ঢাকা     রোববার   ২২ মে ২০২২ ||  জ্যৈষ্ঠ ৮ ১৪২৯ ||  ২০ শাওয়াল ১৪৪৩

একজন অলরাউন্ডার সায়মা

সাজেদুর আবেদীন শান্ত, ঢাকা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৫২, ২৩ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১২:৫৪, ২৩ জানুয়ারি ২০২২
একজন অলরাউন্ডার সায়মা

‌সায়মা সুলতানা। একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী তরুনীর নাম। গায়িকা, নৃত‌্যশিল্পী, অভিনেত্রী, ব‌্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এসব নানা গুণে গুণান্বিত। তিনি বর্তমানে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করছেন। বাবা মো. শাহজাহান ও মা ফাতেমা বেগম কাজলের তিন মেয়ের মধ্যে সায়মা মেঝো।

২০০৫ সালে বিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান নতুন কুঁড়িতে গান করেন সায়মা। সেখান থেকেই মূলত তার গানের শুরু। এরপর ২০০৯ সালে ছায়ানটে ভর্তি হোন।

সায়মা বলেন, ছায়ানটের সংগীত সূচনাতে ছিলাম এবং সেখানে আমাদের রবীন্দ্র-নজরুল ফোক সব গানই শেখানো হতো। সূচনা শেষে আমি সংগীত প্রবেশে লোকগীতিতে সুযোগ পাই। সেখানে থাকাকালীন সময়ে আমার চার বছর পড়াশোনার একটা গ্যাপ থাকে। এরমধ্যেই বিবিএ কমপ্লিট হয়ে যায়। তারপর চিন্তা করি গান আবার শুরু করবো। মাঝে মাঝে বাসায় ছোট ছোট বাচ্চাদের গান শেখাতাম। 

এরপর সায়মা আবার ছায়ানটে ফিরে আসেন এবং নজরুলগীতি শুরু করেন। এখন তিনি নজরুলগীতির সংগীত সূচনাতে আছেন। সায়মা বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমি ছবি আঁকা, গান, নাচ, অভিনয় সব কিছুতেই অংশগ্রহণ করেছি। তবে গানটাকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছি। কারণ আমি ছোট থেকেই গুনগুন করে গান গাইতাম। তখন থেকেই গান বেশি ভালোবাসি। জানি না কতটুকু গাইতে পারি, তবে চেষ্টা করি সবসময়। ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকতে আমি বাংলাভিশনে বাচ্চাদের একটা প্রোগ্রাম উপস্থাপনা করতাম। অষ্টম শ্রেণিতে থাকাকালীন নাগরিক নাট্যাঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত হই এবং সেখানে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় শুরু করি। তখন তাদের কিছু নাটকের গানে ভোকাল দিয়েছিলাম।

এছাড়াও সায়মা ছবি আঁকতে খুব পছন্দ করতেন। অনেক সংগঠন থেকে ছবি আঁকার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে পুরস্কার জিতেছেন। বাংলাদেশে প্রথম আইসিসি ওয়ার্ল্ড কাপ ২০১১ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি দলীয়ভাবে নৃত্য করেছেন।

উদ্যোক্তা জীবন সম্পর্কে সায়মা বলেন, আমার উদ্যোক্তা জীবনের শুরু ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে। তখন আমি এবং আমার বন্ধু শাহিভ মিলে ব্যবসা করার পরিকল্পনা করি। তখন আমরা দুজনই টিউশন করতাম। মাত্র ৩ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করি আমাদের ব্যবসা। শুরুতে নিজস্ব কোনো ফেসবুক পেজ বা গ্রুপ ছিল না। বিভিন্ন গ্রুপে লাইভ করতাম। এভাবে মাস খানেকের মধ্যেই আমরা খুব ভালো সাড়া পাই। 

সায়মা তখন ‘Pink fairy solutions’ নামে ফেসবুকে একটা পেজ খোলেন। এ পেজের মাধ্যমে তারা মেয়েদের সাজগোজের জিনিস অর্থাৎ মেকাপ আইটেম এবং স্কিন কেয়ারের প্রডাক্ট বিক্রি করেন। এরপর ৩ মাসের মধ‌্যেই তাদের ব্যবসা অনলাইনে দাঁড়িয়ে যায়। কিন্তু শুরুটা খুব কঠিন ছিল। কুরিয়ার থেকে শুরু করে নানা রকমের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় সায়মা এবং শাহিভকে। সমস্যার সমাধন করে আবার শুরু করেন তারা ব্যবসা। 

এরপর নতুন আরেকটি পেজ খোলেন। নাম দেন ‘Pink fairy boutiques’। তার এই পেজের মাধ্যমে শাড়ি এবং থ্রি-পিস নিয়ে কাজ শুরু করেন। উদ্যোক্তার পাশাপাশি সায়মা ব্র্যান্ড প্রমোটার হিসেবেও কাজ করছেন কিছু পেজে। 

তিনি বলেন, নিজের একটা পরিচয় করার জন্য অনেকেই তো অনেক কিছু করেন, আমি ভাবলাম এবার নিজের জন্য নিজে কিছু করি। চাকরির বাজারের অবস্থা তেমন একটা ভালো না। তাই সব ভেবে চিনতে ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীন এক পেশার দিকে ছুটলাম এবং উদ্যোক্তা জীবন বেছে নিলাম’। 

কেনো এই পণ্যগুলো নিয়ে কাজ করছেন, এই প্রশ্নের উত্তরে সায়মা বলেন, আমি পরিপাটি এবং  সাজগোজ খুব পছন্দ করি। শাড়ি পরতেও খুব ভালোবাসি। তাই এসব পণ‌্য নিয়ে কাজ করছি। শাড়ি বাঙালির ঐতিহ্য এবং সাজগোজ মেয়েরা সবসময় পছন্দ করে। সবকিছু চিন্তা করেই এই উদ্যোগ নেওয়া। 

সায়মার ইচ্ছা ব্যবসাটা আরও বড় করা, অফলাইনে একটা দোকান দেওয়া। যেটা সবাই এক নামে চিনবে। এই কাজে উৎসাহ দিয়েছেন অনেকেই। বাবা-মা, ভাই-বোন তো আছেনই। পাশাপাশি বন্ধু শাহিভের ভূমিকা সব থেকে বেশি বলে মনে করেন সায়মা। ক্যামেরার সামনে লাইভ তিনি করলেও   পেজ সাজানো, প্রোডাক্ট সিলেকশন, ইনভেস্টমেন্ট, পারসেল করাসহ সবকিছুতেই বন্ধু শাহিভের ভূমিকা অপরিসীম। ব‌্যবসার পাশাপাশি সায়মার ইচ্ছা গানের একটা স্কুল দেওয়া।

লেখক: ফিচার লেখক ও গণমাধ্যমকর্মী।

/মাহি/

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়