ঢাকা, রবিবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

রক্ত পরীক্ষায় যে ৯ বিষয়ে জানা যায়

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-১৯ ১০:২০:০২ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-১৯ ১০:২০:০২ এএম

একটি গড় রক্ত পরীক্ষায় শরীর থেকে নিডল দিয়ে ৩ থেকে ১০ মিলিলিটার (১ থেকে ৩ চা চামচ) রক্ত সংগ্রহ করা হয়। এ পরিমাণটা বেশি নয়, কিন্তু এ অল্প রক্ত থেকে চিকিৎসকেরা অনেক কিছু জানতে পারেন। একটি কমপ্লিট ব্লাড কাউন্টে (সিবিসি) লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা ও অণুচক্রিকা পরিমাপ করা হয়। এটি একজন মানুষের সার্বিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন করতে সাহায্য করে ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা শনাক্ত করতে পারে, যেমন- অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা ও লিউকেমিয়া বা অস্থিমজ্জার ক্যানসার। আপনার চিকিৎসক ভাইরাস, হরমোন ও অন্যান্য পদার্থ নির্ণয় করতেও রক্ত পরীক্ষার অর্ডার করতে পারেন। এ প্রতিবেদনে রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়ে এমন ৯ বিষয় আলোচনা করা হলো।

গর্ভধারণের অবস্থা: গর্ভাবস্থার অন্যতম লক্ষণ হচ্ছে পিরিয়ড মিস হওয়া। পিরিয়ড মিস হওয়ার পর একটি মূত্র পরীক্ষা প্রেগন্যান্সি হরমোন (এইচসিজি) শনাক্ত করতে পারে। কিন্তু একটি রক্ত পরীক্ষা নিম্ন মাত্রার এইচসিজি শনাক্ত করতে পারে, যার ফলে একজন নারী পিরিয়ড মিস হওয়ার পূর্বেই গর্ভবতী হয়েছে কিনা জানতে পারবেন, বলেন স্কারসডেল মেডিক্যাল গ্রুপের ফ্যামিলি মেডিসিন ফিজিশিয়ান ডেবোরাহ-নানজিয়াটো ঘোবাশি।

গর্ভধারণের ক্ষমতা: একটি রক্ত পরীক্ষা থেকে নারীরা গর্ভধারণ করতে পারবেন কিনা তা জানতে পারেন, বলেন ডা. নানজিয়াটো-ঘোবাশি। তিনি আরো জানান, ‘একজন নারীর রক্ত পরীক্ষা তার ডিম্ব কোষের বয়স বলতে পারে, যার ওপর ভিত্তি করে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কতটুকু তা ধারণা করা যায়।’

জৈবিক বয়স: আপনার জন্ম তারিখ আপনার ক্রনোলজিক্যাল এজ বা কালানুক্রমিক বয়সের কথা বলে, কিছু বংশগত ও জীবনযাপন সংক্রান্ত ফ্যাক্টর আপনার বায়োলজিক্যাল এজ বা জৈবিক বয়স কমাতে পারে অথবা বাড়াতে পারে। প্রচুর পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার খেয়েছেন, নিয়মিত শরীরচর্চা করেছেন ও ধূমপানের মতো বদভ্যাস থেকে বিরত থেকেছেন এমন ৬০ বছর বয়সি সুস্থ মানুষের জৈবিক বয়স ৫০ হতে পারে। একটি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে একজন মানুষের কোষের বয়স বা জৈবিক বয়স সম্পর্কে জানা যায়, বলেন ডা. নানজিয়াটো-ঘোবাশি। আপনার কালানুক্রমিক বয়সের চেয়ে জৈবিক বয়স বেশি হলে লাইফস্টাইলে ব্যাপক পরিবর্তন এনে এ ব্যবধান কমাতে পারেন।

বিষণ্নতা বা উদ্বিগ্নতা : শুধুমাত্র রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা শনাক্ত করা যায় না, কিন্তু এর সঙ্গে ক্লিনিক্যাল মূল্যায়ন যুক্ত হলে একজন মানুষের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে জানা যেতে পারে। মেজাজকে নিয়ন্ত্রণ করে এমন কিছু মেজর নিউরোট্রান্সমিটার রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে চেক করা যায়, বলেন ডা. নানজিয়াটো-ঘোবাশি। মেজাজকে নিয়ন্ত্রণকারী একটি নিউরোট্রান্সমিটার হচ্ছে সেরোটোনিন, যা অণুচক্রিকা ও পরিপাকতন্ত্রে পাওয়া যায়। সেরোটোনিনের নিম্নমাত্রা বিষণ্নতা বা উদ্বিগ্নতার লক্ষণ হতে পারে।

স্মৃতিভ্রংশতার ঝুঁকি: একজন লোককে অ্যালঝেইমারস রোগ বা অন্য ধরনের স্মৃতিভ্রংশতায় ভুগতে হবে কিনা তা কিছু রিস্ক ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করে। একটি রক্ত পরীক্ষায় সেসব কেমিক্যালের উপস্থিতি ধরা পড়তে পারে যা স্মৃতিভ্রংশ রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। বিশেষ করে অ্যামাইলয়েড বিটা নামক প্রোটিনটি স্মৃতিভ্রংশতার ২০ বছর পূর্বে শনাক্ত হতে পারে। একটি পজিটিভ টেস্টের মানে এটা নয় যে আপনার অবশ্যই স্মৃতিভ্রংশ রোগ হবে, এর অর্থ এটা হতে পারে যে আপনার স্মৃতিভ্রংশতার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে, বলেন নানজিয়াটো-ঘোবাশি।

