RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৭ ||  ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২

কোরবানির ঈদে স্বাস্থ্য সমস্যার ৭ কারণ

দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:১৪, ৩১ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১০:৫৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
কোরবানির ঈদে স্বাস্থ্য সমস্যার ৭ কারণ

কোরবানির ঈদে গরু বা খাসির মাংস পাতে পড়বে- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে গোগ্রাসে খেতে হবে? না, খেতে হবে রয়ে-সয়ে। অতিরিক্ত মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যজনিত বিভিন্ন সমস্যার কারণ হতে পারে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হলো, লাল মাংস। অর্থাৎ গরু বা খাসির মাংস বেশি খেলে কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ায় হৃদরোগের সমস্যা হতে পারে। 

এমনকি এই উৎসবে ডায়াবেটিক এবং উচ্চ রক্তচাপের রোগীরাও খাবারের প্লেটে লাল মাংসের টুকরো তুলে নেন। এছাড়া ঈদে মসলাদার এবং তৈলাক্ত খাবার বেশি রান্না করা হয়। অনেকে মাংসের সঙ্গে রুটি বা ভাত খান না। শাকসবজি ও সালাদ ছাড়া শুধু মাংস খেতে পছন্দ করেন। ফলে ডায়েটে পুষ্টির ভারসাম্য উপেক্ষিত হয়। দেখা দেয় নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা। কোরবানির ঈদে স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় এমন সাতটি খাদ্যাভ্যাস নিয়ে আলোচনা করা হলো।

অত্যধিক লাল মাংস: সবজির তুলনায় মাংস হজম করা কঠিন। কোরবানির ঈদে মানুষ বেশি মাংস খায়। বিশেষ করে লাল মাংস। এটি শরীরে রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। বেশি পরিমাণে মাংস খাওয়ার ফলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। সুতরাং মাংস যদি খেতেই হয়, পরিমিত খান। সঙ্গে সাদা ভাত এবং সালাদ পাতে রাখুন।

শাকসবজি ও ফল কম খাওয়া: অনেকে শাকসবজি এবং ফল উপেক্ষা করে উৎসবে শুধু মাংস খান। শাকসবজি ও ফলের গুরুত্ব সবারই জানা। হজমে সহায়তা করে এসব খাবার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। সুতরাং এ ক’দিন সবজি বা ফল খেতে ভুলবেন না। 

রুটিন মেনে  না চলা: ঈদের মতো উৎসবে অনেকে কোনো রুটিন মানতে চান না। এমনকি অনেক অসুস্থ মানুষও এ সময় শরীরের যত্ন নিতে ভুলে যান বা গাফিলতি করেন। অনেকে অপরিমিত আহার করেন। যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। রুটিন অনুযায়ী খাবার না খেলে তা হজম করতে শরীরকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। চর্বি সঠিকভাবে বিপাক করতে পারে না শরীরের প্রধান শক্তিঘর লিভার। ফলে দেখা দেয় কোলেস্টেরলের উচ্চ মাত্রা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের অবনতি।

কোমল পানীয়: ঈদে হাই প্রোটিন ডায়েট হজম করার জন্য মানুষ কোমল পানীয় বেশি পান করে। যার পরিণতি মারাত্মক হতে পারে। কোমল পানীয়তে বিদ্যমান উচ্চ মাত্রার চিনি স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে থাকে।

মসলাদার খাবার: ঈদে মুখরোচক মসলাদার খাবার মানুষ বেশি রান্না করে। খাবারে লবণ এবং অধিক মসলা রক্তচাপের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এজন্য কম মসলা দিয়ে মাংস রান্না করা উচিত।

হাঁটার জন্য সময় না থাকা: ঈদ উদযাপনে ব্যস্ত সময় পার করায় ব্যায়াম বা হাঁটার সময় থাকে না। অথচ খাওয়া হয়ে যায় বেশি। এ কারণেও শরীরে রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। হাঁটলে আপনার পাকস্থলী মাংস সঠিকভাবে হজম করতে পারবে। এটি হৃদরোগের বিপজ্জনক ঝুঁকিও হ্রাস করবে। 

রান্নার তেল হিসেবে পশুর চর্বি ব্যবহার: পশুর চর্বি অস্বাস্থ্যকর। রান্নার তেল হিসেবে গরুর চর্বি ব্যবহার করা হলে তা শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। রান্না করার জন্য উদ্ভিজ্জ তেল ব্যবহার করা উচিত।

সবকিছুই অতিরিক্ত স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। উৎসবে আপনার ডায়েটে শাকসবজি এবং সালাদ রাখুন। আপনার প্লেটে কম তেল ও কম মসলায় রান্না করা খাবার যোগ করুন। সেদ্ধ মাংসজাতীয় খাবার তৈরির চেষ্টা করুন। মাংস খাওয়ার পরে গ্রিন টি পান করুন। 

ঢাকা/তারা

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়