RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ৮ ১৪২৭ ||  ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

করোনা আক্রান্ত রোগীর রক্ত গ্রহণ কি নিরাপদ?

মুছা মল্লিক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৬:৩৫, ১৩ মার্চ ২০২০   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
করোনা আক্রান্ত রোগীর রক্ত গ্রহণ কি নিরাপদ?

করোনা ভাইরাস নিয়ে বিশ্বব্যাপী এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের মাঝে বাসা বাঁধছে নানা সংশয়। কি হবে, কি হবেনা— বিভ্রান্তিতে সবাই। দ্রুত প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়ায় সংশয়ের মাত্রা আরো বেড়েছে।

করোনা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন জাগছে। এর মধ্যে একটি— করোনা আক্রান্ত রোগীর রক্ত গ্রহণ কি নিরাপদ? এ বিষয়ে রাইজিংবিডির প্রতিনিধি মুছা মল্লিকের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক, মেডিসিন, রক্তরোগ ও ব্লাড ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মাদ ওয়াসিম।

রাইজিংবিডি: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর রক্ত গ্রহণ করলে গ্রহীতার শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশের সম্ভাবনা কতটুকু?

ডা. মোহাম্মাদ ওয়াসিম: করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায় এবং zoonotic virus (যা প্রাণীর মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে)। সমজাতীয় হওয়ায় রক্তের সাথে এই ভাইরাসের সম্পর্ক খুবই কম এবং দীর্ঘস্থায়ী নয়। যেহেতু করোনা কোনো রক্তবাহী ভাইরাস নয় তাই একজন করোনা আক্রান্ত রোগীর রক্ত গ্রহণে বিশেষ কোনো ঝুঁকি নেই। তবে মানসিক প্রশান্তির জন্য করোনা আক্রান্ত রোগীর রক্ত গ্রহণ না করাই শ্রেয়।

রাইজিংবিডি: রক্ত গ্রহণের পর গ্রহীতা যদি জানতে পারেন ডোনার করোনায় আক্রান্ত ছিলেন, এক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন আছে কি?

ডা. মোহাম্মাদ ওয়াসিম:  তেমন কোনো সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন নেই। তবে কোয়ারেন্টাইন পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন। এ পদ্ধতিতে একজন রোগীকে ১৪ দিনের জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

রাইজিংবিডি: করোনায় আক্রান্ত রোগী এবং রক্ত সম্পর্কিত পরিসংখ্যান সম্পর্কে জানতে চাই?

ডা. মোহাম্মাদ ওয়াসিম: রক্তের মাধ্যমে করোনা ছড়ানোর  সম্ভাবনা মাত্র ৫ শতাংশ। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের মোট আক্রান্তের ৮০ শতাংশের মধ্যে সংক্রমণ তেমন গুরুতর নয়। ডাটা অনুসারে, করোনায় যারা মারা গিয়েছে, তাদের ৫০ ভাগের বয়স ৭০ বছরের উর্ধ্বে। আর ৩০ শতাংশের বয়স ৬০-৬৯ এর মধ্যে। অর্থাৎ, ৮০ শতাংশ মানুষ যারা মারা গেছেন, তাদের গড় বয়স ৬০-৭০ এর উর্ধ্বে।  করোনা আক্রান্ত ৭০ হাজার মানুষের ওপরে একটা স্ট্যাডি হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে ৮১ শতাংশ মানুষের সর্দি-কাশি হচ্ছে করোনার ফলে, আবার সেরেও যাচ্ছে। সুতরাং, বিশ্বাস রাখুন, আপনার-আমার যদি করোনা হয়েও থাকে, সাধারণ জ্বর-সর্দির মতো তা আবার সেরেও যাবে।

রাইজিংবিডি: কি কি লক্ষণ দেখা দিলে একজন রোগী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে বিবেচিত হবেন?

ডা. মোহাম্মাদ ওয়াসিম: করোনার লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথা, গলা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মতো। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।

রাইজিংবিডি: আপনাকে ধন্যবাদ।

ডা. মোহাম্মাদ ওয়াসিম: রাইজিংবিডিকেও ধন্যবাদ।

 

ঢাকা/মারুফ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়