থেকে কমিউনিস্ট শাসন হটাতে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নিজের হাতে তৈরি করা জঙ্গিবাদকেই যখন নাইন ইলেভেন বা টুইন টাওয়ার হামলার জন্য দায়ী করা হয়, অথবা তালেবানদের ঘনিষ্ঠ ইসলামী জঙ্গি নেতা ওসামা বিন লাদেনকে পাকড়াও করার জন্য এই মার্কিনই পাকিস্তানের মাটিতে সামরিক অভিযান চালায়; পাকিস্তানের অনুমতির তোয়াক্কা না করেই, তখন ব্যাপারগুলো সাধারণ মানুষের কাছে বেশ গোলমেলে ঠেকে বা বিভ্রান্তিকর বলে মনে হয়। অথচ, আপনি যদি ঘটনাবলীর গভীরে প্রবেশ করেন, তাহলে সহজেই দেখতে পাবেন সব হোতাদের সুতা এক খুঁটিতেই বাঁধা।

আফগানিস্তানে তালেবানবিরোধী বিক্ষোভ 

এবার তালেবানদের প্রায় বিনা যুদ্ধে কাবুল দখলের ঘটনা যদি আমরা বিশ্লেষণ করি, তাহলে আমাদের ফিরে যেতে হবে ২০২০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি কাতারের রাজধানী দোহার শেরাটন গ্র্যান্ড হোটেলে মার্কিন সরকার এবং তালেবান নেতাদের মধ্যে সম্পাদিত শান্তিচুক্তির কাছে। সেই চুক্তিতে স্বাক্ষরদাতা ছিলেন মার্কিন সরকারের প্রতিনিধি জালমে খলিলজাদ এবং তালেবানদের রাজনৈতিক বিভাগের প্রধান নেতা মোল্লা আব্দুল গনি বারদার। সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন ট্রাম্প সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মি. মাইক পম্পেও। সেই চুক্তিতেই বলা হয়েছিলো, ১৪ মাসের মধ্যে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সেনারা আফগানিস্তান ছাড়বে। বিনিময়ে তালেবানরা আল-কায়েদা সন্ত্রাসীদের তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকা ব্যবহার করতে দেবে না। এই চুক্তিতে আরো বলা হয়, যদি তালেবানরা চুক্তির শর্ত মেনে চলে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তালেবানদের উপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং আফগান সরকারকে চাপ দেবে তালেবানদের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তি সম্পাদন করতে। যার আওতায় পাঁচ হাজার তালেবান যোদ্ধার বিনিময়ে এক হাজার আফগান সেনাকে তালেবানরা মুক্তি দেবে।

উল্লেখ করার বিষয় হলো, এই চুক্তি প্রক্রিয়ায় আশরাফ গনির নেতৃত্বাধীন আফগান সরকারকে কার্যত যুক্তই করা হয়নি। ফলে আফগান রাষ্ট্রপতি জনাব আশরাফ গনি তখনই বুঝতে পেরেছিলেন, মার্কিনের পুতুল সরকার হিসেবে তার দিন ফুরিয়ে এসেছে। তার মার্কিন প্রভুরা তাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে এবং কার্যত তালেবানদের হাতে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ ভার সমর্পণ করেছে। ক্ষমতাচ্যুত আফগান রাষ্ট্রপতি জনাব আশরাফ গনি তখন ভালো করেই বুঝতে পেরেছিলেন যে, তিন লাখ আফগান সেনা তার কমান্ড শুনবে না। তারা শুনবে মার্কিন নির্দেশ। ফলে চুক্তির পরিণতি অনুযায়ীই তালেবানদের কাবুল অভিযানের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিরোধ হয়নি। সেকারণে বিনা যুদ্ধেই কাবুলের মসনদ হাসিল করলো তালেবানরা। 

