RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ১৩ ১৪২৭ ||  ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পাঁচ বছরের বৃদ্ধ

দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০২:১২, ৩ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
পাঁচ বছরের বৃদ্ধ

বিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে রোগের সম্পর্ক চিরকাল বৈরি। একটি ডালে ডালে চললে অপরটি চলে পাতায় পাতায়। অর্থাৎ বিজ্ঞান যত উন্নতি করে, তত নিত্যনতুন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের নাভিশ্বাস কমে না। নইলে আরো নতুন ওষুধ, আরো জীবাণু ধ্বংসকারী উদ্ভাবনে মানুষ সচেষ্ট হবেন কেন? কারণ পৃথিবীতে নতুন রোগ, যেগুলোর কারণ এখনও অজানা।

এরকম একটি বিরল জেনেটিক রোগ প্রোজেরিয়া। একবার আপনার শরীরের দিকে তাকান। চিন্তা করুন, আপনার বয়স মাত্র পাঁচ বছর, কিন্তু আপনাকে দেখাচ্ছে সত্তুর বছরের বৃদ্ধের মতো- তখন আপনার কেমন লাগবে? এই ধরনের অদ্ভুত রোগ হচ্ছে প্রোজেরিয়া।

যারা অমিতাভ বচ্চন অভিনীত বলিউডের ‘পা’ সিনেমা দেখেছেন, তারা এই রোগ সম্পর্কে ভালো ধারণা পেতে পারেন। আমাদের দেশে এ রোগে আক্রান্ত মাগুরার শিশু বায়োজিদ হোসেনের ঘটনাটিও বেশ আলোচিত। ২০১২ সালের মে মাসে মাগুরা মাতৃসদন হাসপাতালে বায়েজিদের জন্ম হয়। তখন থেকেই সে দেখতে বৃদ্ধ মানুষের মতো।

প্রোজেরিয়া রোগে আক্রান্ত মানুষের শারীরিক বয়স অন্যান্য সাধারণ মানুষের তুলনায় আট গুণ বেশি বৃদ্ধি পেতে থাকে। যে কারণে এই ধরনের রোগে আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষই শিশু বয়স পার করে কৈশোর অথবা যৌবনে পা রাখতে পারে না। তার অনেক আগেই অকাল বয়সে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করে। প্রোজেরিয়া রোগে আক্রান্ত মাগুরার শিশু বায়েজিদ ২০১৭ সালে সাড়ে পাঁচ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছে।

বিজ্ঞানীগণ প্রোজেরিয়া নিয়ে বিশেষভাবে আগ্রহী কারণ তাঁদের ধারণা এই রোগ নিয়ে গবেষণা করলে মানুষের স্বাভাবিক বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা যাবে। বিজ্ঞানী জোনাথান হাচিনসন ১৮৮৬ সালে প্রথম প্রোজেরিয়া রোগের বর্ণনা দেন। আরেক বিজ্ঞানী হ্যাস্টিংস গিলফোর্ড ১৮৯৭ সালে পৃথকভাবে এই রোগের বর্ণনা দেন। পরবর্তী সময়ে এই রোগের নাম হাচিনসন-গিলফোর্ড প্রোজেরিয়া সিন্ড্রোম রাখা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি ৪ মিলিয়ন জন্মগ্রহণকারী শিশুর মধ্যে ১ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ১০০ জন প্রোজেরিয়া রোগী আছে বলে জানা যায়। ভারতে একই পরিবারে পাঁচজন প্রোজেরিয়া রোগী আছে। এই রোগের কার্যকর কোনো চিকিৎসা নাই। তাই এটি ভালো হওয়ার রোগ না। এই রোগীরা সাধারণত তেরো বছরের বেশি বাঁচে না। চিকিৎসকরা হরমোন ট্রিটমেন্ট থেকে শুরু করে অনেক কিছুই প্রয়োগ করেছেন প্রোজেরিয়া রোগীদের বাঁচাতে, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন।


ঢাকা/তারা

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়