ঢাকা, শুক্রবার, ১০ মাঘ ১৪২৬, ২৪ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

দেশে প্রথম স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় মোবাইল অ্যাপ

জুনাইদ আল হাবিব : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-০৫ ৩:৪৯:৪৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-০৫ ৪:০৫:৪৯ পিএম

সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে রীতিমত লড়াই করেন দেশের অনেক স্বেচ্ছাসেবী। অনেকে পরিবার সামলে, পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক কাজ করতে গিয়ে ঝামেলায় পড়েন। সামাজিক কাজের উদ্যোক্তারা যাতে ঝামেলা ছাড়াই প্রযুক্তির সাহায্যে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন সেই উদ্দেশ্যে SHOPNO30 নামে একটি মোবাইলভিত্তিক অ্যাপ তৈরি করেছেন লিও নিয়াজ মাসুদ খান। স্বেচ্ছাসেবীদের কাজে সহায়তা করতে মোবাইল অ্যাপ বাংলাদেশে এই প্রথম।  অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোর থেকে মোবাইল ব্যবহারকারী ডাউনলোড করতে পারবেন।

অ্যাপটির মাধ্যমে সেচ্ছাসেবীরা সুবিধা বঞ্চিত মানুষ, পথশিশুদের জন্য বস্ত্র কিনতে পারবেন। অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পথশিশুদের খাদ্য সহায়তা দেয়। অ্যাপের মাধ্যমে খাবারও কেনা যাবে। এমনকি পথশিশুদের জন্মদিনও পালন করতে পারবেন উৎসবের মতো আয়োজন করে। অনেক সংগঠন বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি হাতে নেয়। সে ক্ষেত্রে গাছ কেনা যাবে। কেনা যাবে খেলাধুলা সামগ্রীসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র।

নিমার্তা মাসুদ খান জানালেন, অ্যাপের অপশনে যা আছে সংগ্রহ করতে আমরা বিভিন্ন মার্কেটিং করব। সংগ্রহের পর আমাদের সাথে যুক্ত হওয়া এমন কিছু সংগঠনের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। বিশেষ করে নগর বস্তির স্কুলগামী শিশু ও পথশিশুরা এর মাধ্যমে উপকৃত হবে। জন্মদিনে কেক বা খাদ্য ডোনেট বা জন্মদিনে শিশুদের নিয়ে প্রোগ্রাম করতে চাইলে তাও আমরা করে দিব। ভলেন্টিয়ারদের জন্য রেজিস্ট্রেশন অপশন আছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে সংগৃহীত মালামাল বিতরণ করার দায়িত্ব যদি কোনো তরুণ দল নিতে চায় তারাও এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।

স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় কীভাবে এমন একটি অ্যাপের চিন্তা মাথায় এলো জানতে চাইলে মাসুদ খান বলেন, আমি গত চার বছর ধরে স্বেচ্ছাসেবীর কাজ করছি। স্টুডেন্ট ছিলাম। যেমন, গত শীতে আমরা কাপড় সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক সংকটে পড়েছি। এক. যারা দিতে চায় তারা আমাদের কার্যক্রম জানে না। দুই. অনেকে দিতে চাইলেও সংগ্রহ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় বা খরচ থাকে না। তাই ভাবলাম, প্রযুক্তির মাধ্যমে একটা কিছু করা যায় কিনা। অধিক মানুষকে তখন বিষয়টি বলা যাবে আর তারা বাসায় বসেই ডোনেট করতে পারবে। আবার ছোট্ট সেচ্ছাসেবী টিমকেও সাপোর্ট করা যাবে। সেই ভাবনা থেকেই আসলে অ্যাপটি করার চিন্তা মাথায় আসে।

অ্যাপটির মূল কাজ হলো নগরের সুবিধাভোগী মানুষদের সামাজিক দায়বদ্ধতার ঋণ শোধ করার পথ সহজ করা এবং সেচ্ছাসেবী টিমগুলোকে সাপোর্ট করা। কারণ, তারা স্টুডেন্ট। মন বড় তাই তারা এই কাজ করে। আমরা যদি অ্যাপ দিয়ে শীতে ৫ হাজার কাপড়ও সংগ্রহ করতে পারি দেখুন কমপক্ষে একশ সংগঠনকে এর দায়িত্ব দিতে পারবো। এখন পর্যন্ত অ্যাপ দিয়ে বস্ত্র, খাদ্য, বৃক্ষ, খেলনা, শিক্ষা উপকরণ এবং চ্যারিটি ইভেন্ট করার সুযোগ হবে। অ্যাপটির মাধ্যমে শুধু মালামালগুলো ডোনেট করা যাবে।

অ্যাপ তৈরিতে শুরুর দিকের লড়াইটা একাই করতে হয়েছে মাসুদ খানকে। বেতনের একটা অংশ ব্যয় করতে হয়েছে। এখন পাঁচ জনের একটা টিম আছে। মাসুদ খান বলেন, আমরা চাই বছরের ৩৬৫ দিনই জন্মদিনের কেক কাটবো পথশিশুদের নিয়ে। ৩৬৫ দিনই খাবার, পোষাক বিতরণ করা হবে। ৩০ মিনিট ভলেন্টিয়ারিজম হলো আমাদের স্লোগান। যার মূল কথা, প্রতিদিন ৩০ মিনিট ব্যয় করা পরিবারের সবাই মিলে কোনো একটি বিষয়ে। নগরীর প্রতিটি মানুষকেই আমরা জানাতে চাই, ভলেন্টিয়ারিজম একটা স্টাইল, ফ্যাশন। এটি আপনার করা উচিত। আমরা সবশেষে একটি টেকসই নগর বাস্তবায়নে কাজ করে যাব। কাজ করবো, প্রযুক্তির আগ্রাসী সময়ে মানুষের প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতার চির সত্যে- এই বিষয়ে। 

SHOPNO30 হলো ভলেন্টিয়ার স্টাইল ম্যাগাজিন। যার প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ খান। অ্যাপটি মূলত এর চ্যারিটি প্রজেক্ট।  প্রজেক্টের  হেডের দায়িত্বে আছেন রাইসা জাহিন। টিমে আরো আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাকিল আবরার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জাবিদ আনজুম, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির আহসান, এনএইটির সাব্বির। অ্যাপ ডেভেলপারের দায়িত্বে আছেন আরিফ জুয়েল।


ঢাকা/তারা