RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ২৭ নভেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৩ ১৪২৭ ||  ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

শখের বসে ড্রাগন চাষই ভাগ্য খুলেছে কামরুলের

আলী আকবর টুটুল  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৪৫, ১৮ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ০৬:৩৫, ২৯ আগস্ট ২০২০
শখের বসে ড্রাগন চাষই ভাগ্য খুলেছে কামরুলের

শখের বসে ড্রাগন চাষেই ভাগ্য খুলেছে বাগেরহাটের কামরুলের। নিজের আঙ্গিনায় শখের বসে লাগানো কয়েকটি গাছ থেকে তার এখন শতাধিক গাছ। মৌসুমের অর্ধেক সময়েই এই গাছের ফল দিয়ে অর্ধলক্ষাধিক টাকা বিক্রি করেছেন তিনি। দুই একর জমিতে নতুন করে ড্রাগনের চাষ শুরু করেছেন। কামরুলের সফলতা দেখে প্রতিবেশীরাও ঝুকছেন ড্রাগন চাষে। কামরুলের সফলতা দেখে শুধু প্রতিবেশী নয়, বাগেরহাট জেলার অনেকেই সখের পাশাপাশি বানিজ্যিকভাবে ড্রাগনের চাষ শুরু করেছেন।

জানা গেছে, মাত্র তিন বছর আগে বড় ভাইয়ের দেওয়া চারা দিয়ে ড্রাগনের চাষ শুরু করেন বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার শিয়ালকাঠি গ্রামের কামরুল ইসলাম।বড় ভাইয়ের পরামর্শে নিজেদের খাওয়ার জণ্য নিজ বাড়ির উঠোনে কয়েকটি চারা রোপন করেন কামরুল। ৬ মাস পরেই ফল আসে এই গাছে। গাছের ফলের চেহারা ও স্বাদে মুগ্ধ হন কামরুল ও তার পরিবার। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ নিয়ে এক বছরের মাথায় নিজের গাছের কাটিং (গাছের ডালের মতো কিছু অংশ)দিয়ে চারা তৈরি করেন তিনি।

২য় বছরেই নিজের তৈরি বেশকিছু চারা রোপন করেন তিনি। ২০১৯ সালের শেষের দিকে অর্খ্যাৎ কামরুলের ড্রাগন চাষের ৩য় বছর বাড়ির উঠোনেই ২০টি ঝাড়ে (পিলারে) কামরুলের ড্রাগন গাছের সংখ্যা পৌছায় ১২০ টিতে। মাত্র ২ থেকে ৩ শতক জমিতে লাগানো শতাধিক গাছ দিয়ে এ পর্যন্ত অর্ধলক্ষাধিক টাকার বেশি বিক্রি করেছেন। গাছে যে ফুল ও ফল রয়েছে, তাতে আরও সমপরিমান আয় হবে এবার কামরুলের। অন্যসব কাজ ছেড়ে দিয়ে এখন শুধু ড্রাগন চাষে মন দিয়েছেন কামরুল ইসলাম।

ড্রাগন চাষী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বড় ভাই চাকরির সুবাদে চট্টগ্রাম থাকেন। বছর চারেক আগে ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসার সময় কিছু ড্রাগণের কাটিং (চারা) নিয়ে আসেন। আমাকে বলে, “এগুলো লাগা, ভাল কিছু হতে পারে। আমি ক্যাকটাস ধরনের গাছ ভেবে না লাগিয়ে ফেলে দেই। পরবর্তীতে ভাই জানতে চাইলে  বলি ও দিয়ে কী হবে। আমি ফেলে দিয়েছি। পরের বছর ঈদে আবারও ড্রাগনের কয়েকটি কাটিং নিয়ে আসেন। এবার কঠোর নির্দেশনা দেন আমাকে ভালভাবে লাগানোর জন্য। আমি কোন মতে লাগাই। মাত্র ৬ মাসেই গাছে ফল আসায় আমি অবাক হয়ে যাই। যত্ন নিতে থাকি গাছগুলোর। পরের বছর থেকে গাছের কাটিং দিয়ে চারা তৈরি শুরু করি। বর্তমানে ২০টি খুটিতে আমার একশ গাছ রয়েছে। এবার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার বিক্রি করেছি। এবছর আরও ৫০ হাজার টাকার মত ফল বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।এছাড়া ড্রাগন গাছের কাটিং দিয়ে চারা তৈরি করে বিক্রি করছি। তা দিয়েও ভাল আয় হচ্ছে আমার।’


