ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১১ আগস্ট ২০২২ ||  শ্রাবণ ২৭ ১৪২৯ ||  ১২ মহরম ১৪৪৪

প্রতিদিন বিনামূল্যে শতাধিক মানুষকে ইফতার করান রানা

কাওছার আহমেদ, টাঙ্গাইল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৫৯, ২৬ এপ্রিল ২০২২   আপডেট: ১৬:৩৬, ২৬ এপ্রিল ২০২২
প্রতিদিন বিনামূল্যে শতাধিক মানুষকে ইফতার করান রানা

টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সবাইকে ইফতার করার সুযোগ করে দিয়েছেন ব্যবসায়ী রানা আনছারী। রমজানের প্রথম দিন থেকে তিনি মসজিদে ইফতারসামগ্রী দিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে শহরের ব্যবসায়ী, মসজিদের মুসল্লিসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ইফতার করতে পারছেন। ইফতার করতে পেরে খুশি রোজাদাররা।

ব্যবসায়ী রানা আনছারী জানান, ২০১৭ সাল থেকে তিনি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ইফতারের ব্যবস্থা করে আসছেন। গত দুই বছর করোনাভাইরাসের কারণে এ কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে করোনাকালীন সময়ে রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন হাসপাতালের রোগীর স্বজনদের খাবার দিতেন রানা আনছারী। করোনাভাইরাস স্বাভাবিক ও বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার বছর এবছর রমজানের প্রথম দিন থেকেই তিনি ইফতারসামগ্রী দিচ্ছেন। প্রতিদিন ১২০-১৪০ জন ইফতার করেন। ইফতারে বুট, মুড়ি, পেঁয়াজু, চপ, জেলাপিসহ বিভিন্ন ফল দেওয়া হয়। এ ছাড়াও, প্রতিদিন শরবতসহ সপ্তাহে একদিন খিচুড়ি মাংস দেওয়া হয়।

রানা আনছারী কালিহাতী উপজেলার বল্লা এলাকার আবুল কাশেম আনছারীর ছেলে। তিনি শহরের আদালত পাড়ার বাসিন্দা। তিনি মেডিসিন, মোবাইল ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ইফতারের প্রায় এক ঘণ্টা আগে ইফতারসামগ্রী আনা হয়। তা প্লেটে বণ্টন করে লাইনে বিতরণ করা হয়। ইফতারের ২০-২৫ মিনিট আগে থেকে মুসল্লিরা আসতে থাকেন। ইফতারের ১০ মিনিট আগে পরিপূর্ণ হয় মসজিদ প্রাঙ্গণ।

ইফতার গ্রহণ করতে আসা মাসুদ মিয়া বলেন, শহরে কেনাকাটা করতে এসেছিলাম। ইফতারের সময় হওয়ায় কোথায় যাবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। পরে মসজিদে দেখতে পাই ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে। এখানে বাড়ির মতোই সামগ্রী দিয়ে ইফতার করতে পেরেছি। অনেক মুসুল্লিদের সাথে ইফতার করতে পেরে খুব ভালো লাগছে।

অপরজন কালাম মিয়া বলেন, শহরেই একটি দোকানে কাজ করি। ইফতারের সময় হলে এখানে এসে ইফতার করি। ইফতার করতে কোনো প্রকার টাকা লাগে না। মানসম্মত ইফতার করতে পেরে আমি খুব খুশি।

ব্যবসায়ী রানা আনছারী বলেন, ২০১১ সাল থেকে আমার গ্রামের বাড়িতে এতিম খানা ও মাদ্রাসা পরিচালনা করছি। রমজান এলেই ২০১৭ সাল থেকে কেন্দ্রীয় মসজিদে মাসব্যাপী ইফতার করাই। রোজাদারদের ইফতার করাতে পেরে আমার খুব ভালো লাগে। আল্লাহ পাক আমাকে যতদিন সুস্থ রাখবে ও যতদিন সামর্থ দিবে, তত দিন কেন্দ্রীয় মসজিদে ইফতার দিয়ে যাবো।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রানুয়ারা খাতুন বলেন, অবশ্যই এটি একটি মহৎ উদ্যোগ। এমন ভালো কাজে রানা আনছারীর মতো বিত্তবান ও সামর্থবানদের এগিয়ে আসা উচিত।

/মাহি/

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়