ঢাকা     সোমবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ৬ ১৪২৭ ||  ০৩ সফর ১৪৪২

‘জাতীয় পার্টিতে কারো জমিদারি চলবে না’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:১৮, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
‘জাতীয় পার্টিতে কারো জমিদারি চলবে না’

‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতে গড়া জাতীয় পার্টিতে কারো জমিদারি চলবে না। এটা কারো ব্যক্তিগত দল নয়। এই পার্টির মালিক সর্বস্তরের নেতাকর্মীরাই। এজন্য সবাইকে মিলে জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করতে হবে’ বলে মন্তব‌্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন হলে জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, ‘১৯৯০ সাল পর্যন্ত জাতীয় পার্টি দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মাঠে ছিল। ’৯১ সালের পর থেকে জুলুম-নির্যাতন আর হামলা-মামলা দিয়ে জাতীয় পার্টিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে। নানামুখী ষড়যন্ত্র করা হলেও জাতীয় পার্টিকে দুর্বল করতে পারেনি। বরং অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রে জাতীয় পার্টি দুর্বল হয়েছে। তাই এই ধরনের চক্রান্ত থেকে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

জাতীয় পার্টি আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে দাবি করে পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা বলেন, ‘দেশের মানুষ জাতীয় পার্টিকে আরো শক্তিশালী রাজনৈতিক প্লাটফর্ম হিসেবে দেখতে চায়। দু’দলের বিকল্প হিসেবে তারা জাতীয় পার্টিকেই চায়। দেশ ও জনসাধারণের দায়িত্ব গ্রহণ করতে আমরাও প্রস্তুত রয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পরেই জাতীয় পার্টি তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি। বিএনপি নেতৃত্ব সংকটে বিলীন হতে পারে, সেক্ষেত্রে জাতীয় পার্টিই একমাত্র বিকল্প শক্তি হিসেবে সাধারণ মানুষের সামনে রয়েছে। এই সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।’

জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক লিয়াকত হোসেন খোকার সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, গোলাম কিবরিয়া টিপু, এস.এম ফয়সল চিশতী, হাজি সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, আমন্ত্রিত আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহসহ স্বেচ্ছাসেবক পার্টির কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন জেলা নেতৃবৃন্দ।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘যে মানুষটি নয় বছর সফলতার সাথে দেশ ও মানুষের ভাগ্যন্নোয়নে কাজ করেছেন, সেই মানুষটি কখনো স্বৈরাচার হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাস লালন করিনি, ক্যাসিনো ব্যবসা করিনি। আমরা গুণ্ডা লালন-পালন করিনি। আমাদের স্বেচ্ছাসেবক পার্টির নেতাকর্মীরা দেশের জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করছেন।’

সভাপতির বক্তব্যে লিয়াকত হোসেন খোকা বলেন, ‘১৯৮৩ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাত ধরে রাজনীতিতে এসেছি। সেই থেকে এখনো আছি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এরশাদের আদর্শ লালন করে জাপার রাজনীতিতে থাকব। যারা আমাদের নিয়ে সমালোচনা করেন, দেখে যান স্বেচ্ছাসেবক পার্টি কতটুকু শক্তিশালী।’

তিনি আরো বলেন, ‘ছোট বেলায় আমি পিতা-মাতা হারিয়ে এতিম হয়েছি। রাজনীতিতে এসে সাবেক রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পিতা-মাতার সেই ভালবাসা পেয়েছি।’সেসময় তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতির জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

সেচ্ছাসেবক পার্টির কেন্দ্রীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন হলে সারাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটে। মাথায় হলুদ ক্যাপ, হলুদ টি শার্ট ও হলুদ পাঞ্জাবি পরা নেতাকর্মীরা সম্মেলনে বাড়তি নজর কাড়েন। পুরুষদের পাশাপাশি সম্মেলনে আসেন উল্লেখযোগ্য সংখ‌্যক নারী নেত্রী, কর্মী ও সমর্থক।

ঘোড়ার গাড়িতে বাদ্য বাজনা নিয়ে সম্মেলনে আসেন স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক লিয়াকত হোসেন খোকা ও সদস্য সচিব বেলাল হোসেন।

জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টি কেন্দ্রীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব মো. বেলাল হোসেনের পরিচালনায় সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর সিকদার লোটন, আব্দুস সাত্তার মিয়া, নাজমা আক্তার এমপি, সংসদ সদস্য ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী, পীর ফজলুর রহমান মেজবাহ্ এমপি, আহসান আদেলুর রহমান আদেল এমপি, উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, জহিরুল ইসলাম জহির, আরিফুর রহমান খান, হেনা খান পন্নি, সরদার শাহজাহান, শফিকুল ইসলাম শফিক, মোস্তফা আল মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, শেখ আলমগীর হোসেন, সাংসদ নুরুল ইসলাম ওমর প্রমুখ।

 

ঢাকা/নঈমুদ্দীন/সনি

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়