ঢাকা     শুক্রবার   ১২ আগস্ট ২০২২ ||  শ্রাবণ ২৮ ১৪২৯ ||  ১৩ মহরম ১৪৪৪

পর্যটকদের মোটরসাইকেল দেখাশুনার টাকায় চলে পড়ালেখা

বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৫৪, ৫ আগস্ট ২০২২   আপডেট: ১১:০৫, ৫ আগস্ট ২০২২
পর্যটকদের মোটরসাইকেল দেখাশুনার টাকায় চলে পড়ালেখা

পড়ালেখার খরচ চালাতে পর্যটকদের মোটরসাইকেল দেখভাল করেন তিন কিশোর

বাবা কৃষিকাজ করে। বড় দুই ভাই পড়াশোনা করেন। কৃষিকাজ করে বাবার যে আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়। তাই পদ্ম বিল দেখতে আসা পর্যটকদের মোটরসাইকেল দেখাশুনা করে আয় হওয়া টাকা দিয়েই নিজের পড়াশুনার খরচ চালাতে হয় লিমন সরদারকে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বলাকই গ্রামের বাসিন্দা লিমন। তার বাবার নাম মিন্টু সরদার। লিমন বলাকইড় আজাহার উদ্দিন রাবেয়া সরোয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

লিমন জানান, প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয় মোটরসাইকেল দেখাশুনা করে। যা আয় হয় তা দিয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালান তিনি।

আরো পড়ুন: বিলজুড়ে সৌন্দর্যের আভা ছড়াচ্ছে রাশি রাশি পদ্ম

মোটরসাইকেল রাখায় লিমনের সঙ্গে কাজ করেন একই গ্রামের বেনজির সরদারের ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তামিম সরদার ও মৃত তরিকুর রহমান সরদারের ছেলে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীর রামিম সরদার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় বলাকইড় বিলের পদ্ম ফুলের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুরসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে বিভিন্ন জেলা থেকে পরিবার-পরিজন আর বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ছুটে আসছেন অনেকেই। তাদের অনেকেই মোটরসাইকেলে বা ইজিবাইকে করে বিল এলাকায় আসছেন।

বলাইড় বিলে গিয়ে দেখা যায়, তিন কিশোর মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক পার্কিং করে দেখাশোনা করছেন। মোটরসাইকেল মালিকদের হাতে একটি করে সিরিয়াল নাম্বার তুলে দিচ্ছেন। দর্শনার্থীরা বিলে ঘুরে এসে সিরিয়াল নাম্বারের কার্ড দিয়ে মোটরসাইকেল নিচ্ছেন। আর এ জন্য ২০ টাকা করে দিতে হচ্ছে দর্শণার্থীদের।   

লিমন সরদার বলেন, ‘পদ্মবিল দেখতে প্রতিদিন আসছেন পর্যটকরা। শুক্রবার ও শনিবার পর্যটকদের ভিড় থাকে সবচেয়ে বেশি। অধিকাংশ পর্যটকই মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকে করে এখানে বেড়াতে আসেন। আমরা এসব ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলের দেখভাল করি। ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল প্রতি ২০ টাকা করে নিয়ে থাকি। এতে প্রতিদিন আমার ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। কখনো কখনো ৪০০ টাকাও আয় হয়। আমার লেখাপড়ার খরচ উঠে যায়।’

তামিম সরদার বলেন, ‘আমার বাবা কৃষি কাজ করে। যা আয় হয় তাই দিয়ে কোন রকমে সংসার চলে। এখান থেকে আয় হওয়া টাকা দিয়ে আমি আমার পরিবারকে সাহায্য করি একই সঙ্গে নিজের পড়ার খরচও চালাই।’

৮ম শ্রেণির রামিম সরদার বলেন, ‘আমার বাবা তরিকুর রহমান মারা গেছেন। মা ছোটখাট কাজ করে সংসার চালান। শুক্রবার ও শনিবার আমাদের আয় রোজগার বেশি হয়। এই দুই দিন ৪০০ টাকা করে আয় হয়। এদিয়ে আমার লেখাপড়ার খরচ চলে।মাকে আর্থিক সাহায্য করি। এই টাকায় ছোট বোনের লেখাপাড়াও চলে। এতে মায়ের কিছুটা কষ্ট কম হয়।’

মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়