Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ১১ এপ্রিল ২০২১ ||  চৈত্র ২৮ ১৪২৭ ||  ২৭ শা'বান ১৪৪২

সিরাজগঞ্জে হানিডিউ তরমুজ চাষে সাফল্য

অদিত্য রাসেল, সিরাজগঞ্জ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:১৪, ২৩ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১২:২৮, ২৩ ডিসেম্বর ২০২০
সিরাজগঞ্জে হানিডিউ তরমুজ চাষে সাফল্য

তরমুজ গ্রীষ্মকালীন জনপ্রিয় ফল। তরমুজ খেলে শুধু দেহ ও মনে প্রশান্তি আসে তা নয়, এর পুষ্টি ও ভেষজ গুণ অনেক। দেশে এখন দেশিজাতের পাশাপাশি ফলানো হচ্ছে হানিডিউ তরমুজ।

হানিডিউ তরমুজ দেখতে আকারে দেশিজাতের তরমুজের থেকে ছোট। এর গায়ের রঙ গাঢ় হলুদ। ভেতরটাও হলুদ রঙের। খেতেও সুস্বাদু। সিরাজগঞ্জে চাষ হচ্ছে থাইল্যান্ডের হানিডিউ তরমুজ। 

সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার জাহিদুল ইসলাম মিলন হানিডিউ তরমুজ চাষ করে চমক সৃষ্টি করেছেন। তার দেখে অনেক চাষি এই জাতের তরমুজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। স্বাদ ও বর্ণের কারণে হানিডিউ তরমুজ সবার দৃষ্টি কেড়েছে। 

আড়াই মাস আগে দুই হাজার বর্গফুটের গ্রিন হাউজের (বিশেষ ঘর) মধ্যে হানিডিউ তরমুজের বীজ রোপণ করেন মিলন। বীজ থেকে গাছ জন্মে সেই গাছে ফল ধরেছে। এরই মধ্যে সেই তরমুজ খাওয়ার উপযোগী হয়েছে এবং বিক্রিও শুরু হয়েছে। এটা মিলনের দ্বিতীয় দফা হানিডিউ তরমুজ চাষ। ৬/৭ মাস আগে তিনি পরী্ক্ষামূলকভাবে হানিডিউ তরমুজের চাষ করে সফল হন।   

মিলনের কৃষি খামারে দুইজন কর্মী গাছগুলোর পরিচর্যা করেন। তারা জানান, প্লাস্টিকের ব্যাগের মধ্যে নারিকেলের ছোবড়ার গুঁড়ার মধ্যে হানিডিউ তরমুজের বীজ বপন করা হয়। এ পদ্ধতিতে মাটির প্রয়োজন হয় না। কেবল নারিকেলের ছোবড়া ও পানিতে গাছ জন্মায়।

 

মিলন পেশায় ছিলেন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। পরে আউটসোর্সিংয়ের কাজ শুরু করেন। তখন পরিচয় হয় এক বিদেশির সঙ্গে। তার পরামর্শে জেলার সদর উপজেলার শাহানগাছা গ্রামে ২০১৬ সালে ১ একর জমিতে গড়ে তোলেন ফার্মডেক্স এগ্রো লিমিটেড। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় চলতি মৌসুমে থাইল্যান্ডের হানিডিউ তরমুজ চাষ করে সফলতা পান তিনি। 

জাহিদুল ইসলাম মিলন জানান, গ্রিন হাউজ ঘরে ৬/৭ মাস আগে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকশত হানিডিউ তরমুজের বীজ বপন করেন এবং সফল হন। এবার ৬৪০টি চারা উৎপাদন হয়েছে। প্রতিটি গাছে একাধিক ফল আসে। তবে দুটি করে রেখে বাকি ফল ছিঁড়ে ফেলা হয়। ইতোমধ্যে তিনি ১৫/২০ কেজি তরমুজ বিক্রি করেছেন। সপ্তাহখানেকের মধ্যে পুরোদমে উৎপাদন শুরু হবে।  

মিলন বলেন, তিনি আশা করছেন এবার ১০০০ হাজার কেজি তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন। এখন প্রতিকেজি ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। সেই হিসাবে ৩ লাখ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পাবেন। ৬৪০টি চারা উৎপাদনে তার খরচ হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো, আবু হানিফ বলেন, জেলায় এই পদ্ধতি (হাইড্রোপনিক) নতুন। উদ্যোক্তাদের কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সফল হলে আরও উদ্যোক্তা তৈরি হবে।
 

ঢাকা/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়