ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৬ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২১ ১৪২৭ ||  ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

উপকূলে বেড়েছে উদ্যান কৃষির প্রবণতা

খায়রুল বাশার আশিক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৬:৫১, ২৪ জুলাই ২০২০  

করোনার কারণে নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে মানুষ। দেশের অন্যান্য খাতগুলোর মতো কৃষিখাতও বিপর্যস্তপ্রায়। উৎপাদিত কৃষিপণ্য সংগ্রহ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, বিপণনসহ নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন কৃষক। এমন পরিস্থিতিতে গ্রামীণ মানুষের মধ্যে উদ্যান কৃষির প্রবণতা বেড়েছে।

বাঁচতে হলে খাদ্য প্রয়োজন। ভাতের সঙ্গে অন্তত একটু শাক-সবজি দরকার। শহরে সুপারশপ থেকেই হয়তো প্রয়োজনীয় সবজি কেনা সম্ভব। কিন্তু গ্রামে হাট-বাজার ছাড়া সবজি কেনা প্রায় অসম্ভব। ওদিকে হাট-বাজারে শারীরিক দূরত্ব মেনে চলাও কঠিন। বিশেষ করে যে এলাকায় করোনার প্রকোপ বেশি, সেই এলাকার মানুষ হাট-বাজারে যেতে ভয় পাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে উপকূলীয় অঞ্চলের গ্রামগুলোর অধিকাংশ পরিবারের সদস্যরা নিজেরাই সবজি চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন। ঘরের আঙিনা, পুকুরপাড়, পার্শ্ববর্তী বাঁধ বা রাস্তার ঢালে তারা শাক-সবজি চাষ করছেন।

দেশের অনাবাদি জমি যেন আবাদের আওতায় আসে সেই লক্ষ্যে কাজ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়। সরকার ইতোমধ্যেই আহ্বান জানিয়েছে, পতিত জমিতে সবজি বা ফসল ফলানোর। কারণ করোনা মহামারি কেটে গেলে দুর্ভিক্ষের যে আশঙ্কা করা হচ্ছে তখন যেন দেশের মানুষ কষ্ট না পায়- এ কারণেই এই আহ্বান। এমন আহ্বান আরো একধাপ এগিয়ে দিয়েছে উদ্যান কৃষিকে।

একাধিক পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যে পরিবারগুলো কৃষিভিত্তিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল না, তারাও এখন কৃষিতে ঝুঁকেছে। নিজেদের পরিবারের খাদ্য চাহিদা পূরণ এবং করোনাকালে ঘরে বন্দিজীবনে সময় কাটাতে অনেকেই বেছে নিয়েছেন উদ্যান কৃষিকে।

ঝালকাঠি জেলার নলসিটি উপজেলার তরুণ ফরহাদ সবুজ। তিনি পুকুরপাড়ের খোলা জমিতে গড়ে তুলেছেন সমন্বিত কৃষি খামার। পুঁইশাক, ঢেঁড়স, পেঁয়াজসহ কয়েকটি ফলের গাছ দিয়ে কৃষি খামার সাজিয়েছেন। সবুজ বলেন, ‘করোনা আমাদের ঘরবন্দি করেছে। সময়টুকু কাজে লাগানোর জন্য সবজির খামার গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। শুরুতে এতোটা পরিকল্পনা ছিল না। ভেবেছিলাম সময় অন্তত কাটুক। কিন্তু এখন এই খামার থেকে আয় হচ্ছে।’

বরগুনা পৌরসভার চরকলোনীর বাসিন্দা মারুফ রহমান। পেশায় ব্যবসায়ী হওয়ায় কৃষিকাজে অভ্যাস ছিল না। বর্তমানে তিনি নজর দিয়েছেন উদ্যান কৃষিতে। বাড়ির আঙিনা ও ঘরের ছাদে গড়ে তুলেছেন সবজি বাগান। মারুফ বলেন, ‘আমাদের দেহে সুষম পুষ্টি প্রয়োজন। এ জন্য শাক-সবজির বিকল্প নেই। পাশাপাশি এই দুর্যোগের সময়ে আয়ও হচ্ছে উদ্যান কৃষির মাধ্যমে। আমি নিজে কৃষিকাজ করছি। ভালো লাগছে। অন্যদেরও উৎসাহ দিচ্ছি।’

মারুফ কিংবা ফরহাদ সবুজ নন, বরগুনা কড়তলার স্কুল শিক্ষক মাহাতাব উদ্দিন, পাথরঘাটা উপজেলার সাখাওয়াত হোসেন, পটুয়াখালি কলাপাড়া উপজেলার রাসেল মিয়াসহ এমন অনেকেই রয়েছেন যারা এই করোনাকালে হয়ে উঠেছেন কৃষি উদ্যোক্তা।

এ প্রসঙ্গে বরগুনা বেতাগী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, উদ্যান কৃষির প্রসারে কৃষি কর্মকর্তারা মানুষকে উৎসাহ দিচ্ছেন। করোনার এই সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে ৩২টি পরিবারের মাঝে ১২ রকমের সবজির বীজ সরবরাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বল্প জায়গায় চাষের জন্য অনেক পরিবারকে পরামর্শ, সার, ওষুধসহ নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে উপকূলজুড়ে উদ্যান কৃষির পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে।’

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকগণ বলছেন আগামীতে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই পতিত জমি পরিকল্পিত ব্যবহারের বিকল্প নেই। খাদ্য চাহিদা যথাযথ পূরণের ক্ষেত্রে কৃষিতেই গুরুত্বারোপ করতে হবে।

ছবি: লেখক

 

 

ঢাকা/তারা

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়