ঢাকা, রবিবার, ২১ আষাঢ় ১৪২৭, ০৫ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

সেই আসাদের লাইব্রেরির জন্য দেয়া হলো বই

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-১২ ৫:৪৬:৩৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-১২ ৬:৫৭:২৩ পিএম

মাত্র ২০টি বই নিয়ে জামালপুরের প্রত্যন্ত গ্রামে অদম্য উৎসাহে আসাদ একটি পাঠাগার তৈরি করেন। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ‘রের বারান্দায় আসাদের পাঠাগার’ প্রকাশিত হয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল রাইজিংবিডি ডটকম-এ।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর দেশ-বিদেশের অনেক পাঠক আসাদের উদ্যোগের প্রশংসা করে পাঠাগারের জন্য বই উপহার দিতে চান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাইজিংবিডির দুজন পাঠক এমন ইচ্ছে প্রকাশ করলে আসাদকে রাইজিংবিডিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়। আজ বৃহস্পতিবার রাইজিংবিডির কার্যালয়ে আসাদের হাতে দশ হাজার টাকা মূল্যের বই তুলে দেয়া হয়। এর বাইরে বিভিন্ন ম্যাগাজিন, লিটলম্যাগ এবং রাইজিংবিডি থেকে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যাগুলো আসাদের পাঠাগারের জন্য উপহার দেয়া হয়। 

এ সময় রাইজিংবিডির উপদেষ্টা সম্পাদক উদয় হাকিম, সম্পাদক নওশের আলী, ফিচার সম্পাদক তাপস রায়সহ সাংবাদিক এবং কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আরো উপস্থিত ছিলেন দেশের স্বনামধন্য ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের পিআর অ‌্যান্ড মিডিয়া বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মো. হুমায়ুন কবীর এবং একই প্রতিষ্ঠানের মিডিয়া উপদেষ্টা এনায়েত ফেরদৌস।

এনায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘আসাদের এই উদ্যোগ আমাকে মুগ্ধ করেছে। আসাদ বিষয়টি আন্দোলন হিসেবে নিয়েছে। কারণ পাঠাগার দিয়েই সে থেমে নেই। এলাকার মানুষকে বই পাঠে উদ্বুদ্ধ করতে বই নিয়ে সে বাড়ি বাড়ি ঘুরছে। আমি তরুণ আসাদের জীবনের সাফল্য কামনা করি।’

আসাদের ঘরে বৃদ্ধ বাবা-মা। সাত ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছোট। সংসারে অভাব-অনটন লেগেই আছে। একটু স্বচ্ছলতার সন্ধানে কখনো রাজমিস্ত্রী, কখনো-বা দিনমজুরের কাজ করেন আসাদ। পাশাপাশি চলে পড়াশোনা। জীবন সংগ্রামে এত কষ্টের মধ্যেও তিনি পাঠাগারটি গড়ে তুলেছেন ব্যক্তিগত আগ্রহে। আসাদকে নিয়ে রাইজিংবিডির প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব কথা।   

মো. হুমায়ুন কবীর এ কারণে রাইজিংবিডিকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, ‘পত্রিকার কাজ হলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যারা নিস্বার্থভাবে দেশ গঠনে ব্রতী হয়েছেন তাদের সংবাদ তুলে আনা। রাইজিংবিডি সেই কাজটি করেছে। তারা আসাদকে তুলে ধরেছে। বহু পাঠক আসাদের এই উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হবেন।’

মো. হুমায়ুন কবীর এ সময় আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আসাদের মনে স্বপ্ন আছে, হয়তো সাধ্য নেই। আমাদের যাদের সাধ্য আছে তাদের উচিৎ আসাদের কাজকে এগিয়ে নেয়া। আসাদের পাশে দাঁড়ানো।’ তিনি সমাজের যে কোনো ভালো কাজের পক্ষে, শুভ উদ্যোগে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আসাদের কারণে তাদের গ্রামের মানুষ এখন বিনা মূল্যে বই পড়তে পারছেন। পাঠকের বেশির ভাগই স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়ে। পাঠাগার থেকে ধার নিয়ে বই পড়ার সুযোগও তিনি রেখেছেন। তিনি তরুণ বয়সেই দায়িত্ব নিয়ে একটি সামাজিক উদ্যোগ নিয়েছেন।

বিষয়টির প্রশংসা করে উদয় হাকিম বলেন, এ সময়ের ছেলেমেয়েরা যারা মোবাইল, ফেসবুক এবং ভিডিও গেম খেলে সময় নষ্ট করছে সেখানে আসাদ একটি উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। তিনি আসাদের ‘শহীদ মিলন স্মৃতি পাঠাগার’-এর সমৃদ্ধি কামনা করে ভবিষ্যতে আসাদের যে কোনো শুভ কাজে তার পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছে ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি সমাজের যে কোনো শুভ উদ্যোগে রাইজিংবিডি সহযোগিতার হাত সবসময় বাড়িয়ে দিবে বলে জানান।  

আসাদের জন্ম জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের মাজালিয়ার প্রত্যন্ত গ্রাম হাসড়ায়। তার বই পড়ার নেশা শুরু হয় ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে। শুরুর দিকে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার পাঠাগার থেকে বই ধার নিয়ে পড়তেন। মাধ্যমিকে স্কুলের লাইব্রেরির বই পড়েই দিন পাড় হতো। কিন্তু এরপরই বই আর আসাদের মধ্যে তৈরি হয় যোজন যোজন দূরত্ব। পড়ুয়া আসাদ বইয়ের শূন্যতা অনুভব করতে থাকেন। কী করা যায় ভাবতে ভাবতেই সিদ্ধান্ত নেন- গ্রামে তিনি নিজেই একটি পাঠাগার গড়ে তুলবেন।


ঢাকা/হাকিম মাহি/তারা