শুধুমাত্র আগাছা পরিষ্কার ও মাঝে মাঝে ছত্রাকনাশক দিলেই গাছ থেকে ভাল ফল পাওয়া যায় বলে জানান কামরুল।
প্রতিবেশী হাফিজুর রহমান বলেন, ‘কামরুলের বাড়িতে বিদেশি ফল ড্রাগনের ফলন দেখে আমাদের ভাল লাগে। কামরুলের কাছ থেকে আমরা কিনে নিয়ে এই ফল খাই। এছাড়া মাঝে মাঝে কামরুল আমাদেরকে প্রতিবেশী হিসেবে খেতেও দেয়।’
কামরুলের পরিচর্যাকর্মী সাইফুল ইসলাম ও রুহুল আমিন বলেন, ‘সারা বছরই কামরুল ভাইয়ের ড্রাগন ক্ষেত অন্যান্য ক্ষেতে কাজ করি। ভালই চলে। আমরা ছাড়াও অনেকেই মাঝে মাঝে কাজ করেন কামরুল ভাইয়ের ক্ষেতে। নতুন ক্ষেত করার সময় বেশকিছু দিন একটানা কাজ করেছেন অনেক শ্রমিক।’


কামরুল ইসলামকে দেখে ড্রাগন চাষ শুরু করা ইমতিয়াজ শেখ এবং আলমগীর হোসেন বলেন, ‘কামরুলের বাড়ির উঠোনে যে পরিমান ড্রাগন হয়েছে, আমরা দেখে অবাক হয়েছি। ফলের দামও অনেক ভাল। এবছর ৩০০ থেকে ৫০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। কামরুল এবং কচুয়া কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শে আমরাও বানিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ শুরু করেছি। আসাকরি এর মাধ্যমে আমরা আর্থিকভাবে সফল হব।’


ড্রাগন চাষে ব্যয়ের বিষয়ে কামরুল বলেন, ৪টি গাছের জন্য একটি পিলার প্রয়োজন হয়। প্রতিটি চারা অন্য ৩৫ থেকে ৫০ টাকা বিক্রি করি। প্রতিটি পিলারের খরচ পরে ৫০০ থেকে ৭৫০ টাকা পর্যন্ত। আমার দুই একর জমিতে ৮০০ পিলারে ৩ হাজার দুইশ চারা রয়েছে। ভূমি উন্নয়ন, পিলার, সার ও চারা সব মিলিয়ে  ৮ লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে। তবে একবার শুরু করার পরে খরচ খুবই কম। মাসে আগাছা পরিস্কার, সেচ ও ছত্রাক নাশক স্প্রে করতে হাজার পাঁচেক টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রঘুনাথ কর বলেন, ড্রাগন একটি বিদেশি ফল। পুষ্টিগুণ, আকার-আকৃতি ও দামের কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্ব বাজারে এই ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ক্যাকটাস জাতীয় গাছ হওয়ায় রোগ বালাইও কম। তাই চাষীরা সহজে এই ফল চাষ করতে পারে। বাগেরহাটে নিজ উদ্যোগে এবং কৃষি বিভাগের সহায়তায় কচুয়া উপজেলার শিয়ারকাঠি গ্রামের কামরুল সহ অনেকেই বানিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ শুরু করেছেন। বানিজ্যিক, অবাণিজ্যিক ও ছাদ কৃষি সব মিলিয়ে বাগেরহাটে ১০ একরের উপরে জমিতে ড্রাগন চাষ হয়েছে। চাষীরা ফলও পাচ্ছেন ভাল।
তিনি আরও বলেন, ড্রাগনের চারা অবশ্যই রোদের জায়গায় রোপনের হবে। রোপনের কয়েকদিন পূর্বে ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার করে জৈবসার দিয়ে দিতে হবে। আট ফুট দূরত্বে পিলার দিয়ে পিলারের চার পাশে চারটি করে গাছ লাগানো যায়।কনক্রিটের পিলারের উপরে লোহার রডের সঙ্গে সাইকেল বা ভ্যানের পুরোনো টায়ার দিয়ে দিতে হবে, যাতে গাছগুলো বড় হলে ওই টায়ারে থাকতে পারে। ছাদের টবেও এই গাছ রোপন করা যায়। ফলও ভাল হয়।

সাজেদ 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়