Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||  আশ্বিন ২ ১৪২৮ ||  ০৮ সফর ১৪৪৩

মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেন তৃতীয় লিঙ্গের মাহমুদা  

অমরেশ দত্ত জয় || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৩৯, ২ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ১৭:৫৩, ২ আগস্ট ২০২১
মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেন তৃতীয় লিঙ্গের মাহমুদা  

মাহমুদা। তৃতীয় লিঙ্গের নারী। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে মাথা গোঁজার স্থায়ী ঠিকানা পেয়েছেন। আর এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পেরে নিজের মনে দারুণ আনন্দ উপলদ্ধি করছেন স্থানীয় ইউএনও শিউলী হরি। মুজিববর্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্পের দ্বিতীয় দফায় তৃতীয় লিঙ্গের মধ্যে ফরিদগঞ্জে এই প্রথম মাহমুদা ঘরটি পেলেন। 

ফরিদগঞ্জ পিআইও সূত্রে জানা যায়, মুজিববর্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ২০টি ঘর করা হয়েছে। সেখানে ১টি ঘর প্রথমবারের মতো একজন তৃতীয় লিঙ্গের অসহায় নারীকে দেওয়া হয়েছে। আর স্থানীয় সাংসদ মুহম্মদ শফিকুর রহমানের হস্তক্ষেপে ওই নারী ঘরটি পেয়েছেন। 

সোমবার (২ আগস্ট) সরেজমিনে গেলে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মাহমুদা জানান, সমাজে টিকে থাকতে আমাদের সমর্থণের অভাব রয়েছে। মারা গেলেও কেউ দাফন-কাফনে এগিয়ে আসতে চায় না। ঘর ভাড়া নিতে অনেক কষ্ট হতো। লোকের হাতে পায়ে ধরে অলি-গলির ঘর ভাড়া নিয়ে কোনোমতে থাকতে হতো। এখন এই ঘরটি পেয়ে মাথা গোঁজার অন্তত একটি ঠাঁই পেলাম।

তিনি আরও বলেন, এমপি শফিক স্যার বলছেন, তিনি আমাদের পাশে আছেন। ইউএনও শিউলী স্যারও এসে খোঁজ-খবর নেন। ঈদেও উপহারসামগ্রী তিনি দিয়েছেন। আমার মতো এই সমাজে অবহেলিত আরও কয়েকজন ভবঘুরে হিজড়া রয়েছেন। তাই তাদের জন্যও এমন করে ঘর দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।

বালিথুবা বাগড়া বাজার এলাকার মাহমুদার ঘরের পাশে থাকেন ফারুকুল ইসলাম ও শাহানারা বেগম। তারা জানান, মাহমুদার ওই ঘরটিতে মধুমালা হিজড়া ও রেশমী হিজড়া থাকে। প্রায়ই ওর দলের ৭/৮জন এসে ওদের খোঁজ-খবর নেয়। ওরা নিজেরাই ঘরে রান্না করে। আর নিজেদের মতো করে ঘর সাজিয়ে-গুছিয়ে নিয়েছে। প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। বরং আমাদের সমস্যায় ওরা এগিয়ে আসে। ওদের জন্য এবং এমপি শফিক এবং ইউএনও শিউলী হরি স্যারের জন্য এভাবে ঘর করে দেওয়ায় দোয়া করছি।

মাহমুদা হিজড়ার ঘর পাওয়া প্রসঙ্গে ফরিদগঞ্জের ইউএনও শিউলী হরি বলেন, সমাজের অবহেলিত এই সম্প্রদায়কে প্রতিষ্ঠিত করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমান মহোদয়ের বিশেষ আগ্রহ এবং নিদের্শনা অনুযায়ী ১টি ঘর ওদের জন্য বরাদ্দ হয়। যা বাস্তবায়ন করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। প্রায়ই আমি তৃতীয় লিঙ্গের ওই মাহমুদাসহ অন্য যারা ঘর পেয়েছেন, তাদের খোঁজ-খবর নিচ্ছি। আমরা ওদের জীবনমান উন্নয়নে এভাবে সবসময় কাজ করে যেতে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

চাঁদপুর/মাহি 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়