ঢাকা     বুধবার   ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ২৫ ১৪২৯

আবারও আগুন সন্ত্রাস ফিরিয়ে আনছে বিএনপি: কাদের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৫৮, ২ ডিসেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৭:৩৫, ২ ডিসেম্বর ২০২২
আবারও আগুন সন্ত্রাস ফিরিয়ে আনছে বিএনপি: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের (ফাইল ফটো)

১০ ডিসেম্বরের সামবেশকে সামনে রেখে রাজধানীতে ‘গাড়ি পোড়ানো’র মাধ‌্যমে বিএনপি আবারও আগুন সন্ত্রাস শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বিএনপিকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘আগুন সন্ত্রাস করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।’

শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ‌্যানে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ‌্যরাতে রাজধানীর মতিঝিলে বিআরটিসির একটি দোতলা বাস পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শুরু হয়ে গেছে...। তারা আগাম জানান দিচ্ছে যে, তারা সন্ত্রাস করবে। ১০ ডিসেম্বরকে সামনে রেখে তারা জানান দিলো, তারা সন্ত্রাস করবে। আবারও আগুন সন্ত্রাস ফিরে আসছে।’

দলটির হুঁশিয়ার করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘খেলা হবে। আমাদের কর্মীরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ললিপপ খাবে, এটা মনে করবেন না। সারা বাংলায় নেত্রী বলে দিয়েছেন, প্রত‌্যেক ওয়ার্ডে সতর্ক পাহারা দেবে নেতাকর্মীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ‌্যালয়সহ সকল ক‌্যাম্পাসে... সারা বাংলাদেশে... জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, গ্রাম, সব জায়গায় সতর্ক পাহারা থাকবে।’

‘আগুন নিয়ে খেলা শুরু হয়ে গেছে। খেলা হবে। হবে খেলা। আন্দোলনে হবে, নির্বাচনে হবে, ডিসেম্বরে হবে, খেলা হবে। ভোট চুরির বিরুদ্ধে, আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, হাওয়া ভবনের বিরুদ্ধে খেলা হবে। অর্থপাচারের বিরুদ্ধে খেলা হবে। হবে খেলা। সুশৃঙ্খল, মারামারি নয়, পাল্টাপাল্টি নয়। তবে, আক্রমণ করলে পাল্টা আক্রমন হবে কি না, সময় বলে দেবে।’

বিএনপিকে ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ‌্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হলেও দলটির নেতিবাচক অবস্থানের সমালোচনা করেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের সম্মেলন ৬ তারিখে নিয়ে আসছি। আপনাদের যাতে ডিস্টার্ব না হয়। শুনবে না...। স্বাধীনতার ঘোষণাস্থল, মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাস্থল... জিয়াউর রহমান তার এক লেখায় লিখেছিলেন, ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে আমরা স্বাধীনতার গ্রিন সিগনাল পেয়ে গিয়েছিলাম। সেই জায়গা আপনাদের পছন্দ হয় না। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্তি বাহিনী ও মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করলো, এই জায়গা আপনাদের পছন্দ না।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি ৩৫ হাজার স্কয়ার ফিটের পার্টি অফিসের সামনে থাকতে চায়। অনুমতি না দিলে আইন মানবেন না? রাস্তা অবরোধ করে জনগণের ভোগান্তি বাড়িয়ে সমাবেশ কতদিন ধরে করছেন, মনে আছে?’

‘ফখরুল বলেন, অঘটন ঘটতে পারে। অঘটন সোহরাওয়ার্দী উদ‌্যানে ঘটবে আর নয়াপল্টনে অঘটন ঘটবে না?... তারা বলছেন, এখানে অঘটন ঘটলে আমরা পার্টি অফিসে নিরাপত্তা নিতে পারব। বলে নাই? বলে নাই ফখরুল? বলেছি, পরিবহন চলবে। এর পরও কাঁথা-বালিশ, লেপ-তোশক, কম্বল, মশার কয়েল সব নিয়ে এসে পল্টন এলাকায় তাবু খাঁটিয়ে সেই ফখরুলের নেতারা এসে বসেছেন। আমরা বলেছি, পরিবহন ধর্মঘট হবে না, নেতারা আমাদের অনুরোধ রেখেছেন।’

বিএনপিকে সতর্ক করে দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি এই সমাবেশ থেকে বলতে চাই, বিএনপি বিআরটিসির গাড়ি পুড়িয়েছে। আর যদি আগুন নিয়ে আসেন, সন্ত্রাস করেন, সমুচিত জবাব দেওয়া হবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে।’       

