Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ২৬ জুলাই ২০২১ ||  শ্রাবণ ১১ ১৪২৮ ||  ১৩ জিলহজ ১৪৪২

পাঠকপ্রিয় হচ্ছে ‘মানিক চৌধুরী পাঠাগার’

মো. মামুন চৌধুরী || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৪০, ৭ জুন ২০২১   আপডেট: ১৫:৪৫, ৭ জুন ২০২১
পাঠকপ্রিয় হচ্ছে ‘মানিক চৌধুরী পাঠাগার’

হবিগঞ্জ শহরের ঠিক মধ্যে বীরের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে ‘হবিগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও মানিক চৌধুরী পাঠাগার’। শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় এর অবস্থান। এই জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে হবিগঞ্জ তথা সিলেট বিভাগের মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।

নির্মাণ কাজ শেষে আপাতত চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি থেকে পাঠকদের জন্য প্রাথমিকভাবে পাঠাগারের দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল। প্রতি সপ্তাহে শুক্র, শনি ও মঙ্গলবার বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি এ পাঠাগারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।

পর্যায়ক্রমে জাদুঘরও চালু করা হবে। পাঠাগার চালু হওয়ার পর থেকে দিনে দিনে পাঠকপ্রিয় হয়ে উঠছে। নতুন নতুন পাঠক এসে বই পড়ে তৃপ্তি পাচ্ছেন। সরেজমিনে গিয়ে কথা হলে হবিগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও মানিক চৌধুরী পাঠাগারের জমিদাতা সাবেক এমপি আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

পাঠাগারের পাঠক তারেক, ধীমান, অনুরাগ, অমিত, ইমদাদ বলেন, বই পড়ার মজাই আলাদা। পৃথিবীকে জানতে হলে বই পড়তে হবে। কোনো কিছু সম্পর্কে বলার আগে জানতে হয়। পৃথিবীকে জানার জন্যই বই পড়ছি। সুন্দর পরিবেশে ভালো ভালো বই পড়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে এ পাঠাগার। ইমদাদের ন্যায় এখানে নতুন নতুন পাঠক এসে বই পড়ছেন। পাঠাগারে নবীনদের মতো প্রবীণ পাঠকদেরও বই পড়ার আগ্রহ বেড়েছে।

সূত্রে জানা যায়, মহান মুক্তিযুদ্ধে হবিগঞ্জ তথা সিলেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী। তার কাছে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র (তারবার্তা) আসে। এ ঘোষণাপত্রসহ মুক্তিযুদ্ধের বহু স্মারক পড়ে রয়েছে হবিগঞ্জে। এগুলো সংগ্রহ করেন তার কন্যা সাবেক এমপি কেয়া চৌধুরী। পরে তিনি এগুলো সংরক্ষণের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতি দাবি জানান।

হবিগঞ্জ শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় কেয়া চৌধুরীর দেওয়া প্রায় দুই শতক ভূমিতে এ জাদুঘর নির্মাণ করার জন্য পরিদর্শনে আসে জাতীয় জাদুঘরের একটি টিম। ২০১৫ সালের ২৯ নভেম্বর রোববার দুপুরে জাতীয় জাদুঘরের কীপার আনজালুর রহমান, ডিসপ্লে অফিসার মো. ইলিয়াছ খান ও স্থাপত্য নকশাবিদ রেজাউর রহমান জায়গাটি পরিদর্শন করে মুগ্ধ হন।

২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়, দেশের তিন জেলায় ৭ কোটি ৯৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে তিন বরেণ্য ব্যক্তির নামে আঞ্চলিক জাদুঘর নির্মাণ করার। এরমধ্যে হবিগঞ্জে ছিল ‘হবিগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও মানিক চৌধুরী পাঠাগার’।

এ সিদ্ধান্তের পর একই বছরের ২১ মার্চ বুধবার সকালে এ জাদুঘরের নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংসদ, আইনজীবী, সাংবাদিক ও জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে এ কাজের উদ্বোধন করেন ভাষাসৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরীর সহধর্মিনী রোকেয়া চৌধুরী। পর্যায়ক্রমে নির্মাণ কাজ শেষে পাঠাগারের কার্যক্রম শুরু হয়।  

কেয়া চৌধুরী জানান, তার পিতা কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরীর রেখে যাওয়া জমিতে জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ সফল করতে তৎকালীন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল ও সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সঙ্গে দেখা করলে তারা ইতিবাচক সাড়া দেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমে জাতীয় জাদুঘরের এ টিমটি পরিদর্শনে এসে রিপোর্ট পেশ করে।

পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ সাপেক্ষে নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছিল।

তিনি বলেন, এ জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মারক সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত একটি জিপ গাড়ি, বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাপত্রের মূল কপিসহ বহু স্মারক।

তিনি আরও বলেন, জাদুঘরে হয়েছে লাইব্রেরি, সেমিনার হল, কয়েকটি গ্যালারি। এতে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের অনেক ইতিহাস জানতে পারবে।

হবিগঞ্জ/মাহি 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়