ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ আষাঢ় ১৪২৭, ০৩ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

যে কারণে ধূমপায়ীদের গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৬-০৪ ১২:০৩:৪৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৬-০৫ ৫:২৪:২১ পিএম

নভেল করোনাভাইরাসের মাধ্যমে সৃষ্ট কোভিড-১৯ রোগে মারাত্মক পরিণতির ঝুঁকি সকলের ক্ষেত্রে সমান নয়। যাদের ইমিউন সিস্টেম খুবই শক্তিশালী তারা হালকা উপসর্গে ভুগে সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু কিছু গ্রুপের মানুষদের এ সংক্রমণ থেকে মারাত্মক জটিলতার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। তেমন একটি গ্রুপ হচ্ছে ধূমপায়ী। তাই আপনি ধূমপায়ী হলে এসময় নতুন করোনাভাইসের সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে অতিরিক্ত সতর্কতা দরকার।

যে কারণে ধূমপায়ীদের নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি

যখন কেউ ধূমপান অথবা ভেপিং (ইলেকট্রিক সিগারেট ব্যবহার) করেন, তখন তার আঙুল ঠোঁটের সংস্পর্শে আসে। এর ফলে হাত থেকে মুখে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি বেড়ে যায়। যিনি ওয়াটার পাইপের মতো ধূমপান সামগ্রী ব্যবহার করেন, তিনি এর মাউথপিস বা হোস অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করলে নতুন করোনাভাইসে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। ধূমপান ও ই-সিগারেটের ব্যবহারে ফুসফুসের সিলিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সিলিয়া হচ্ছে অতিক্ষুদ্র চুলের মতো গঠন যা ভাইরাস ও অনাকাঙ্ক্ষিত পদার্থ থেকে শ্বাসনালীকে রক্ষা করে। এটি হচ্ছে শ্বাসতন্ত্রীয়  সংক্রমণের বিপক্ষে শরীরের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা প্রক্রিয়া। কিন্তু সিলিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফুসফুসে ভাইরাসের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু সহজে ঢুকে পড়তে পারে।

যে কারণে ধূমপায়ীদের নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণে বিপজ্জনক জটিলতার ঝুঁকি বেশি

যিনি অনেকদিন ধরে ধূমপান করে আসছেন তার ফুসফুসে ইতোমধ্যে সমস্যা বা রোগ তৈরি হয়েছে। আপনার ক্ষেত্রেও এমনটা হয়ে থাকলে কোভিড-১৯ জনিত মারাত্মক অসুস্থতার ঝুঁকিতে থাকবেন। এর কারণ হলো, সংক্রমণ সৃষ্টিকারী নতুন করোনাভাইরাসটি ফুসফুসকে আক্রমণ করে। এটা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই যে দুর্বল কিছুকে আক্রমণ করে বিপর্যস্ত করা কতই না সহজ।

গবেষণায় দেখা গেছে, যখন ধূমপায়ীদের ফুসফুস ফ্লু অথবা অন্যান্য সংক্রমণের সংস্পর্শে আসে তখন তারা অধূমপায়ীদের চেয়ে বেশি অসুস্থ হন। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুস পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে না অথবা এটিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না।

ধূমপায়ীদের নিউমোনিয়ার মতো ফুসফুসে মারাত্মক সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাদের অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিন্ড্রোমেরও উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিন্ড্রোমে ফুসফুসের অতিক্ষুদ্র বায়ুথলিতে তরল জমে যায়। এর মানে হলো, এসব ফুসফুস যথেষ্ট বায়ু দিয়ে পূর্ণ হতে পারে না। এর ফলে রক্তপ্রবাহ ও বিভিন্ন অঙ্গে অক্সিজেনের যোগান কমে যায়। অক্সিজেনের অভাবে অর্গান ড্যামেজ অথবা এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

চীনের একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে, যেসব কোভিড-১৯ রোগীদের ধূমপানের ইতিহাস ছিল তাদের নিউমোনিয়ার অবস্থা অন্যদের তুলনায় ১৪ গুণ বেশি শোচনীয় হয়েছিল। যারা ধূমপানে অভ্যস্ত তাদের ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজের (সিওপিডি) ঝুঁকিও বেশি। ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী এ জটিল রোগে শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা হয়। যাদের সিওপিডি রয়েছে তারাও কোভিড-১৯ জনিত বিপজ্জনক পরিণতিতে ভুগতে পারেন।

ই-সিগারেট অথবা অন্যান্য ভেপিং ডিভাইস ব্যবহারে কোভিড-১৯ জনিত মারাত্মক অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি কেন তা এখনো স্পষ্ট নয়। গবেষণা সাজেস্ট করছে যে ই-সিগারেটের ধোঁয়া ফুসফুসের কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার ফলে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করা কঠিন হয়ে পড়ে।

কিছু ছোট গবেষণা বলছে যে ভেপিং করলে ইমিউন সিস্টেমের কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। আরেকটি গবেষণায় পাওয়া গেছে, ই-সিগারেট নাকের ইমিউন কোষকে দমিয়ে রাখতে পারে।

যেভাবে ঝুঁকি কমাবেন

কোভিড-১৯ সংক্রান্ত দুশ্চিন্তা কমাতে ধূমপান ও ভেপিং বর্জনের চেষ্টা করুন। সক্রিয় ধূমপানকারী ও ই-সিগারেট ব্যবহারকারী উভয়েই এ ভাইরাস জনিত স্বাস্থ্য সমস্যার বর্ধিত ঝুঁকিতে রয়েছেন। অনেক ধূমপায়ী মনে করেন যে এতদিন ধরে ধূমপান করে আসার পর এখন অভ্যাসটি ছেড়ে দিলে এমন কি উপকার হবে। এ ধারণাটি আসলে ভুল। সত্য হচ্ছে, ধূমপান পরিহারের পর ফুসফুসে নিরাময় প্রক্রিয়া চলতে থাকে। তাই যারা দীর্ঘসময় ধরে সিগারেট ফুঁকে আসছেন, তাদের পুরোপুরি হতাশ হওয়ার কারণ নেই। তারা এ মুহূর্তে ধূমপান ছেড়ে দিলেও উপকার হবে অথবা স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি কমে যাবে। অনেক ধূমপায়ী জানিয়েছেন, ধূমপান ছেড়ে দেয়ার কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যে কাশি ও শ্বাসকষ্ট কমে গেছে। ধূমপান বর্জনের পর সিলিয়া পুনরায় দ্রুত বৃদ্ধি ও নিরাময় পেতে থাকে। সিলিয়া সুস্থ থাকলে শ্বাসতন্ত্রীয় সংক্রমণ প্রতিহত করা সহজ হয়।

 

ঢাকা/ফিরোজ