বিএনপি জঙ্গিদের মাঠে নামিয়েছে
বিএনপি জঙ্গিদের মাঠে নামিয়েছে, সরকারের কাছে এমন খবর আছে, জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তিকে মাঠে নামিয়েছেন। এই খবর কি আমরা জানি না? কোথায় টাকা? টাকা আসে দুবাই থেকে। বস্তায় বস্তায় টাকা আকাশে ওড়ে, বাতাসে ওড়ে। হায়রে টাকা, ক্ষমতায় না থাকলেও টাকার অভাব নেই। বলে, ক্ষমতাসীনরা টাকা পাচার করে। ধরা খেয়েছে কে? তারেক আর তার ভাই। নাম নিতে চাই না।’

‘তারেক রহমানের টাকা সিঙ্গাপুরে, আমেরিকায় ধরা পড়েছে। খেলা হবে পাচারের বিরুদ্ধে। আর কোথায় কোথায় পাচার করেছে, সেই খবরও নেওয়া হচ্ছে। এখনও যদি কেউ করে থাকে, সেই খবরও নেওয়া হচ্ছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অর্থপাচারকারী যারাই হোক তাদের ক্ষমা নেই।’

গণফোরামের একাংশের নেতা ড. কামাল হোসেনকে বাংলাদেশের রাজনীতির ‘রহস‌্য পুরুষ’ অভিধা দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তিনি অবশেষে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেছেন, বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে, সরকার নাকি টাকা পাচার করছে।’

‘একাত্তর সালে বঙ্গবন্ধুকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়, কামাল হোসেন সাহেব গাড়িতে করে এসে আজকে ইন্টারকন্টিনেন্টালে গাড়ি থেকে নেমে যান। ভেতরে ঢুকে পড়েন। খবর পেলাম, তিনি নিজে নিজেই পাকিস্তানিদের সঙ্গে মিলে মিশে চলে গেছেন পাকিস্তানে। পাকিস্তানে পলায়ন। ভাইরে, আমরা পলাই না। কামাল হোসেন বঙ্গবন্ধুর দয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন, লজ্জা করে না।’

তিনি বলেন, ‘আজকে কামাল হোসেন অর্থ পাচারের কথা বলেন। আপনি কী করেছেন? কালো টাকা সাদা করেছেন। আপনি অর্থপাচারকারী তারেকের নাম বলেননি। নিজে অর্থ পাচার করেন আপনারা ইহুদি জামাতার মাধ‌্যমে। কত কোটি টাকা পাচার করেছেন, দেশের মানুষ জানতে চায়। ট‌্যাক্স ফাঁকি দিয়ে আদালতে গিয়ে তারপর আদেশ নিয়ে ট‌্যাক্স জমা দিয়েছেন। ট‌্যাক্স ফাঁকি দিয়েছেন আপনি। তিনি এখন শেখ হাসিনাকে কটাক্ষ করে বড় বড় কথা বলেন।’

‘পালাবে তারেক রহমানরা। কামাল হোসেন, আমরা তো জানি, আপনারা পকেটে সব সময় একটা ভিসা থাকে। সাংবাদিকরাও জানে। হঠাৎ হঠাৎ এই আছে, এই নাই। কোথায়? বিদেশে।’

এক-এগারোতে কামাল হোসেনের ভূমিকার কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ওয়ান ইলেভেনে আপনি, ড. ইউনুস... আপনারা কি ভূমিকা নিয়েছেন? সেদিন জরুরি সরকারের সঙ্গে যোগসাজশ করে আপনারা এখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সরকার গঠন... মাইনাস টু করে সরকার গঠন। সেই রঙিন খোয়াব কর্পূরের মতো উড়ে গেছে।’

‘আজকে আবারো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নামে জরুরি সরকার আনতে চাইছেন। তত্ত্বাবধায়কের ভূত মাথা থেকে নামান। এটা একটা ডেড ইস‌্যু। এটা আর ফিরে আসবে না।’

এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস‌্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, হুমায়ুন কবির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেনের সভাপতিত্বে সম্মেলন সঞ্চলনা করেন দক্ষিণের সভাপতি মেহেদী হাসান, জোবায়ের আহমেদ, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয়।

সম্মেলন উদ্বোধন করেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

পারভেজ/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়