ঢাকা, রবিবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

কেন খাবেন পেঁয়াজ

আহমেদ শরীফ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-১৭ ১১:০২:২৮ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-১৭ ১১:০২:২৮ এএম

পেঁয়াজের দাম এখন রেকর্ড ছাড়িয়ে প্রতি কেজি ২৪০/২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষরা তাই পেঁয়াজ কিনতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে প্রতিদিনের রান্নার প্রয়োজনীয় এক উপকরণ এই পেঁয়াজ কি খাওয়া খুব বেশি জরুরি কি না, সে প্রশ্ন করছেন অনেকে। শত শত বছর ধরেই স্বাস্থ্যকর এক খাদ্য উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে পেঁয়াজ। রান্না সুস্বাদু করতেও এর জুড়ি নেই। কী কারণে পেঁয়াজ খাওয়া উচিত তা জানি চলুন-

প্রচুর পুষ্টি আছে পেঁয়াজে: ক্যালরি কম হলেও পেঁয়াজে ভিটামিন ও মিনারেল আছে অনেক। একটি মাঝারি আকারের পেঁয়াজে ৪৪ ক্যালরি থাকে। এছাড়া প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আছে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য জরুরি। দেহের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ সারানো ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এই ভিটামিন সি। পেঁয়াজে  ফোলেট ও পাইরিডোক্সিন সহ ভিটামিন বি আছে অনেক, যা শরীরের বিপাক ক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে, লোহিত কণিকা উৎপাদন ও স্নায়ুতন্ত্রের কাজেও ভূমিকা রাখে এই ভিটামিন। এছাড়া পেঁয়াজে পটাশিয়াম থাকে প্রচুর, যা কোষ ঠিক রাখা, কিডনির কাজে সহায়তা করা, স্নায়ুতন্ত্র ঠিক রাখা ও মাংসপেশি গঠনে সহায়তা করে।

হৃদযন্ত্র ঠিক রাখতে: পেঁয়াজে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে, যা কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া পেঁয়াজ উচ্চ রক্তচাপ ও রক্ত জমাট বাঁধা রোধেও ভূমিকা রাখে।

অ্যান্টি অক্সিডেন্ট প্রচুর: পেঁয়াজে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে যা শরীরের জন্য জরুরি। এতে ২৫টিরও বেশি ফ্ল্যাভনয়েড অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে। পেঁয়াজে অ্যান্থোসায়ানিন নামের বিশেষ একটি উপাদান থাকে, যা হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া কিছু ক্যানসার ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধেও সক্রিয় এই উপাদান।

ক্যানসার প্রতিরোধক: অ্যালিয়াম গোত্রের উদ্ভিদ (রসুন, পেঁয়াজ) পাকস্থলী, প্রোস্টেট ও কোলন ক্যানসার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। ২৬টি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা পেঁয়াজ বা রসুন বেশি খান, তাদের পাকস্থলী ও কোলন ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। এছাড়া পেঁয়াজে ফিসেটিন ও কোয়েরসেটিন অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে, যা টিউমার প্রতিরোধ করে।

ডায়াবেটিস রোধে: পেঁয়াজ রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে পারে। বিষয়টি এক গবেষণায় অনেকটাই সত্যি প্রমাণিত হয়েছে।

হাড়ের ঘনত্ব বাড়ায়: যদিও দুধ ও দুধজাত খাবার হাড় গড়া ও মজবুত করতে ভূমিকা রাখে বেশি, তবে পেঁয়াজের মতো কিছু খাবারও হাড় মজবুত করতে পারে বলে জানা গেছে। এটা মানা হয় যে পেঁয়াজ অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট লেভেল বাড়ায় ও হাড়ক্ষয় রোধ করে।

অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান: ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ই. কোলি, এস. ওরিয়াস, ব্যাসিলাস সেরাস এসবের বিরুদ্ধে লড়তে পারে পেঁয়াজ। এছাড়া উন্নয়নশীল দেশে স্বাস্থ্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত ব্যাকটেরিয়া ভিবরিও কলেরির বৃদ্ধি ঠেকাতে পারে পেঁয়াজের রস। এক গবেষণায় দেখা গেছে, হলুদ রংয়ের পেঁয়াজের চামড়া থেকে সংগ্রহ করা কোয়েরসেটিন শরীরে এইচ. ফাইলোরি এবং এমআরএসএ ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করতে পারে। এইচ. ফাইলোরি ব্যাকটেরিয়া পাকস্থলীর আলসার ও কিছু ক্যানসারের জন্য দায়ী। আর এমআরএসএ ব্যাকটেরিয়া শরীরের বিভিন্ন অংশে ইনফেকশন তৈরি করে।

হজম শক্তি বাড়ায়: পেঁয়াজে আঁশ ও প্রিবায়োটিক্স আছে অনেক, যা পাকস্থলীর জন্য উপকারি। বিশেষ করে পেঁয়াজে ইনুলিন ও ফ্রুকটোলিগোসারিডেস প্রিবায়োটিক্স থাকে, সেগুলো পাকস্থলীর ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়িয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

ঘুম ও মেজাজ ঠিক রাখে: পেঁয়াজে ফোলেট নামের যে উপাদান পাওয়া যায়, তা হতাশা দূর করতে পারে। এছাড়া পেঁয়াজ খেলে ঘুম ভালো হয় ও মেজাজ ভালো থাকে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

ত্বক ও চুলের যত্নে: চুল পড়া রোধে পেঁয়াজের রস উপকারি হিসেবে মেনে আসছেন অনেকে। পেঁয়াজে ভিটামিন সি বেশি থাকে বলে তা কোলাজেন উৎপাদন করে যা আমাদের ত্বক ও চুলের গঠনের জন্য প্রয়োজন।

 

ঢাকা/ফিরোজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন