ঢাকা, সোমবার, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কিছু পরামর্শ

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-১৬ ৯:৫৮:৩১ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-১৬ ৯:৫৮:৩১ এএম

আমাদের শরীরের যে সিস্টেম বিভিন্ন রোগ বা অসুস্থতা থেকে সুরক্ষা দেয়ার প্রচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে তাকে ইমিউন সিস্টেম বলে। এ সিস্টেমকে বাংলায় রোগপ্রতিরোধ তন্ত্র বলা যেতে পারে। ইমিউন সিস্টেম যে সুরক্ষা দেয় তাকে ইমিউনিটি বলে। মানুষের তিন ধরনের ইমিউনিটি রয়েছে, যথা- ইনেট, অ্যাডাপ্টিভ ও প্যাসিভ। ইমিউন সিস্টেম যত শক্তিশালী হবে, রোগ বা অসুস্থতার ঝুঁকি তত কমে যাবে। আপনার লাইফস্টাইলের অসংগতি এ সিস্টেমকে দুর্বল করতে পারে বা রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা কমিয়ে ফেলতে পারে। তাই ইমিউন সিস্টেমকে সর্বোচ্চ কার্যকর রাখতে জীবনযাপনে সতর্ক দৃষ্টি রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রতিবেদনে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কিছু পরামর্শ দেয়া হলো।

স্ট্রেস কমিয়ে ফেলুন : কিছু স্ট্রেস বা মানসিক চাপ স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হতে পারে। এটি হচ্ছে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য আপনার শরীরের একটি উপায়, যেমন- প্রেজেন্টেশন করা। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী অতিরিক্ত স্ট্রেস আপনার স্বাস্থ্যকে পরিণতিতে ভোগাতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘসময় ধরে অতিরিক্ত স্ট্রেসে থাকলে ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে যেতে পারে। কোন কোন স্ট্রেস আপনাকে ভোগাচ্ছে তা শনাক্ত করে স্ট্রেস কমানোর চেষ্টা করুন। নিজেকে শিথিল করতে সময় দিন এবং যে কাজে আনন্দ পান সেটা করুন, কিন্তু খারাপ কিছু নয়।

কুকুর অথবা অন্য প্রাণী পুষুন: কুকুরকে মানুষের সেরা বন্ধু বলার পেছনে সংগত কারণ রয়েছে। কুকুর অথবা অন্যান্য পোষা প্রাণী আপনাকে সঙ্গ দিয়ে ও এক্সারসাইজ করিয়ে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নসাধন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব লোকের পোষা প্রাণী ছিল তাদের ব্লাড প্রেসার ও কোলেস্টেরলের মাত্রা কম ছিল ও হার্টের স্বাস্থ্যে তেমন ত্রুটি ধরা পড়েনি। অন্য একটি গবেষণা ইঙ্গিত করছে, কুকুর পুষলে ইমিউন সিস্টম আরো শক্তিশালী হতে পারে ও শিশুদের অ্যালার্জির ঝুঁকি কমতে পারে।

শক্তিশালী সামাজিক নেটওয়ার্ক গড়ুন: আমরা প্রত্যেকে জানি যে মানসিক প্রশান্তির জন্য বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটানো গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু শক্তিশালী সামাজিক নেটওয়ার্কও আপনার স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একটি সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, শক্তিশালী সামাজিক সম্পর্কে সম্পৃক্ত লোকদের অকালে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা দুর্বল সামাজিক নেটওয়ার্কের লোকদের চেয়ে ৫০ শতাংশ কম। আপনার সামাজিক নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করতে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করতে পারেন, ক্লাস নিতে পারেন অথবা আপনাকে আকৃষ্ট করে এমন গ্রুপে যোগ দিতে পারেন। নিশ্চিত হোন যে ইতোমধ্যে গড়ে ওঠা সম্পর্কগুলোও মজবুতের দিকে এগোচ্ছে।

ইতিবাচকতার সঙ্গে থাকুন: ইতিবাচক বা ভালো চিন্তাভাবনা আপনার ইমিউন সিস্টেমকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। আইনের ছাত্রছাত্রীদের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় পাওয়া গেছে, যখন তারা প্রত্যাশার মাত্রা বাড়িয়েছিল তাদের ইমিউন সিস্টেম আরো শক্তিশালী হয়েছিল। তাই আপনার ইমিউন সিস্টেমকে উন্নত করতে আশাবাদী হোন, কঠিন পরিস্থিতি বা বিপর্যয়েও ভালো কিছু খুঁজুন, নেতিবাচক চিন্তাভাবনার বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসুন ও মনকে প্রশান্ত করে এমন কাজে জড়িত হোন।

