ঢাকা     শুক্রবার   ২০ মে ২০২২ ||  জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪২৯ ||  ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩

রাবার ড্যামে হাজার হেক্টর জমিতে হবে চাষাবাদ 

এস বাসু দাশ, বান্দরবান  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৫২, ১৪ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৪:৫৪, ১৪ নভেম্বর ২০২১
রাবার ড্যামে হাজার হেক্টর জমিতে হবে চাষাবাদ 

ছবি: রাইজিংবিডি

বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকায় সুয়ালক খালের ওপর নির্মিত হচ্ছে ৪৫ মিটার দীর্ঘ রাবার ড্যাম ও ব্রিজ। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসির) অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে এটি। ফলে চাষাবাদের আওতায় আসবে দুই পাড়ের ১ হাজার হেক্টর অনাবাদি কৃষি জমি এবং ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে শতাধিক ঘরবাড়ি। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির ৯৫ শতাংশ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। শিগগিরই উদ্বোধন হবে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর শীত মৌসুমে সেচ সুবিধা না থাকায় সুলতানপুর ও পুরানগড় এলাকার কৃষকরা পানির অভাবে চাষাবাদ করতে পারতেন না। ফলে অনাবাদী অবস্থায় পড়ে থাকতো দুই পাড়ের প্রায় ১ হাজার হেক্টরেরও বেশি কৃষি জমি। এছাড়াও বর্ষায় পানির স্রোতের ভাঙনের কবলে পড়তো মানুষের ঘরবাড়ি। শুধু তাই নয়, বর্ষায় খালের পানি বেড়ে গেলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় ব্যবসায়ী, কৃষকসহ স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের। যাতায়াতের কোনো রাস্তা না থাকায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারে নেওয়াও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়তো। 

জরুরি প্রয়োজন ও রোগী বহনে ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হতো স্থানীয়দের। কিন্তু রাবার ড্যামটি নির্মিত হওয়ায় চাষাবাদের আওতায় এসেছে সুলতানপুর ও আশপাশের এলাকার প্রায় দুই হাজার একর অনাবাদী জমি। খালের দুই পাড়ে সিমেন্টের তৈরি ৫০ হাজার ব্লক দিয়ে বাধ তৈরি করায় ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে দুই পাড়ের শতাধিক বাড়িঘর। জেলার বৃহত্তম এই রাবার ড্যামের কল্যাণে এখন এই এলাকার কৃষকদের জীবনে আসবে বদলের ছোঁয়া।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসির) তথ্য মতে, ২০১৯ সালে সুলতানপুর এলাকায় সুয়ালক খালের উপর ৪.৫ মিটার প্রস্থ ও ৪৫ মিটার দীর্ঘ রাবার ড্যামটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে জয়েন্ট ভেঞ্চারে নির্মাণ কাজটির দায়িত্ব পায় সিলেট ওসমানীনগর খন্দকার বাজারের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমকে অ্যান্ড এসই। এটি নির্মাণের ফলে এখন স্থানীয় কৃষকদের পানির অভাবে কোনো মৌসুমেই আবাদ বন্ধ রাখতে হবে না। 

সুলতানপুর এলাকার কৃষক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, সেচের অভাবে দীর্ঘ দিন আমাদের জমি সব মৌসুমে চাষ করতে পারিনি। রাবার ড্যাম চালু হলে এখন যেকোনো মৌসুমে চাষ করতে পারবো, ফলে এলাকায় চাষাবাদ বাড়বে। স্থানীয় জেলেরাও সারাবছর মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন। এতে এলাকায় আমিষের ঘাটতি পূরণ হবে।

সুয়ালক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উক্যনু মার্মা বলেন, এই রাবার ড্যামটি চালু হলে সুফল পাবেন স্থানীয় কৃষকরা। সুয়ালক ইউনিয়নের সুলতান পুর এলাকায় শত শত হেক্টর ফসলি জমি সেচের অভাবে অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকতো। রাবার ড্যামটি চালু হলে এখন তা আর হবে না। ফলে স্থানীয় কৃষক পরিবারে আসবে সচ্ছলতা। 

বান্দরবান বিএডিসি সহকারী প্রকৌশলী আবু নাইম বলেন, ইতোমধ্যে রাবার ড্যামটির ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলছে খালের দুই পাড়ে ব্লক বসানোর কাজ। আগামী এক মাসের মধ্যে কাজ শেষ হলে রাবার ড্যামটি উদ্বোধন করা হবে। ড্যামটি চালু হলে বর্ষায় পানি সংরক্ষণ করে সেচ সুবিধা পাবে কৃষকরা।

/মাহি/

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়