RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ১১ ১৪২৭ ||  ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ভুল প্রমাণের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন আসিফ

জুনাইদ আল হাবিব || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:০৯, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
ভুল প্রমাণের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন আসিফ

জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেড়ে উঠেছেন। দু'হাতের আঙুলগুলো বাঁকা। যে কারণে ঠিকমতো লিখতে পারেন না, করা হয়ে ওঠে না অনেক সহজ কাজ। ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না। প্রতিবন্ধকতা জীবনের স্বাভাবিক গতি রোধ করার চেষ্টা করলেও দমে যাননি তিনি। মানসিক জোরে এগিয়ে এসেছেন সামাজিক কাজে। নিয়েছেন মানবসেবার মহান ব্রত।

আসিফ আহমেদ। বাড়ি ময়মনসিংহ। বয়স উনিশের সীমানা ছুঁয়েছে। পড়াশোনা করছেন ব্রহ্মপুত্র পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং-এ।    

ময়মনসিংহ শহরের বেসরকারি এক ক্লিনিকে চার মাস বয়সী শিশুর জন্য রক্ত প্রয়োজন। আসিফ জানতে পেরে ছুটে এসেছেন। কিন্তু চিকিৎসক তার রক্ত নিতে রাজি নন। কারণ তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। আসিফ কড়জোরে চিকিৎসকের সামনে দাঁড়ালেন। ব্যাখ্যা করলেন এতেই তিনি আনন্দ পান। অসুস্থ শিশুটি যদি তার রক্তে নতুন জীবন ফিরে পায় তবেই সার্থক হবে তার মানব জীবন। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসক আসিফের রক্ত নিতে রাজি হলেন। হাসি ফুটল আসিফের মুখে।

এমন ঘটনা আসিফের জীবনে আগেও ঘটেছে। সবাই ধরেই নেয়, প্রতিবন্ধী মানুষ সমাজে আর কতটুকুই-বা অবদান রাখতে পারবে। এমন ভাবনা ভুল প্রমাণের দায়িত্ব আসিফ যেন নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। তিনি এরপর থেকে নিজে রক্ত দিতে না পারলেও রক্তদাতার সন্ধান দেন। মুমূর্ষু রোগীর রক্তের প্রয়োজন হলে রক্ত সংগ্রহ করে দেন। এজন্য 'রক্তদানের অপেক্ষায় বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠনসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের সদস্য তিনি। তাদের হয়েই বিভিন্ন কাজ করেন।

আসিফ আহমেদ রক্তদানে মানুষকে উৎসাহ দেয়ার মাঝেই নিজের সামাজিক দায়বদ্ধতাকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি ইতোমধ্যেই মরণোত্তর চক্ষুদান করতে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছেন। মৃত্যুর পরে অন্য কেউ তার চোখ দিয়ে পৃথিবীর আলো দেখবে। হাসবে পৃথিবীর রঙিন রঙে।

আসিফ বলেন, ‘আমার রক্তে একজন মানুষের জীবন বেঁচে যেতে পারে- এরচেয়ে বড় অনুভব আর হয় না। আমি চাই, অজুহাত না দেখিয়ে রক্তদানে এগিয়ে আসুক সবাই। সংগঠনে আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে রক্তদানে মানুষকে সচেতন করা। পাশাপাশি রক্তদাতার সন্ধান দেয়া। ‘

এমন মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করার পেছনের গল্প জানতে চাইলে আসিফ বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রতি বছর নয় লাখ ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন হয়। এখনও অনেক রোগী রক্তের অভাবে মারা যান। আমরা চাই আর কোনো রোগী যাতে রক্তের অভাবে মারা না যান। মানুষ যেন এ বিষয়ে সচেতন হয় সেই চেষ্টা করি।’

আসিফ আরো বলেন, ‘সংগঠনের সুব্রত দেব দাদা, নজরুল ইসলাম ভাই আমার রক্ত দেয়ার পেছনে অনুপ্রেরণা। নজরুল ভাই ৭৯ বার রক্ত দিয়েছে। আগের চেয়ে মানুষ একটু হলেও সচেতন হয়েছে। আমরা ভলান্টিয়াররা সবাই মিলে এই পরিবর্তন নিয়ে এসেছি। যতদিন বেঁচে আছি, এভাবেই যেন মানুষের উপকার করে যেতে পারি। মুমূর্ষু রোগীর প্রাণ বাঁচাতে সহযোগিতা করতে পারি।’


ঢাকা/তারা

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়