ঢাকা     সোমবার   ২৮ নভেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৯ ||  ০৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

১০ বছর পর আমের দামে স্বস্তি

মেহেদী হাসান শিয়াম, চাঁপাইনবাবঞ্জ  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৪৭, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২   আপডেট: ১০:৪৯, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২
১০ বছর পর আমের দামে স্বস্তি

কানসাট আমের আড়ত

আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে এই বছর আমের সর্বোচ্চ দাম পেয়ে খুশি বাগানি ও ব্যবসায়ীরা। বিগত বছরগুলোতে আমের ফলন ভালো হলেও নায্য দাম পাননি তারা। এই অঞ্চলের আমে ফরমালিন দেওয়া হয় এমন প্রচারের প্রভাব পড়েছিল আম বাজারে। অবস্থা এমন হয়েছিল যে, ঘরের আম ঘরেই পঁচে নষ্ট হতো।

আমের মৌসুম প্রায় শেষ। কানসাটের আম বাজারে এখন শুধু বিলম্বিত আশ্বিনা ও কাটিমন জাতের আম পাওয়া যাচ্ছে। এই দুটো জাতের আমের দামও অনেক বেশি। প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকায়। সব মিলিয়ে বাজারে এখন প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ মণ আম বিক্রি হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০১২ সালে শেষবারের মতো আমের দর সবচেয়ে বেশি ছিল। তারপর আর আমের দাম বাড়েনি। আমের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেক বাগানি পুরাতন বাগানের বড় বড় আম গাছ কেটেও ফেলেন। যদিও পরে ওই বাগানগুলোতে নাবিসহ বিভিন্ন জাতের আম গাছ লাগিয়েছেন তারা। 

এছাড়া মহাসড়কের পাশের আম বাগানগুলো কেটে প্লট আকারে জমি বিক্রি করেছেন অনেক আমা বাগানি। 

রেজাউল করিম নামের এক আম বাগানি বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষিরা নিরাপদ আম উৎপাদন করেন। বাহিরের জেলার ব্যবসায়ীরা এখানে এসে আমের বাগান কেনেন। বেশি লাভের আশায় কিছু ব্যবসায়ী অপরিক্ক অবস্থায় আম পেড়ে নেন। ঢাকায় গিয়ে ফরমালিন মিশিয়ে সেসব আমা ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন। অনেকে আবার অন্য জায়গা থেকে নেওয়া আমা বাজারে বিক্রির সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বলে বিক্রি করেন। ফলশ্রুতিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমে ফরমালিন মেশানো এমন গুজব থেকে অনেকেই আর আম কিনতে চান না। এরই প্রভাব পড়ে এ জেলার আম ব্যবসায়ের ওপর।’

জেলার আরেক আম ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘স্বাদ আর সুগন্ধে চাঁপাই’র আমই সেরা। নিরপদ আম উৎপাদনে এখানকার আম চাষিরা পাঁচসাত বছর ধরে ফ্রুট ব্যাগের ব্যবহার করেন। যার ফলে আমের আকার আকৃতি ও স্বাদ আর গায়ের রঙ উজ্জল থাকে। নিরাপদ আম উৎপাদনের জন্য এ জেলার চাষিরা এখনও অনেক পরিশ্রম করে।’

ম্যাংগো প্রডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শামীম খান বলেন; ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমে ফরমালিন মেশানো হয় এমন অপপ্রচারে বাইরের জেলাগুলোতে আম সরবারহ কমে গিয়েছিল। ১০ বছর পর এবার আমের কাঙ্খিত দাম পেয়েছেন চাষিরা। বছর তিনেক আগে আমের মৌসুম শেষে আশ্বিনা আমের দাম ছিল আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা। এবার সেই আমই বিক্রি হচ্ছে ১৩-১৪ হাজার টাকায়।’

কানসাট আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক টিপু বলেন, ‘আমের মৌসুম প্রায় শেষ। বাজারে আশ্বিনা ও কাটিমন ছাড়া অন্য কোনো আম নেই। এখন বাজারে প্রতিদিন এক ট্রাক আম বাইরে সরবরাহ হয়। এ বছরে বর্ষা না হওয়ায় আম তেমন নষ্ট হয়নি।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি বছরে আম উৎপাদন কম। প্রথম থেকেই চাষিরা চড়া দামে আম বিক্রি করেছেন। অনেক বছর পর জেলার আম চাষিরা কাঙ্খিত দাম পেয়ে খুশি।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক ড. পলাশ সরকার বলেন, ‘জেলায় এবার পুরাতন গাছে আম তেমন ছিল না। সবচেয়ে ছোট গাছের বাগানগুলোতে বেশি আমের ফলন হয়েছিল। এবছরে  চাষিরা তাদের কাঙ্খিত মূল্য পেয়েছেন।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে প্রায় ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষবাদ করেছেন বাগানিরা। আম উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন।

বিভিন্ন আমার বাজার সূত্রে জানা গেছে, এই বছরে আমের ভরা মৌসুমে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার মেট্রিক টন আম বাইরের জেলাগুলো সরবারহ হতো।

মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়