ঢাকা     শুক্রবার   ০১ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ১৭ ১৪২৯ ||  ০১ জিলহজ ১৪৪৩

সফল জীবনের গল্প শোনালেন নিজাম উদ্দীন

রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:০৩, ২২ মে ২০২২   আপডেট: ১২:০৪, ২২ মে ২০২২
সফল জীবনের গল্প শোনালেন নিজাম উদ্দীন

মোহাম্মদ নিজাম উদ্দীন

ব্যবসা করেও যে মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়, বছর বছর হাজার হাজার মানুষের স্বপ্ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারাত্ব দূর করা যায়, তার প্রমাণ রেখেছেন চট্টগ্রামের স্বপ্নবাজ তরুণ মোহাম্মদ নিজাম উদ্দীন। 

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সাল ‘রাজা মিয়া অ্যান্ড সন্স’ নামের তিন চাকার মোটরযানের ব্যবসার সূচনা করেন নিজাম উদ্দীনের বাবা। সেই থেকে সমগ্র চট্টগ্রাম মহানগরীতে থ্রি-হুইলার মোটরযানের ব্যবসায় একক আধিপত্য রাজা মিয়া অ্যান্ড সন্সের। পৈত্রিক সূত্রে ২০০০ সালে এই ব্যবসার হাল ধরেন নিজাম উদ্দীন। এরপরই এই ব্যবসাকে কাজে লাগাতে শুরু করেন মানবকল্যাণে, বেকারত্ব মোচনে। গত ২২ বছর যাবত তিনি মানবসেবা করছেন। 

রাইজিংবিডি’র সঙ্গে স্বাক্ষাৎকারে রাজা মিয়া অ্যান্ড সন্সের কর্ণধার নিজাম উদ্দীন জানান, ১৯৭৪ সালে রাজা মিয়া অ্যান্ড সন্স নামের এই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্ম। প্রথমে পুরাতন তিন চাকার মোটরযান ক্রয়-বিক্রয় করার মাধ্যমে ব্যবসার সূচনা করেন তার বাবা। ওই সময়ে ইটালিয়ান ভেসপা, ফোর মডেল, ইটালিয়ান টেক্সি/টেম্পু, বাজাজ টু-স্ট্রোক ইত্যাদি চট্টগ্রামের সড়কে চলাচলের জন্য বাজারে নিয়ে আসলেও ক্রমান্বরে নতুন পুরাতন ফোর স্ট্রোক, ম্যাক্সিমা অটোটেম্পু ও হাল আমলের সিএনজি অটোরিকশা ক্রয়-বিক্রয় করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। 

মূলত চট্টগ্রাম মহানগরীতে পুরাতন গাড়ির ক্রয়-বিক্রয়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জনক রাজা মিয়া অ্যান্ড সন্সের প্রতিষ্ঠাতা নিজাম উদ্দীনের বাবা রাজা মিয়া। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটি উত্তরা মোটরস লিমিটেডের নতুন সিএনজির ডিলার কিংবা পুরাতন সিএনজি অটোরিকশা ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। 

এ ছাড়া, ঢাকা-চট্টগ্রামে আরও যারা এই থ্রি-হুইলার যানের ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের অধিকাংশই সৃষ্টি হয়েছে রাজা মিয়া অ্যান্ড সন্স থেকে।  তারা একসময়ে সহকর্মী, সহকারী, ম্যানেজার, ক্রয়-বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে রাজা মিয়া অ্যান্ড সন্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ২০০০ সালে পৈত্রিক সূত্রে রাজা মিয়া অ্যান্ড সন্সের কর্ণধার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই থ্রি-হুইলার যানের ব্যবসাকে জনকল্যাণে কিভাবে কাজে লাগানো যায়, কিভাবে বেকারত্ব মোচন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়, তা নিয়েই কার্যক্রম শুরু করেন নিজাম উদ্দীন। 

