ঢাকা     শুক্রবার   ১৪ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ৩০ ১৪২৭ ||  ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

করোনায় রক্ত জমাট: মৃত্যুঝুঁকি কমাবে যেসব খাবার

এস এম গল্প ইকবাল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৫৩, ১৫ জুলাই ২০২০  
করোনায় রক্ত জমাট: মৃত্যুঝুঁকি কমাবে যেসব খাবার

শরীরে সঠিকভাবে রক্ত চলাচলের ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশসমূহ দরকারি পুষ্টি ও অক্সিজেন থেকে বঞ্চিত হতে পারে। এর ফলে মারাত্মক জটিলতায় ভুগতে হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, হার্ট ও ব্রেইন প্রয়োজনীয় অক্সিজেন না পেলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কিছু রোগীর শরীরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াতে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন।

কোভিড-১৯ রোগীরা ডায়েটে মনোযোগ দিয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে পারেন, কারণ এমনকিছু খাবার রয়েছে যা রক্ত চলাচল সর্বোচ্চ করে ও রক্তের জমাট প্রবণতা প্রতিরোধ করে। এর পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পানি পান, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ধূমপান বর্জন করতে হবে। এখানে রক্ত চলাচল বাড়াতে পারে এমনকিছু খাবার দেয়া হলো।

লাল মরিচের গুঁড়া: উজ্জ্বল লাল মরিচের গুঁড়া শুধু খাবারকে সুস্বাদু করে না, ধমনীকে ভালোভাবে কাজ করতেও সহায়তা করে। একাজে মূল অবদান রাখে ক্যাপসাইসিন নামক রাসায়নিক উপাদান। ক্যাপসাইসিন রক্তনালীর মাংসপেশিকেও শিথিল করে, যার ফলে রক্ত সহজেই চলাচল করতে পারে। এটা রক্তচাপের জন্য ভালো।

বিট: বিট হলো একটি রুট ভেজিটেবল, যেখানে প্রচুর নাইট্রেট রয়েছে। শরীর নাইট্রেটকে নাইট্রিক অক্সাইডে রূপান্তর করে। নাইট্রিক অক্সাইড রক্তনালীকে শিথিল হতে সহায়তা করে ও টিস্যু-অর্গানে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে। গবেষকরা দেখেছেন, বিটের শরবত সিস্টোলিক রক্তচাপ (রক্তচাপ পরিমাপের প্রথম সংখ্যা) কমাতে পারে।

বেরি: বেরিতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট পাওয়া যায়। বিশেষ করে বেরির অ্যান্থোসায়ানিন রক্তনালীর জন্য উপকারী। অ্যান্থোসায়ানিন ফলকে লাল ও পার্পল রঙে রাঙিয়ে থাকে। এই রঞ্জক পদার্থ ধমনীর প্রাচীরকে ক্ষতিগ্রস্ত ও শক্ত হতে দেয় না। এছাড়া অ্যান্থোসায়ানিন নাইট্রিক অক্সাইডের নিঃসরণ বৃদ্ধি করে, যা রক্তচাপ কমিয়ে থাকে।

তৈলাক্ত মাছ: আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে তৈলাক্ত মাছ কেন হার্টের জন্য ভালো। এর কারণ হলো, তৈলাক্ত মাছে যে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে তা রক্ত চলাচল ঠিক রাখতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, তৈলাক্ত মাছ রক্তচাপ কমানোর পাশাপাশি ধমনীকে পরিষ্কারও রাখে। ফলে রক্ত জমাট বাঁধে না।

ডালিম: ডালিমের ভেতর যে রসালো লাল দানা রয়েছে, তাতে প্রচুর পুষ্টি রয়েছে, বিশেষ করে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও নাইট্রেট। এগুলো রক্ত চলাচল বাড়াতে পারে, রক্তনালীকে প্রসারিত করতে পারে ও রক্তচাপ কমাতে পারে। এর মানে হলো, মাংসপেশি ও টিস্যুতে বেশি করে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছতে পারে। ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায়।

রসুন: রসুনে অ্যালিসিন নামক যে সালফার কম্পাউন্ড থাকে তা রক্তনালীকে শিথিল রাখতে সহায়তা করে। গবেষকদের মতে, নিয়মিত রসুন খেলে সারা শরীরে রক্ত পাঠাতে হার্টকে কঠোর শ্রম দিতে হয় না। এর ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে।

আখরোট: রক্ত চলাচল বাড়াতে বাদামও খেতে পারেন, বিশেষ করে আখরোট বাদাম। বাদামে প্রচুর আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড থাকে, যা একপ্রকারের ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এই ফ্যাট ঠিকঠাকভাবে রক্ত চলাচলে সাহায্য করে।

আঙুর: আঙুর খেলে ধমনীগুলো সুস্থ থাকে ও রক্ত চলাচল বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, আঙুরের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট রক্তনালীকে শিথিল হতে উদ্দীপ্ত করে ও ভালোভাবে কাজ করতে সহায়তা দেয়। এছাড়া আঙুর প্রদাহ সৃষ্টিকারী পদার্থ ও রক্তকে আঠালো করে তোলে এমন মলিকিউল দূর করতে পারে।

* হলুদ: এই সোনালি হলুদ রঙের মসলাটি বেশি পরিচিত এতে বিদ্যমান প্রদাহনাশক কারকুমিনের কারণে। গবেষণা বলছে, কারকুমিন নাইট্রিক অক্সাইডের উৎপাদন বাড়াতে পারে, যা রক্তনালীগুলোকে প্রশস্ত হতে সহায়তা করে। এর ফলে রক্ত চলাচল আরো সহজ হয় ও পেশি-টিস্যুতে সহজেই প্রয়োজনীয় পুষ্টি বা অক্সিজেন পৌঁছতে পারে।

পালংশাক: পালংশাকের মতো নাইট্রেট সমৃদ্ধ খাবার রক্ত চলাচল বাড়াতে পারে। নাইট্রেট রক্তনালীকে প্রশস্ত করে, যার ফলে আরো স্বচ্ছন্দভাবে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে।

সাইট্রাস ফল: ডায়েটে সাইট্রাইস ফল সংযোজনের কারণ শুধুমাত্র ভিটামিন সি নয়। এসব ফলের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট প্রদাহ কমাতে পারে, রক্ত জমাটবদ্ধতা প্রতিরোধ করতে পারে ও রক্ত চলাচল বাড়াতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কমলার রস খাওয়াতে রক্তচাপ কমেছে।

তথ্যসূত্র: ওয়েব এমডি

 

ঢাকা/ফিরোজ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়