কনকাশন: মাথায় আঘাত লেগে মস্তিষ্কের কার্যক্রম সাময়িক বিঘ্ন হওয়াকে কনকাশন বলে। কেউ কনকাশনে ভুগছেন কিনা তা জানতে চিকিৎসকেরা নিউরোলজিক্যাল পরীক্ষা, ব্রেইন ইমেজিং ও ক্লোজ অবজারভেশন করতে পারেন, মায়ো ক্লিনিকের প্রতিবেদন অনুসারে। এক্ষেত্রে একটি রক্ত পরীক্ষাও সহায়ক হতে পারে: রক্ত পরীক্ষায় সিরাম ইলেক্ট্রোলাইটস বেড়েছে কিনা তা জানা যায়, যা কনকাশনের নির্দেশক হতে পারে, বলেন ডা. নানজিয়াটো-ঘোবাশি।

কিডনির অবস্থা: কঠোর পরিশ্রম বা শরীরচর্চার পর আপনার মাংসপেশি ক্রিয়েটিনাইন নিঃসরণ করে- আপনার রক্ত থেকে এ বর্জ্য পদার্থ কিডনি দ্বারা পরিস্রাবিত হয়। সঞ্চিত ক্রিয়েটিনাইনের মাত্রা নারীদের ক্ষেত্রে ১.২ ও পুরুষদের ক্ষেত্রে ১.৪ এর বেশি হলে তা কিডনিতে সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশন অনুযায়ী। এছাড়া বর্ধিত ব্লাড ইউরিয়া নাইট্রোজেন (বিইউএন) ও অতি নিম্ন গ্লোমেরুলার ফিল্ট্রেশন রেটও (জিএফআর) কিডনি সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এ তিনটি বিষয় একটি রক্ত পরীক্ষায় পরিমাপ করা যায়, যা প্রকৃত কারণটি বাহ্যিক (যেমন- পানিশূন্যতা) নাকি অভ্যন্তরীণ (যেমন- কিডনি পাথর) তাও বলতে পারে।

ডায়াবেটিস: এ১সি ব্লাড টেস্ট চিকিৎসককে আপনার দৈনিক গড় রক্ত শর্করার মাত্রা সম্পর্কে ধারণা দেবে এবং এটি ডায়াবেটিস শনাক্ত করতে সাহায্য করে। মাত্রা ৪ থেকে ৫.৬ এর মধ্যে থাকলে তা স্বাভাবিক, কিন্তু ৫.৭-৬.৪ প্রিডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিসের উচ্চ ঝুঁকি ও ৬.৫ বা এর বেশি হলে তা পূর্ণ বিকশিত ডায়াবেটিস নির্দেশ করে। ডা. নানজিয়াটো-ঘোবাশি বলেন, ‘এই পরীক্ষায় গত তিন মাসের গড় রক্ত শর্করা পরিমাপ করা হয়। কোনো একটা দিনের ব্লাড সুগার রিডিংয়ের চেয়ে এই পরীক্ষার ফলাফল বেশি নির্ভরযোগ্য। একারণে ডায়াবেটিসের চিকিৎসায়ও এটি সহায়ক হতে পারে।’

ভিটামিনের পরিমাণ: আপনার শরীরে কোনো ভিটামিনের ঘাটতি আছে কিনা তা জানা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভিটামিনের অভাবে আপনি বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগতে পারেন। অন্যদিকে ভিটামিনের ওভারডোজ হয়েছে কিনা সেটাও শনাক্ত করা প্রয়োজন, কারণ শরীরে অত্যধিক ভিটামিনের উপস্থিতিও বিপজ্জনক পরিণতির কারণ হতে পারে। একটি রক্ত পরীক্ষা শরীরে ভিটামিনের মাত্রা নির্ণয় করতে পারে। ডা. নানজিয়াটো-ঘোবাশি বলেন, ‘অধিকাংশ ভিটামিন পানিতে দ্রবণীয়। এর মানে হচ্ছে, প্রচুর পরিমাণে এসব ভিটামিন খেলেও বেশিদিন শরীরে থাকবে না। কিন্তু ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই এবং ভিটামিন কে চর্বিতে দ্রবণীয় বলে এগুলো শরীরে দীর্ঘসময় থেকে যায় ও ওভারডোজ হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।’ শরীরে ভিটামিনের ওভারডোজকে হাইপারভিটামিনোসিস বলে, যা নানারকম সমস্যায় ভোগাতে পারে, যেমন- বমিভাব ও লিভার ড্যামেজ।

পড়ুন : * জীবনরক্ষাকারী যেসব টেস্ট করানো উচিত

         * কোন বয়সে কোন পরীক্ষা করবেন?

        * চিকিৎসকের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্টের পূর্বে যা করা উচিত নয়




ঢাকা/ফিরোজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন