ঢাকা     বুধবার   ০৬ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ২২ ১৪২৯ ||  ০৬ জিলহজ ১৪৪৩

গৌরব, সংগ্রাম, সাফল্যে আওয়ামী লীগ

সৈয়দ আরিফ হোসেন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:১৪, ২৩ জুন ২০২২  
গৌরব, সংগ্রাম, সাফল্যে আওয়ামী লীগ

১৭৫৭ এর ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে অস্তমিত হওয়া আমাদের স্বাধীনতার সূর্য পুনরায় উদিত হয় ১৯৪৯ এর ২৩ জুন। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে সেদিন আওয়ামী লীগের যাত্রা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল আমাদের সুদীর্ঘ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, স্বাধিকার এবং আমাদের স্বকীয়তা সমুন্নত রাখা। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় তদানীন্তন সরকার। শুরু হয় জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন। সুশাসন নয়, বরং শোষণের আগ্রাসন নিয়ে তারা আমাদের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে, শেষ করে দিতে চায় আমাদের ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি। কালো মেঘে ছেয়ে যায় বাঙালির ভাগ্যাকাশ। বাঙালির এই চরম দুঃসময়ে ত্রাতার ভূমিকায় আবির্ভাব হয় আওয়ামী লীগের। বাঙালি অদম্য জাতি, বীরের জাতি। আমরা ঐক্যবদ্ধ হই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে।

শোষণের বিরুদ্ধে সকল আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। প্রতিটি গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক এবং সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পায় আওয়ামী লীগ। জাতির জন্য যখন যা প্রয়োজন মনে করেছে, সেটি বাস্তবায়ন করেছে দলটি। তাই তো আওয়ামী লীগের অর্জন গণতান্ত্রিক মানুষের অর্জন। ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগ পরিণত হয় গণমানুষের সংগঠনে।

৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, আইয়ুবের সামরিক শাসন-বিরোধী আন্দোলন, ৬৪-এর দাঙ্গার পর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, ৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন ও ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পথ বেয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ২৪ বছরের আপসহীন লড়াই-সংগ্রাম এবং ৭১ এর সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় আমাদের হাজার বছরের লালিত স্বপ্ন, পরম কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। আমরা পাই একটি স্বাধীন পতাকা, স্বাধীন মাত্রচিত্র, স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ। তাই বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ- এই তিনটি নাম ইতিহাসে অবিনশ্বর, চির অমলিন। ইতিহাসে এই তিনটি নাম একই সূত্রে গাথা।
স্বাধিকার আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা, সর্বশেষ সামরিক স্বৈরশাসন থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের প্রতিটি অর্জনের লড়াই-সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী একটি মাত্র রাজনৈতিক দল হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর আওয়ামী লীগে প্রবল নেতৃত্ব সংকট দেখা দেয়া। অন্ধকার নেমে আসে জাতির জীবনে। হরণ করা হয় মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। স্বাধীনতাবিরোধী এবং স্বৈরশাসকের দুঃশাসনে ম্লান হতে থাকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।

এমতাবস্থায়, মহান মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতি-  বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরশাসকের কবল থেকে বাংলার মানুষকে মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে দেশে ফেরেন জাতির পিতার কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। দায়িত্ব নেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর। পরম একাগ্রতা এবং নিষ্ঠার সাথে নিরলসভাবে কাজ করে যান বাংলার মানুষের জন্য। কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় স্বাধীনতাবিরোধী এবং স্বৈরাচার শাসকের হামলার শিকার হন আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা। তাঁকে লক্ষ্য করে বারবার গুলি এবং বোমাবর্ষণ করা হয়। কিন্তু মহান রাব্বুল আলামিন এবং মুক্তিকামী মানুষের দোয়ায় তিনি বেঁচে থাকেন বাংলার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য। হয়ে ওঠেন গণমানুষের নেত্রী, বাংলার দুঃখী মানুষের নেত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ, প্রাজ্ঞ এবং সাহসী নেতৃত্বে বাংলাদেশের ইতিহাসে আওয়ামী লীগই একমাত্র দল, যাদের টানা তিন মেয়াদসহ মোট চারবার সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আজ আওয়ামী লীগের অপ্রতিরোধ্য জনসমর্থন এবং জনপ্রিয়তায় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক অস্তিত্ব সংকটের মুখে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

গত দু'বছর বিশ্ব মহামারি করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত ছিল। জাতির সেই মহা ক্রান্তিলগ্নেও আওয়ামী লীগ সরকার সফলতার সাথে সবকিছু মোকাবিলা করেছে। কৃষক, দিনমজুর থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী পর্যন্ত সকল শ্রেণি পেশার মানুষের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে লক্ষাধিক কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা এবং তার বাস্তবায়ন করেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।

এছাড়াও শেখ হাসিনার অনুপ্রেরণা ও নির্দেশনায় সারাদেশে আওয়ামী লীগ এবং এর ভ্রাতৃপ্রতিম ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেছেন। দুস্থ ও অভাবগ্রস্ত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া থেকে শুরু করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বিনামূল্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ করা হয়েছিল ধারাবাহিকভাবে। ফলশ্রুতিতে সফলতার সাথেই মহামারি করোনা মোকাবিলা করে দেশ পুনরায় উন্নয়ন, অগ্রগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। 

আসছে ২৫ শে জুন সকল বিপত্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ স্থাপনা পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জের প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতিও নিজে পর্যবেক্ষণ করছেন তিনি। সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে মানবিক সহায়তা হিসেবে ইতিমধ্যে এক কোটি ৭২০ মেট্রিক টন চাল, দুই কোটি ৭৬ লাখ টাকা নগদ সহায়তা এবং ৫৮ হাজার শুকনো ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী সংগঠনগুলো বন্যার শুরু থেকেই মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। উদ্ধারকর্ম থেকে শুরু করে অভুক্তদের হাতে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে।   

সবশেষে বলতে চাই, আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাফল্য ও অর্জনের নাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ মানেই স্বাধীনতা, একটি লাল সবুজ পতাকা, একটি স্বাধীন-সার্বভৌম মানচিত্র। আওয়ামী লীগ মানেই দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, আওয়ামী লীগ মানেই আর্তমানবতার সেবায় পাশে থেকে কাজ করা।

লেখক: সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ
 

/তারা/ 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়