চুক্তির স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে আফগানিস্তানে তালেবানদের পুনরোত্থানের হিসাব আগেই কষেছিল বিশ্ব রাজনীতির কুশীলবরা। তাই দোহা চুক্তি সম্পাদনের পরপরই একে স্বাগত জানায় চীন, পাকিস্তান, ভারত, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং আজকের পুঁজিবাদী রাশিয়া। এসব রাষ্ট্রগুলোর শাসকরা তালেবানদেরও এক প্রকার স্বাগত জানায় এবং একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। যদিও অনেক আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক সেদিন বলেছিলেন, এর ফলে জঙ্গি তালেবানরা এক ধরনের আন্তর্জাতিক বৈধতা পেয়ে যাবে। তারপরও সে কথায় কেউ কর্ণপাত করেননি। ফলে টাকার বস্তা নিয়ে আফগান ছেড়ে হেলিকপ্টার নিয়ে পালানোর অপেক্ষায় ছিলেন এক সময়ের অর্থনীতিবিদ এবং ক্ষমতাচ্যুত আফগান রাষ্ট্রপতি জনাব আশরাফ গনি। মার্কিনের পুতুল সরকার হিসেবে তিনি সফলতার সঙ্গে প্রতিবেশী তাজিকিস্তানে পলায়নের কাজটি সম্পন্ন করতে পেরেছেন। পক্ষান্তরে পেছনে ফেলে গেছেন জান ও মালের নিরাপত্তা বিহীন অসহায় আফগান জনগণকে। বিশেষ করে, মধ্যযুগীয় নিপীড়নের মুখোমুখি আফগান নারী সমাজকে এবং আধুনিক গণমাধ্যমসমূহকে। 

সুতরাং আফগানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি থেকে এ কথাই পুনরায় প্রমাণ হয় যে, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যার বন্ধু, তার শত্রুর প্রয়োজন নেই”। লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ছাড়াও তালেবানদের বেশ কিছু নয়া বন্ধু বিশ্বের মানুষ এখন দেখতে পাচ্ছে। এরা প্রত্যেকেই এখন তালেবানদের সঙ্গে সওদা করছে। মার্কিন যেমন তালেবানদের মিনতি করছে আল কায়েদা থামাতে। তেমনি চীন তালেবানদের মিনতি করছে উইঘুরে তৎপর ইতিম জঙ্গিদের থামাতে। রাশিয়া বলছে মধ্য এশিয়ার আধিপত্য এবং চেচেন জঙ্গিদের কথা, ভারত বলছে কাশ্মীরের লস্কর এ তৈয়বাকে নিয়ন্ত্রণের কথা। আর পাকিস্তানের তো সব দিক থেকেই পোয়াবারো! সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এই তো আফগানিস্তান নিয়ে সাদামাটা ভূ-রাজনীতি।ৎ

এখন প্রশ্ন হলো, আফগানিস্তান নিয়ে বৈশ্বিক কুশীলবদের এই ভূ-রাজনীতি সফল হবে কিনা? তালেবানরা তাদের আদর্শ বদলাবে কিনা? সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা এখনই কঠিন। কারণ, পরিস্থিতি প্রতিনিয়তই বদলাচ্ছে এবং নতুন নতুন ঘটনা ঘটছে। তবে প্রথম তালেবান শাসনের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, উগ্র হানাফি মতবাদ ও দেওবন্দী ঘরানার কঠোর শরিয়াভিত্তিক শাসনব্যবস্থা থেকে সরে আসা তালেবানদের জন্য খুবই কঠিন। কারণ, সেখান থেকে সরে এলে মাঠ পর্যায়ের তরুণ তালেবান যোদ্ধাদের ধরে রাখা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হবে। আর এই মাঠ পর্যায়ের ধর্মান্ধ তরুণ তালেবান যোদ্ধাদের উপর ভর করেই আফগান মোল্লাতন্ত্রের শাসন ও আধিপত্য টিকে আছে। পাশাপাশি বিলিয়ন ডলারের মাদক ব্যবসা এবং অস্ত্র ব্যবসার নেটওয়ার্কও তাদের ধরে রাখতে হবে। নিজেদের কতৃত্ব রক্ষার প্রয়োজনে। সুতরাং এবারের তালেবান শাসন আগের চেয়ে অনেক উদার হবে বলে তালেবান মুখপাত্র আমির খান মুত্তাকি সাংবাদিক সম্মেলনে যে বক্তব্য দিয়েছে, তা আসলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং পশ্চিমা বিশ্বের সহানুভূতি কুড়ানোর এক কৌশল মাত্র। 

