ঢাকা     শুক্রবার   ০১ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ১৭ ১৪২৯ ||  ০১ জিলহজ ১৪৪৩

প্রবাসী জহুরের ৭৫ লাখ টাকা ড্রাগন ফল বিক্রির সম্ভাবনা 

মো. মামুন চৌধুরী, হবিগঞ্জ  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৫৫, ১৫ মে ২০২২   আপডেট: ১৮:১৯, ১৫ মে ২০২২

ড্রাগন ফল। কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশের মানুষ জানতো এটি বিদেশি ফল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশে এ ফলের চাষ এতটা বেড়েছে যে, এখন এটি দেশি ফল বলেও পরিচিত। 

হবিগঞ্জেও ড্রাগনের চাষ হচ্ছে। বর্তমানে জেলার কৃষি বিভাগের মাধ্যমে এ ফলের চাষ ছড়িয়ে দিতে নানাভাবে চেষ্টা চলছে। দেওয়া হচ্ছে উৎসাহ। এতে কৃষকরা ফলটি চাষে মনোযোগী হচ্ছেন। ইতোমধ্যে জেলার কয়েকটি স্থানে চাষ শুরু হয়েছে। যারাই এ ফলটি চাষ করেছেন, সবাই সফল। প্রতি মৌসুমে মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ড্রাগন ফল পাওয়া যায়। সঠিক পরিচর্যায় প্রতিটি গাছ ১০ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত ভালো ফলন দেবে। 

জেলা কৃষি বিভাগ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। জানা গেছে, টক-মিষ্টি ও মিষ্টি স্বাদের ড্রাগন চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন জেলার চুনারুঘাট উপজেলার মানিক ভান্ডার গ্রামের বাসিন্দা সৌদি আরব প্রবাসী জহুর হোসেন।

কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ২০২১ সালের ১৩ জুন প্রায় ২৫২ শতক জমিতে গড়ে তুলেন শখের ড্রাগন ফলের বাগান। এ বাগানের নাম দেন মনোয়ারা জহুর এগ্রো ফার্ম। পাহাড়ি এলাকায় স্থাপিত এ বাগানে রোপণ করেন প্রায় সাড়ে ৭ হাজার ড্রাগন গাছের চারা। এ পর্যন্ত চাষাবাদে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫২ লাখ টাকা। বর্তমানে গাছে গাছে ড্রাগন ফল শোভা পাচ্ছে। মাসখানের মধ্যে ফল বিক্রি শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত অনুকূল পরিবেশ থাকলে প্রায় ৭৫ লাখ টাকার ফল বিক্রির সম্ভাবনা আছে। 

প্রতিদিন ৬ জন শ্রমিক এ বাগানের পরিচর্যা করছেন। ড্রাগন গাছের গোড়া থেকে ঘাস পরিষ্কার করে পালিত ৫টি গাড়লকে খেতে দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পরিদর্শনকালে দেখা দেখে ড্রাগ গাছের ফাঁকে ফাঁকে বেগুন গাছ। আর বাগানের চারপাশে তারের বেড়ার পাশে রয়েছে প্রায় ৭০টি কাঁঠালসহ অন্যান্য ফলের গাছ। গাছে গাছে বেগুন, কাঁঠাল, বিভিন্ন ফল আছে। গাছের গোড়ায় দেওয়া হচ্ছে কেঁচো সারসহ অন্যান্য সারও। বিষ প্রয়োগ করা হচ্ছে না।

মালিক জহুর হোসেনের আত্মীয় ফার্মের পরিচালক আব্দুল আহাদ বলেন, এলাকার কৃষকদের মাঝে এই ফলের চাষ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। এলাকার প্রায় বাড়ির আঙ্গিনায় শোভা পাচ্ছে ড্রাগন ফল গাছ। তাদের গাছ থেকেও ফল উৎপাদন হচ্ছে। আমাদের বাগানে পরিচর্যার পর বছর যেতেই গাছে গাছে ফল শোভা পাচ্ছে। বাম্পার ফল হয়েছে। তাই আরও কিছু জমি আবাদ করে ড্রাগন ফলের গাছ রোপণ করা হবে। তার সাথে আরও বেশ কিছু গাড়ল ক্রয় করে নিয়ে আনা হবে পালনের জন্য। 

তিনি আরও বলেন, প্রবাস থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে বাগানের খবর নিচ্ছেন মালিক জহুর হোসেন। তবে বিদ্যুৎ না থাকায় বিরাট সমস্যা দেখা দিয়েছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ প্রয়োজন।  

পরিদর্শন করে দেখা গেছে, তার ড্রাগন বাগান দূর থেকে দেখলে মনে হয় সযত্নে ক্যাকটাস লাগিয়েছেন কেউ। একটু কাছে যেতেই দেখা যাবে লাল ফলে ভরা বাগান। প্রতিটি গাছে রয়েছে ফুল ও ফল। এ দেশের আবহাওয়া লাল, হলুদ এবং সাদা ড্রাগন ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, এলাকায় এ ফলের চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন জহুর হোসেন। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।  আমরাও এফল চাষ করতে চাই। এজন্য চাই সরকারি সহযোগিতা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ড্রাগন লতানো কাটাযুক্ত গাছ, যদিও এর কোনো পাতা নেই। গাছ দেখতে অনেকটা সবুজ ক্যাকটাসের মতো। ড্রাগন গাছে শুধু রাতে সপরাগায়ন হয়ে ফুল ফোটে। ফুল লম্বাটে সাদা ও হলুদ রঙের হয়। তবে মাছি, মৌমাছি ও পোকা-মাকড় পরাগায়ন ত্বরান্বিত করে। কৃত্রিম পরাগায়নও করা যায়। ড্রাগনের চারা বা কাটিং রোপণের ১০ থেকে ১৫ মাসের মধ্যেই ফল সংগ্রহ করা যায়।

চুনারুঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার মাহিদুল ইসলাম বলেন, মার্চ থেকে মে মাসে ফুল আসে আর শেষ হয় নভেম্বর মাসে। ফুল আসার ৩০ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে ফল সংগ্রহ করা যায়। নভেম্বর মাস পর্যন্ত ফুল ফোটা এবং ফল ধরা অব্যাহত থাকে। একেকটি ফলের ওজন ২৫০ গ্রাম থেকে এক কেজিরও বেশি হয়ে থাকে। একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ থেকে ১০০ থেকে ১৩০টি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। সঠিক পরিচর্যা করতে পারলে একটি গাছ থেকে ২০ বছর বয়স পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব।

হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আশেক পারভেজ বলেন, জহুর হোসেনের বাগানের সফলতা দেখে ড্রাগন ফলের চাষ করতে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে অন্য কৃষকের মাঝে। কৃষি বিভাগ কৃষকদের পাশে আছে। পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। বিদেশি এ ফল দেশের মাটিতে চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। অধিক পুষ্টিগুণসম্পন্ন এ ফল চোখকে সুস্থ রাখে, শরীরের চর্বি কমায়, রক্তের কোলেস্টেরল কমায়, উচ্চ রক্তচাপ কমানোসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এফল চাষে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।

/এইচএম/

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়