রাইজিংবিডিকে নিজাম উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই বড় ব্যবসার দায়িত্ব গ্রহণের পর পুরাতন টু-স্ট্রোক বেবিট্যাক্সির পাশাপাশি ২০০২ সালে উত্তরা মোটরস লিমিটেডের নতুন বাজাজ সিএনজি গাড়ির মার্কেটিং শুরু করি। এই সময় সফল ধারাবাহিক কার্যক্রম এই বাজাজ সিএনজি চট্টগ্রামের পরিবহন সেক্টরে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। এরপর টু-স্ট্রোক গাড়ির মালিকদের পরিবেশবান্ধব ফোর-স্ট্রোক গাড়ির মালিকানা গ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করেন। 

চট্টগ্রামে প্রথম টু-স্ট্রোক গাড়ি বন্ধ করে ফোর স্ট্রোক গাড়ির প্রচলন করতে প্রধানতম ভূমিকা রাখেন নিজাম উদ্দীন। তিনি মালিকদের বিনা টাকায়, কিস্তি সুবিধায় গাড়ি দিয়ে সহায়তা করেন। অসংখ্য থ্রি-হুইলার চালককে গাড়ির মালিক করেছেন কোনো আগাম অর্থ না নিয়েই।  নিজাম উদ্দিনের উৎসাহ ও সহায়তা পেয়ে চট্টগ্রাম নগরীতে ফোর-স্ট্রোক গাড়ির চলাচল দ্রুতই শুরু হয়। 

নিজাম উদ্দীন বলেন, প্রতিবছর গড়ে এক থেকে দুই হাজার পর্যন্ত সিএনজি অটোরিকশা আমাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিক্রি ও সড়কে চলাচল করছে। এর মধ্যে কমপক্ষে ১ হাজার চালক-মালিককে কিস্তি সুবিধায় এবং ঋণ সুবিধায় আমরা গাড়ি প্রদান করে তার পুরো পরিবারকে স্বাবলম্বী করার কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। এভাবে গত ২০ বছরে কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্বাবলম্বী করতে পেরেছে রাজামিয়া অ্যান্ড সন্স। 

এ ছাড়া, এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গাড়ি অদল-বদল প্রোগ্রাম, সহজ ঋণ প্রোগ্রাম, ট্যাক্সি টেম্পুর চালকদের ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, মেকানিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা, রোড়-শো ও ডেমো সার্ভিসসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। 

নিজাম উদ্দীন বলেন, বেকারত্ব মোচনে আমরা সবসময়ই সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। কেউ যদি সিএনজি অটোরিকশা কিনে অথবা চালিয়ে নিজেদের স্বাবলম্বী করতে চান, আমরা তাকে অনেকটা বিনা টাকাতেই তার হাতে গাড়ি তুলে দিয়েছি। তারা গাড়ি চালিয়ে সেই আয় থেকে গাড়ির মূল্য পরিশোধ করেছে। এভাবে গত ২০ বছরে প্রায় অসংখ্য গাড়ির মালিক সৃষ্টি করেছে রাজা মিয়া অ্যান্ড সন্স। যারা এখন নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। 

তিনি আরও বলেন, সরকারি নির্দেশ মোতাবেক চট্টগ্রাম বিআরটিএ কর্তৃক ২০০২, ২০০৩, ২০০৪ মডেলের গাড়ি ১৫ বছরে মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২০১৮, ২০১৯, ২০২০ সালে গাড়ি স্ক্রাপ হলে এর বিপরীতে রাজা মিয়া অ্যান্ড সন্স প্রতিবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক বাজাজ সিএনজি গাড়ি প্রদান করে।  কারণ, চট্টগ্রাম নগরীতে একমাত্র রাজা মিয়া অ্যান্ড সন্সই অসচ্ছল, নিম্নবিত্ত ড্রাইভার-মালিকদের জন্য গাড়ির ঋণ, বিনিয়োগ, স্বল্প ডাউনপেমেন্টে ও অল্প মেয়াদি বাকিতে গাড়ি দেওয়ার ব্যবস্থা রেখেছে।

বাবার আদর্শ ধারণ করে আমি মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই। ব্যবসা করে শুধু মুনাফা অর্জন আমার লক্ষ্য নয়। নিরাপদ সড়ক, চালক-মালিকদের সুরক্ষা, বেকারত্ব মোচন এবং হতদরিদ্র মানুষকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য নিয়েই আমি অব্যাহতভাবে কাজ করবো আগামী দিনগুলোতেও, বলেন নিজাম উদ্দীন।

/এইচএম/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়