আদর্শগত বিচ্যুতি যে কত আত্মঘাতী হতে পারে তার বিরাট উদাহরণ আফগানিস্তানের কমিউনিস্ট পিডিপিএ দলের করুণ পরিণতি। এই দলের ভেতরকার খাল্ক এবং পারচাম গ্রুপের দ্বন্দ্বের সুযোগে মার্কিন অনুপ্রবেশ ঘটে এবং পরিণামে কমিউনিস্ট পিডিপিএ দলটিই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ফলে সেই শূন্যস্থান পূরণের জন্য কোনো উদার গণতন্ত্রী দল তৈরি হয়নি। বরং জন্ম হয় ভয়ানক এই জঙ্গিবাদী তালেবান গোষ্ঠীর। আমি মনে করি, আফগানিস্তানে এক সময়  ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পিডিপিএ দলের ভেতরকার খাল্ক এবং পারচাম গ্রুপের দ্বন্দ্ব কার্যকর উপায়ে সমাধান করতে পারলে আজকের এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। খাল্ক গ্রুপ ছিলো অনেকটা প্রাচীনপন্থী এবং তাদের ভাষায় বিশুদ্ধতাবাদী আর পারচাম ছিলো আধুনিক। দেখা গেলো, তথাকথিত এই বিশুদ্ধতাবাদী খাল্ক গ্রুপের প্রধান নেতা নূর মহাম্মদ তারাকিকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হত্যা করে তারই গ্রুপের লোকেরা। ক্ষমতায় আসে একই গ্রুপের হাফিজুল্লাহ আমিন। এই হাফিজুল্লাহ আমিনের শাসন এতই স্বৈরাচারী এবং অজনপ্রিয় ছিলো যে, তাকেও সরে যেতে হয়। 

এরপর ক্ষমতায় আসে অপেক্ষাকৃত উদার এবং আধুনিক পারচাম গ্রুপের নেতা বারবাক কারমাল। তিনি খাল্ক এবং পারচাম উভয় গ্রুপের নেতাদের নিয়েই সরকার গঠন করেন। কিন্তু তত দিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। সাম্রাজ্যবাদ আফগানিস্তানে অনেকটাই গুছিয়ে নিয়েছে এবং কারমালের মিত্র সোভিয়েত ইউনিয়নের পার্টিতেও তখন বিলুপ্তির ঘণ্টা বেজে উঠেছে। তালেবানদের দ্বারা আফগান কমিউনিস্ট নেতা কমরেড ড. নজিবুল্লাহর প্রকাশ্য ফাঁসির মধ্য দিয়ে আফগান বামপন্থার করুণ অবস্থা আমাদের চোখের জলে দেখতে হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে, কমরেড ড. নজিবুল্লাহর প্রকাশ্য ফাঁসির মধ্য দিয়ে তালেবানরা আফগান কমিউনিস্ট আন্দোলনকে হত্যা করেনি, তারা হত্যা করেছে আধুনিক ও সমৃদ্ধ আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ। 

সে কারণে, আজকের তালেবান নেতারা মুখে যাই বলুক না কেন, আগামী দিনের আফগান হবে সারা দুনিয়ার উগ্রবাদী ও ধর্মীয় জঙ্গিদের এক অভয়ারণ্য। আর সেটি খুব স্বাভাবিকভাবেই  হবে দক্ষিণ এশিয়া এবং গোটা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য বিরাট হুমকি। সেই হুমকির সঙ্গে সমঝোতা করে বাংলাদেশ কেন, পৃথিবীর কোনো দেশই নিরাপদ থাকতে পারবে না।

লেখকঃ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক এবং কলাম লেখক   
 

ঢাকা/তারা

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়