Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৫ আগস্ট ২০২১ ||  শ্রাবণ ২১ ১৪২৮ ||  ২৪ জিলহজ ১৪৪২

রিমান্ড মঞ্জুরের আদেশ শুনে আদালতেই জ্ঞান হারান হেফাজত নেতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২৩:৪৫, ১৬ জুন ২০২১  
রিমান্ড মঞ্জুরের আদেশ শুনে আদালতেই জ্ঞান হারান হেফাজত নেতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের সহিংসতায় গ্রেপ্তার জেলা হেফাজতের সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক মুফতি আব্দুল হক রিমান্ড মঞ্জুরের আদেশ শুনে আদালতেই সংজ্ঞা হারান। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাত ৯টার দিকে জেলা কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

বুধবার (১৬ জুন) বিকেলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আল আমিনের আদালতে এ ঘটনা ঘটে।

মুফতি আব্দুল হক জেলা শহরের কান্দিপাড়ার জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছির মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক। গত ১০ জুন রাতে অভিযান চালিয়ে আব্দুল হককে কান্দিপাড়ার জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,  মুফতী আব্দুল হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। বুধবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আল আমিন তাঁর ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শুনানির সময় আব্দুল হক আদালতেই উপস্থিত ছিলেন। শুনানি শেষে আদালতের এজলাস থেকে বের হয়ে বাইরে টেবিলের উপরে আসরের নামাজ আদায় করেন। নামাজ পড়ার সময় সংজ্ঞা হারান। পরে তাকে উদ্ধার করে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তির পরামর্শ দেন। সেখানে প্রায় আড়াই থেকে তিনঘন্টা রেখে রাত ৯টার দিকে তাকে জেলা কারাগারে নিয়ে যায় পুলিশ।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাজমুল হক জানান, তার রক্তচাপ-ডায়াবেটিক ভালো আছে। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির কারণে চিন্তা বা মস্তিস্কে রক্তক্ষরণের (ব্রেইন স্ট্রোক) কারণে সাধারণত কোনো রোগী অচেতন হয়ে যেতে পারেন। তবে ওই রোগী ব্রেইন স্ট্রোক করেননি। তাকে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রোগীর অবস্থা ভালো।
  
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল হক বলেন, তিন দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুরের আদেশ শুনে হেফাজতের ওই নেতা অভিনয় করে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার দিকে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে জেলা কারাগারে পৌঁছানো হয়। তিনি এখন পুরোপুরি সুস্থ আছেন। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে সংজ্ঞা হারানোর অভিনয় করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে।

রুবেল/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়