Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ২১ ১৪২৮ ||  ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

ঐতিহ্যের বাহক শায়েস্তাগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরি

মো. মামুন চৌধুরী, হবিগঞ্জ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:২৭, ২৫ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১৩:৩৭, ২৫ অক্টোবর ২০২১

শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশন। এখান থেকে ট্রেন যোগে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে শত শত যাত্রী যাতায়াত করে থাকেন। জংশনটি ১৯০৩ সালে ব্রিটিশ শাসন আমলে প্রতিষ্ঠা পায়। সেই থেকে এই পর্যন্ত জংশনটি হবিগঞ্জের ঐতিহ্য বহন করছে। প্রথমে এ জংশনকে ঘিরে গড়ে ওঠে হাট-বাজার।

হবিগঞ্জ জেলা প্রতিষ্ঠা পেলে ক্রমান্বয়ে শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়ন হয়। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে ১৯৯৯ সালে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠা পায়। এরপর ২০০১ সালে হয় থানা। সর্বশেষ ২০১৭ সালে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা হয়। আর এখানেই ১৯৮৪ সালের ৩০ নভেম্বর প্রতিষ্ঠা পায় শায়েস্তাগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরি। প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মরহুম আব্দুর নূর চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন মামুন।

এ লাইব্রেরিটি শায়েস্তাগঞ্জের ঐতিহ্য বহন করছে। শুরু থেকেই এই লাইব্রেরির স্থায়ী ভবন নেই। বর্তমানেও শায়েস্তাগঞ্জ বাল্লা রেলওয়ে গেইটের কাছে জজ বাড়ি সড়কে একটি ভাড়া করা ভবনে কার্যক্রম চলছে।

ডিজিটাল যুগেও প্রতিদিন এ লাইব্রেরির পাঠক সংখ্যা ৩০ থেকে ৩৫ জন। করোনার আগে এর সংখ্যা ছিল ৫০ থেকে ৬০ জন। লাইব্রেরিতে এককালীন ৫ হাজার টাকা দিয়ে আজীবন সদস্য হয়েছেন ৪ জন। সাধারণ সদস্য আছেন শতাধিক। তারা বছরে ২৯০ টাকা দেন। এ লাইব্রেরির উদ্যোগে নানা সময়ে আয়োজন করা হয় শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান। দেওয়া হয় গুণীজনদের সম্মাননা।

উপজেলা হওয়ায় বছরে সরকারি অনুদান আসছে। ক্রয় করা হচ্ছে নতুন নতুন বই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় পরিচালিত এ লাইব্রেরির বর্তমান বই সংখ্যা প্রায় ৯০০টি। বর্তমান সভাপতি মো. শামছুল হক মাস্টার। আলাপকালে লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক, জাতীয় সাপ্তাহিক জনতার দলিল সম্পাদক ও প্রকাশক সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন মামুন বলেন, ‘বছরে সরকারি অনুদান একবার আসে। অনুদান ও সদস্যদের চাঁদায় লাইব্রেরি পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ’

লাইব্রেরিতে প্রতিদিন স্থানীয় ও জাতীয় মিলে ১৫টি পত্রিকা রাখা হয়। রয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও চায়ের ব্যবস্থা। পাঠকরা এসে বই পড়ার পাশাপাশি পত্রিকা পড়েন। শতপ্রতিকূলতার মধ্যেও এ লাইব্রেরী শায়েস্তাগঞ্জের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। তিনি বলেন, ‘শায়েস্তাগঞ্জে অনেক সরকারি জমি আছে। এখান থেকে কিছু জমি বরাদ্দ দিয়ে সরকারিভাবে একটি ভবন দ্রুত করার দাবি রয়েছে পাঠকদের পক্ষ থেকে। এ দাবি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।’

তিনি জানান, তিনি প্রায় ৪৮ বছর ধরে সাংবাদিকতায় যুক্ত আছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি পাবলিক লাইব্রেরির দেখভাল করছেন। যুক্ত আছেন বহু সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সাথে। প্রতিষ্ঠা করেছেন শায়েস্তাগঞ্জ প্রেসক্লাব।

লাইব্রেরির সদস্য সৈয়দ মাফুজ মিয়া, হামিদুল হক বুলবুল, নজরুল ইসলাম হিরা, ডা. বেলাল উদ্দিন, আলেয়া আশরাফ, হালিমা খানম, অমিয় প্রভা চৌধুরী, জসিম উদ্দিন চৌধুরী, লুৎফুর রহমান চৌধুরী জুয়েল, সৈয়দ ফখর উদ্দিন শাকিল, সৈয়দ আরিফ উদ্দিন সৈকত ও এনামুল হক চৌধুরী বলেন, নিত্য কাজের ফাঁকে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও বই আর পত্রিকা পড়া হয়। লাইব্রেরির স্থায়ী ভবন না থাকায় বসার স্থান সংকুলান হচ্ছে না। দ্রুত সরকারি জমিতে, অনুদানে একটি ভবন নির্মাণ করা হোক। তাহলে এ লাইব্রেরি আরও পাঠক প্রিয়তা পাবে।

শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বলেন, ‘উপজেলা হওয়ায় প্রতি বছর সরকারি অনুদান পাচ্ছে লাইব্রেরিটি। জমি পাওয়া গেলে সরকারি অনুদানে ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।’

/মাহি/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়