Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ৩০ নভেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ১৬ ১৪২৮ ||  ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

ছবি তুলে লুবিতের মাসে আয় দেড় লাখ টাকা

খুরশিদ জামান কাকন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:১২, ২৩ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১২:১৪, ২৩ অক্টোবর ২০২১
ছবি তুলে লুবিতের মাসে আয় দেড় লাখ টাকা

লুবিত রহমান

ফটোগ্রাফি করতে কার না ভালো লাগে। সময়-সুযোগ ভেদে অনেকেই শখের ফটোগ্রাফার হওয়ার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ তো আবার শখের ফটোগ্রাফার থেকে ধীরে ধীরে প্রোফেশনাল ফটোগ্রাফার হয়ে উঠেন। ফটোগ্রাফি করেই আয়ের পথ খুঁজে নেন। তেমনি একজন লুবিত রহমান। তিনি শুধু ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফি করেই রুটি-রোজগারের ব্যবস্থা করছেন।

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কলেজ ছাত্র লুবিত রহমান। এবার এইচএসসি পরীক্ষা দেবেন। এরমধ্যেই পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেকে একজন দক্ষ ফটোগ্রাফার হিসেবে গড়ে তুলেছেন। অল্পদিনেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফটোগ্রাফার হিসেবে শতাধিক ইভেন্টে নিজের প্রতিভার ছাপ রেখেছেন। শুধু ফটোগ্রাফি করেই লুবিত মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকা আয় করছেন।

ছোটবেলা থেকেই লুবিতের ফটোগ্রাফির প্রতি ব্যাপক আগ্রহ ছিল। বিভিন্ন মডেলের ডিএসএলআর ক্যামেরা নিয়ে ঘাটাঘাটি ছিল। প্রথমদিকে লুবিত শুধু শখের বসে ফটোগ্রাফি করতেন। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দৃশ্য নিজের ফ্রেমবন্দি করতেন। আর তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করতেন। মূলত এভাবেই ফটোগ্রাফির প্রতি লুবিতের দক্ষতা বাড়তে থাকে।

লুবিত যখন নবম শ্রেণির ছাত্র তখন থেকেই একজন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করছেন। জন্মদিন, বিয়েসহ সবধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানে ফটোগ্রাফি করছেন। দেশের নামকরা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফিও করেছেন। সেইসঙ্গে টিভিসিতেও কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

অল্পদিনেই ফটোগ্রাফার হিসেবে পরিচিতি পাওয়া লুবিত রহমান নিজের কর্মদক্ষতা কাজে লাগাতে ২০১৯ সালে নীলফামারীর সৈয়দপুরে 'ওয়েডিং ট্রিপ' নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে তিনি সৈয়দপুরসহ জেলার বিভিন্ন ইভেন্ট ও করপোরেটের ফটোশুট করে ব্যাপক প্রশংসিত হন। ধীরে ধীরে বন্ধুদের সাথে নিয়ে লুবিত ওয়েডিং ট্রিপের পরিধি বাড়াতে শুরু করেন। 

বর্তমানে লুবিতের অধীনস্থ এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০ জন ফটোগ্রাফার রয়েছেন। সৈয়দপুর পেরিয়ে এখন সারাদেশেই সফলতার সাথে ইভেন্ট পরিচালনা করে আসছে ওয়েডিং ট্রিপ। জন্মদিন, আকিকা, গায়েহলুদ, বিয়েসহ যে কোনো ধরনের পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে ফটোগ্রাফি ও সিনেমাটোগ্রাফির কাজ করে যাচ্ছেন তারা। ওয়েডিং ট্রিপের সর্বনিম্ন প্যাকেজ তিন হাজার টাকা থেকে শুরু এবং সর্বোচ্চ প্যাকেজের মূল্য প্রায় ২৮,০০০ টাকা৷ 

ফটোগ্রাফার লুবিত রহমান বলেন, ‌‘আজকাল ডিএসএলআর ক্যামেরা প্রায় সবার হাতে হাতে। কিন্তু তারপরও সবাই প্রকৃত ফটোগ্রাফার হতে পারেন না। একজন প্রোফেশনাল ফটোগ্রাফার হতে গেলে ক্যামেরা সম্পর্কে বিস্তৃত জানতে হয় এবং প্রচুর পরিমাণে অনুশীলন করতে হয়। তবেই নিজেকে একজন দক্ষ ফটোগ্রাফার হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। ফটোগ্রাফার হিসেবে আমি সবসময় গ্রাহকের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে আসছি।’

ওয়েডিং ট্রিপের স্বত্বাধিকারী লুবিত রহমান আরও বলেন, ‘মূলত সৈয়দপুর থেকেই আমাদের যাত্রা শুরু। সবার সহযোগিতা ও ভালোবাসায় আমরা এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি। আমাদের টিমের কমবেশি সবাই ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি ওয়েডিং ট্রিপ থেকে আমরা যথেষ্ট সাপোর্ট পাচ্ছি, যা ছাত্রাবস্থায় আমাদের স্বনির্ভর করতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে।’

লেখক: শিক্ষার্থী ও ফিচার লেখক, সরকারি তিতুমীর কলেজ।

/মাহি/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়