ঢাকা, শুক্রবার, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

ধামরাইয়ে আ'লীগে বিরোধ জিইয়েই দল গোছাচ্ছেন এমপি!

সাভার প্রতিনিধি : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-০৩ ১১:৫৮:৫৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-০৩ ১১:৫৮:৫৯ পিএম

ঢাকার ধামরাইয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের দ্বন্দ নিরসনে বর্তমান এমপি ও সাবেক এমপিকে এক সঙ্গে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তবে সেই নির্দেশনা না মেনে দলের সভাপতিকে এড়িয়ে বিরোধ জিইয়ে রেখেই ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে সম্মেলন করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় এমপি বেনজির আহমদের বিরুদ্ধে। 

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি এমএ মালেককে এড়িয়ে করা কমিটিতে দলে নবাগত ও সাবেক বিএনপি কর্মীদেরকে নেতৃত্বে আনছেন বর্তমান এমপি বেনজির আহমদ। এতে করে দলের বিরোধ নিস্পত্তির জায়গায় বিরোধিতা বাড়ছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

ধামরাই আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আব্দুল লতিফ বলেন, ধামরাইয়ে দুই এমপির বিরোধিতা বহুদিনের। সাবেক এমপির সময়ে দল গোছানোর ফল হিসেবে ১৬ ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীদের জয়লাভ ও পৌরসভার নির্বাচনে আ'লীগ জয়লাভ করেছিলো। ফলে সংগঠন গোছাতে তাকে সঙ্গে রাখলে দল এগিয়ে যেতো।

তিনি বলেন, দলের দুই নেতা একসঙ্গে চললে আওয়ামী লীগ আরো শক্তিশালী হয়ে উঠতো। প্রবীন নেতা হিসেবে বর্তমান এমপির সেই উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু তা না করে তিনি উপজেলার সভাপতিকে রেখেই যেভাবে ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠনেও ভূমিকা রাখছেন তা বিরোধিতাই বাড়াচ্ছে, কমাচ্ছে না।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অভিযোগ রয়েছে, গত দুই মাসে উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্তত সকল ওয়ার্ড কমিটি ও পৌরসভায় বিভিন্ন এলাকায় কমিটি ও বিভিন্ন ইউনিয়নে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির সম্মেলনে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে এমপি বেনজির আহমদ ও তার পন্থী হিসেবে পরিচিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সাকু উপস্থিত থাকলেও অনেক সভার খবরই জানতেন না উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি এমএ মালেক। এছাড়া গঠন হওয়া কমিটিতেও মালেক পন্থী হিসেবে পরিচিতরা জায়গা পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

গঠিত হওয়া বিভিন্ন কমিটিতে সাবেক বিএনপি নেতা, মামলার আসামীরা জায়গা পেয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধামরাই পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের সভাপতি হয়েছেন কামাল হোসেন। তিনি বিএনপির প্যানেল থেকে ওই ওয়ার্ডের নির্বাচিত কমিশনার ছিলেন। গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে আব্দুল কাদের নামে এক ব্যক্তিকে। অভিযোগ আছে ৪ বছর আগেও বিএনপি কর্মী ছিলেন তিনি। বিএনপির জ্বালাও পোড়াও আন্দোলনের সময় ছাত্রদলের মিছিল থেকে আটক হয়েছিলেন কাদেরের ভাই ইমরান। একই ইউনিয়নে ৬নং ওয়ার্ডের সভাপতি হয়েছেন মো: শামু ভান্ডারি ওরফে শামু। তার নামে রয়েছে খুনের মামলা (৯৯/১২, তারিখ- ২৪/১২/২০১০)। এরা সবাই স্থানীয় এমপি বেনজির আহমদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। 

ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন বলেন, রাজনীতির মঞ্চে বিরোধ নেই। তবে সম্মেলনকে ঘিরে একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা চলে, সেটা রয়েছে। সেভাবেই ওয়ার্ড কমিটির সম্মেলন শেষ করা হয়েছে। 

ওয়ার্ড কমিটির সম্মেলনে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি থাকছেন, কিন্ত উপজেলা সভাপতি থাকছেন না এমন বিষয় উল্লেখ করলে তিনি বলেন, সাবেক এমপির দেয়া একটি মামলায় পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও একজন কাউন্সিলর হেনস্তার শিকার হন। পরে ভুক্তভোগীরা বিব্রত হয়ে সাবেক এমপির বিরুদ্ধে সভা করে তার প্রতি অনাস্থা জানায়৷ এ কারণেই সাবেক এমপি নিজেকে সম্মেলন থেকে বিরত রাখছেন।

এবিষয়ে ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সাকু বলেন, সাবেক এমপি আমাদেরকে তার সময়ে রাজনীতি থেকে বিরত রাখতেন। আমাদের নামে মামলা দিয়েছেন। তাই স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে। এ কারণেই সে কোন সম্মেলনে থাকতে পারছে না।

এবিষয়ে ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ মালেক বলেন, উপজেলায় সম্মেলনের জন্যে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তারা যখন দেখল তৃনমূলে আমার কর্মী সমর্থক বেশি তখন আমাকে বাদ দিয়েই তারা কমিটি গঠন করা শুরু করল। উপজেলায় এসে ওয়ার্ড কমিটি, ইউনিয়ন কমিটির সম্মেলনে জেলা কমিটির সভাপতি উপস্থিত থাকেন আমাকে বাদ দিয়ে। এবং অগঠনতান্ত্রিক উপায়ে কমিটি করে দেন। এভাবেই সব কমিটি করা হয়েছে। সভাপতিকে বাদ দিয়ে করা কমিটি অবৈধ। এসব কমিটি কোনভাবেই এপ্রুভাল পেতে পারে না।

তিনি বলেন, দলের বিরোধ নিরসনে আমরা বসেছি। আমি এমপি থাকাকালে মাঠের রাজনীতি করেছি সবাই একসঙ্গে। একারণেই একসঙ্গে ১৬টি ইউনিয়নে আমরা নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলাম। এছাড়া পৌরসভায়ও আমরা বিজয়ী হতে পেরেছিলাম। দলকে সামনে এগিয়ে নিতে নিজেদের ঐক্যের বিকল্প নেই। তবে ঐক্যের নাম দিয়ে দলে বিএনপি, স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার বিরোধী আমি।

সম্মেলনে নিজের উপস্থিত না থাকার বিষয়ে এমএ মালেক রাইজিংবিডিকে বলেন, আমাকে এড়িয়ে কমিটি করা হচ্ছে। আমাকে সম্মেলনের কথা জানানো হয় না। সেখানে দলের গঠনতন্ত্রকে এড়িয়ে কমিটি করা হচ্ছে। এসবের প্রতিবাদ করেছি বলেই আমাকে সাইড করে দেয়া হয়েছে। পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগার ও ত্যাগীদের বাদ দিয়ে  কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

এবিষয়ে জানতে বারবার যোগাযোগ করা হলেও গণমাধ্যমে মন্তব্য করতে রাজি হননি ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ধামরাইয়ের এমপি বেনজির আহমদ।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল রাইজিংবিডিকে বলেন, জেলাগুলোকে বলা হয়েছে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করার জন্যে। এ থেকে যদি কেউ বাদ পড়ে তাহলে সেই সম্মেলন গ্রহণ করা হবে না।

 

সাভার/আরিফুল ইসলাম সাব্বির/নাসিম 

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন