RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ৮ ১৪২৭ ||  ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মৃত্যুঝুঁকি বেশি বাজে খাদ্যাভ্যাসে

নিউজ ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:১০, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
মৃত্যুঝুঁকি বেশি বাজে খাদ্যাভ্যাসে

সুস্থ থাকা বা সুস্থভাবে জীবন-যাপন করা অত্যন্ত জরুরি। আমরা কেউই অসুস্থ হতে চাই না। কারণ অসুস্থতা মানেই নানা ঝামেলা- ডাক্তার, ওষুধ। সেসঙ্গে খরচের ব্যাপারতো আছেই। যে কোনো কাজ নিয়ম মেনে করলে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। তা না হলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তেমনি দৈনন্দিন খাদ্যগ্রহণও করা উচিত নিয়ম মেনে। এক্ষেত্রে শৃঙ্খলা না থাকলে ঘটে বিপত্তি। প্রয়োজনীয় খাবারের চেয়ে অপ্রয়োজনীয় খবার বেশি গ্রহণ করায় গুরুতর অসুস্থ এমনকি মৃত্যুও ঘটছে।

নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে বিশ্বে প্রতি পাঁচজনের একজন মারা যাচ্ছে বাজে খাদ্যাভ্যাসের কারণে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে ৩০০ জনের বেশি মারা যাচ্ছে। মাত্রাতিরিক্ত মাংস, লবণ ও চিনি গ্রহণই এর বড় কারণ। বিশ্বে মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার কম খাচ্ছে। বেশি গ্রহণ করছে ক্ষতিকর খাবার।

বিখ্যাত স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, ধূমপান থেকে শুরু করে অন্য যেকোনো ঝুঁকির চেয়ে খাদ্যাভ্যাসের কারণে বিশ্বে বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে উজবেকিস্তান। ইসরায়েল সবচেয়ে কম ঝুঁকিতে আছে ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষ প্রয়োজনীয় খাবারের তুলনায় অপ্রয়োজনীয় খাবার খাচ্ছে বেশি। সহনীয় মাত্রার চেয়েও গড়ে ১০ গুণ বেশি পান করছে মিষ্টিজাতীয় পানীয়। নিরাপদ মাত্রার চেয়ে প্রতিদিন গড়ে ৮৬ শতাংশ লবণ বেশি খাচ্ছে। স্বাভাবিকের চেয়ে ১৮ শতাংশ বেশি খাচ্ছে লাল মাংস। বেশির ভাগ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় নেই শস্যদানা, ফল, বাদাম বা বীজজাতীয় স্বাস্থ্যকর খাবার। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বৈষম্যও একটি বড় কারণ। দরিদ্র মানুষ গড়ে পাঁচ দিনে এক দিনও ফল বা সবজি থাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না।

গবেষকরা বলছেন, বিশ্বে বছরে ১ কোটি ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে শুধু খাদ্যাভ্যাসের কারণে। এর মধ্যে এক কোটি মানুষই মারা যায় হৃদরোগজনিত কারণে। এ ধরনের সমস্যা তৈরি হয় খাবারে অতিরিক্ত লবণ থেকে। কেননা অতিরিক্ত লবণ রক্তচাপ বৃদ্ধি করে- যা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। লবণ হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পক্ষান্তরে সবজি, শস্যদানা কিংবা বীজজাতীয় খাবার হৃদেরাগজনিত সমস্যার ঝুঁকি কমায়।
 


এছাড়া খাদ্যাভ্যাসজনিত কারণে অন্য যেসব রোগে মৃত্যু হয় তার মধ্যে অন্যতম ক্যান্সার ও টাইপ টু ডায়াবেটিস। গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৭ থেকে ৩৪ বছর বয়সের ২৬ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয় টাইপ টু ডায়াবেটিসে। এর বাইরে আছে হৃদেরাগে মৃত্যুঝুঁকি। বয়স্করা বেশি ভোগে  এতে। ৪৯ দশমিক ১ থেকে ৫৭ দশমিক ৪ বছর বয়সের ৫৩ শতাংশের বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে এই কারণে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফল কম খাওয়ার কারণে বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে বেশি মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ২০১৭ সালে খাদ্যাভ্যাসজনিত কারণে যেসব দেশে প্রতি লাখে ৩১৩-৩৯৭ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে  বাংলাদেশের নাম রয়েছে। এ তালিকায় ভারত, চীন ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশেরও নাম আছে।

গবেষণা প্রতিবেদনের লেখক ও ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন’ -এর পরিচালক ক্রিস্টোফার মারে বলেন, ‘নিম্নমানের খাবার মানুষের জন্য অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বড় মৃত্যুঝুঁকি তৈরি করছে। এর আগে এমন কথা বলা হলেও এবার গবেষণার মাধ্যমে তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের মূল্যায়ন হচ্ছে- সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণ স্বাস্থ্যকর খাবার কম গ্রহণ এবং বেশি বেশি সোডিয়াম (লবণ) গ্রহণ।’

বস্তুত: সুস্থভাবে বাঁচতে এবং মৃত্যুঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞরা খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের তাগিদ দিয়ে আসছেন অনেক দিন ধরেই৷ এর আগে ল্যানসেটের একটি প্রতিবেদনে লাল মাংস ও চিনি খাওয়ার গড় পরিমাণ অর্ধেক কমিয়ে দেয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা সবজি, ফল, এবং বাদাম জাতীয় খাবার দ্বিগুন গ্রহণ করার কথা বলেন৷

 

ঢাকা/এনএ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়