প্রাণখুলে হাসুন: একথাটি শুনেননি এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর হতে পারে- হাসলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এটা সম্ভবত মিথ্যে নয়, বিভিন্ন গবেষণাও একথাকে সমর্থন করছে। কিছু গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, হাসলে ইমিউন সিস্টেম আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে। হাসি ও ইমিউন ফাংশনের ওপর পরিচালিত কিছু গবেষণা বিশ্লেষণ করেছেন এমন একদল গবেষক পেয়েছেন, যেসব লোক মজার ভিডিও দেখেছিলেন, ভিডিও দেখার পর তাদের ইমিউন সিস্টেম আরো সক্রিয় হয়েছিল। কিন্তু হাসি আসলেই রোগ বা অসুস্থতা প্রতিরোধ করতে পারে কিনা তা নিশ্চিত হতে আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

নিয়মিত সহবাসে লিপ্ত হোন: গবেষণায় পাওয়া গেছে, যৌনমিলনে কেবলমাত্র ভালো অনুভবই হয় না, এ ক্রিয়া স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো- একটি ভালো যৌনজীবন স্বাস্থ্যের উন্নয়নসাধন করতে পারে। একটি গবেষণায় মধ্যবয়স্ক ও তদোর্ধ্ব বয়সের লোকদের যৌনক্রিয়া ও স্বাস্থ্যের মধ্যকার যোগসূত্র পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে- গবেষকরা পেয়েছেন যে, যারা ঘনঘন সহবাসে লিপ্ত হয়েছিলেন তাদের সার্বিক স্বাস্থ্য এ ক্রিয়া সীমিতকারীদের তুলনায় ভালো ছিল।

ডায়েটে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট রাখুন: প্রচুর পরিমাণে ফল ও শাকসবজি খেলে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের স্বাস্থ্যকর ডোজ পাবেন। খাবারের এসব উপাদান আপনার কোষকে ফ্রি র‍্যাডিকেলস থেকে রক্ষা করতে পারে। বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট পেতে বিভিন্ন রঙের ফল ও শাকসবজি খাওয়ার চেষ্টা করুন, যেমন- কমলা, কাঁচা মরিচ, ব্রোকলি, কিউই, স্ট্রবেরি, গাজর, তরমুজ, পেঁপে, খরমুজ ও সবুজ শাকসবজি।

শরীরকে সচল রাখুন: ইমিউন সিস্টেমকে সবল করার অন্যতম সাধারণ উপায় হচ্ছে নিয়মিত শরীরকে সচল রাখা বা এক্সারসাইজ করা। নিয়মিত এক্সারসাইজে মানসিক চাপ কমে এবং অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়, হৃদরোগ ও কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস পায়। সপ্তাহে কয়েকবার পরিমিত মাত্রার এক্সারসাইজ বিস্ময়কর উপকার করলেও যেকোনো ধরনের মুভমেন্টই সহায়ক হতে পারে, যেমন- সাইকেল চালানো, হাঁটা, যোগব্যায়াম, সাঁতার কাটা ও ক্রিকেট খেলা।

রাতে ভালোভাবে ঘুমান: পর্যাপ্ত ঘুম ছাড়া আপনার ইমিউন সিস্টেম রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি পাবে না। অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক লোকের প্রতিরাতে সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন হয়। নিয়মিত ঘুমের শিডিউল মেনে চলে, ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল থেকে বিরত থেকে, বিছানায় যাওয়ার আগে শরীরকে শিথিল করে ও বেডরুমের তাপমাত্রাকে স্বস্তিদায়ক লেভেলে এনে আপনি নিরবচ্ছিন্ন, গভীর ঘুম নিশ্চিত করতে পারেন।

হাত পরিষ্কার করুন: আপনার ইমিউন সিস্টেমকে রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করার জন্য অন্যতম সহজ উপায় হচ্ছে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস। এটি হচ্ছে নিজেকে, পরিবারের সদস্যকে ও আপনার বিচরণ আওতার মধ্যে থাকা অন্যান্য লোককে সুস্থ রাখারও সেরা উপায়। সাবান ব্যবহার করে পরিষ্কার পানিতে হাত ধুয়ে নিন। আপনার কাছে সাবান ও পানি না থাকলে অ্যালকোহল-বেসড হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে পারেন, যেখানে ন্যূনতম ৬০% শতাংশ অ্যালকোহল রয়েছে। খাবার তৈরি ও পরিবেশনের আগে, বাথরুম ব্যবহারের পরে ও জীবাণু থাকতে পারে এমন কিছুর সংস্পর্শে আসলে হাত ধুয়ে নিতে ভুলবেন না।

 

ঢাকা/ফিরোজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন