ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

হলুদ কেন খাবেন, কতটুকু খাবেন?

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০১-১৭ ৮:১৭:৪৭ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০১-১৭ ৯:১৯:৫৬ এএম

হলুদ রান্নায় ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে আপনি চা, কফি, প্রোটিন বার ও সাপ্লিমেন্টের উপাদান হিসেবেও হলুদের ব্যবহার লক্ষ্য করে থাকবেন। দিনদিন হলুদের জনপ্রিয়তা বাড়ার কারণ- গবেষণায় হলুদের ইতিবাচক প্রভাব।

গবেষণা বলছে, হলুদ ব্যবহারে প্রদাহরোধী উপকার পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু শরীর থেকে প্রদাহ বা ব্যথা কমাতে কতটুকু হলুদ ব্যবহার করা উচিত? বিশেষজ্ঞদের মতে, হলুদ ব্যবহারের সর্বোত্তম ও নিরাপদ পরিমাণ নির্ভর করে কিছু বিষয়ের ওপর।

প্রথমত, হলুদ গ্রহণের ভিন্ন কিছু উপায় রয়েছে। হলুদের গুঁড়া, হলুদের নির্যাস ও কারকামিন সাপ্লিমেন্ট হচ্ছে হলুদের প্রচলিত ব্যবহার। কারকামিন হলো হলুদের প্রধান সক্রিয় উপাদান যা হলুদকে প্রদাহনাশক ক্ষমতা দিয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ফুড ইনফরমেশন কাউন্সিল ফাউন্ডেশনের পুষ্টি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আলি ওয়েবস্টার এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ‘হলুদের নির্যাস ও কারকামিন সাপ্লিমেন্টে বেশি মাত্রায় কারকামিন থাকে। ব্যথা কমাতে শুকনো হলুদের চেয়ে এগুলো বেশি কার্যকরী।’

আরেকটি বিষয় হলো, একজন ব্যক্তি নিয়মিত টারমারিক সাপ্লিমেন্ট অথবা কারকামিন সাপ্লিমেন্ট সেবন না করলে রান্নায় হলুদের ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য ব্যথা প্রশমনের মতো উপকার পাবেন না। আমেরিকার আর্থ্রাইটিস ফাউন্ডেশন প্রদাহ বা ব্যথা কমাতে প্রতিদিন তিনটি করে ৪০০ থেকে ৬০০ মিলিগ্রাম টারমারিক ক্যাপসুল অথবা অর্ধ থেকে তিন গ্রাম হলুদের গুঁড়া ব্যবহার করতে পরামর্শ দিচ্ছে। জার্নাল অব মেডিসিনাল ফুডে প্রকাশিত গবেষণা মতে, আর্থ্রাইটিস বা বাতের রোগীরা প্রতিদিন এক গ্রাম কারকামিন খেয়ে উপকার পেতে পারেন।

তবে স্মরণে রাখা ভালো যে, শরীর হলুদ ভালোভাবে শোষণ করতে পারে না। এ কারণে হলুদের সঙ্গে গোল মরিচ ও অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। সাধারণত রান্নায় যে পরিমাণ হলুদ ব্যবহার করা হয় তা নিরাপদ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে না। কিন্তু অত্যধিক পরিমাণে হলুদ খেলে পেটে অস্বস্তিকর অনুভূতি, মাথাঘোরা, বমিভাব ও ডায়রিয়া হতে পারে।

কিছু রক্ত তরলকারী ওষুধ রয়েছে। ভুলেও এই ওষুধের সঙ্গে হলুদ খাবেন না। তাহলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যাবে। তবে প্রদাহজনিত সমস্যা থাকলে প্রতিদিনকার রেসিপিতে এখন থেকে হলুদের গুঁড়া আরেকটু বাড়িয়ে নিতে পারেন। তবে এর আগে অবশ্যই পরিমাণ চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিতে ভুলবেন না।


ঢাকা/ফিরোজ/তারা

     
 
রাইজিংবিডি স্পেশাল ভিডিও